বিলিভ ইট অর নট


মাঠে না থেকেও নির্বাচিত!

প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে এক দিন বা এক মুহুর্তও নির্বাচনী গণসংযোগ বা প্রচার প্রচারণা না করেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হবার ঘটনা একেবারেই বিরল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, নির্বাচনী মাঠে পুরোপুরি অনুপস্থিত থেকেও সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (পিযুশ)! এর আগে গত ২০০৪ সালে তিনি মাছ প্রতীক নিয়ে একই ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মাঠে না থেকেও নির্বাচিত হবার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার অনুষ্ঠিত শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ড থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নেন। তারা হলেন, খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ( প্রতীক উটপাখি ), মোঃ ইসমাঈল হোসেন ( প্রতীক ডালিম ), বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ বেলাল হোসেন ( প্রতীক পানির বোতল ), বেলাল হোসেন ( প্রতীক ব্লাকবোর্ড ), মোঃ মণিরুল ইসলাম ( প্রতীক পাঞ্জাবি ), মোঃ মাসুদ রানা ( প্রতীক গাজর ), মোঃ শামিম হোসেন ( প্রতীক টেবিল ল্যাম্প ) ও মোঃ হযরত আলী ( প্রতীক ব্রিজ )। এদের মধ্যে খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (পিযুশ) এলাকার দু’গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ১ ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত হত্যা মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে উট পাখি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪’শ ৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিন্দন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ বেলাল হোসেন পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ২’শ ৮৮ ভোট পেয়েছেন । প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের ৪টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৬ হাজার ৪’শ ৯৩ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩’শ ৮১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

এদিন মঙ্গলবার দুপুরে এ ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, ‘বর্তমান কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে তার সমর্থিত গোষ্ঠীর লোকজন গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, লুটপাট, রাহাজানীর রামরাজত্ব গড়ে তুলে নিরীহ মানুষদের ওপর অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। তারা এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের কোন পোস্টার টাঙাতে দেয়নি। এমনকি, খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকদের নির্বাচনী কোন প্রচার প্রচারণাও চালাতে দেয়নি। খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকেও ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টিতে তৎপর ছিলো। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বেলাল হোসেনকে জরিমানাও করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এসব ঘটনায় এলাকাবাসীর মনে জমাট তীব্র ক্ষোভ আর চরম অসন্তোষ ক্রমেই জনরোষে পরিণত হয়। বেলাল হোসেন ও তার সর্মথকদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ প্রাণভয়ে কেউ করতে না পারলেও ভোটের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেছে।’

এদিকে, সোমবার ওই ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শনকালে কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল হোসেনের পানির বোতল প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের ব্যাপক সমাগম পরিলক্ষিত হলেও খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (পিযুশ) এর উট পাখি প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের সেখানে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, নির্বাচনে অনুপস্থিত থেকেও বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (পিযুশ) সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ বিষয়ে জানান, ‘এলাকাবাসী তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করে জুলুমবাজ, অত্যাচারী আর নির্যাতনকারীদের পরাজিত করেছে। সত্যের বিজয় হয়েছে। এ বিজয় এলাকার নিরীহদের, সাধারণ জনগণের।’