ভূয়া নিবন্ধন সনদ নিয়েও প্রভাষক শরিফুল ইসলাম বহাল তবিয়তে : শাহজাদপুর বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহজাদপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক ও ছাত্রীর অনৈতিক বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের এক প্রভাষক দীর্ঘদিন জাল সনদে চাকরির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হলো। ভূয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে চাকরি নেয়ার বিষয়টি প্রমানিত হওয়া এবং ওই বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা থাকা সত্বেও প্রায় ১৬ মাস ধরে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কে এম শরিফুল ইসলাম। ভূয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল প্রমানিত হবার পরও দীর্ঘদিন ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ইতিপূর্বে প্রভাষক কে এম শরিফুল ইসলাম (মনি)’র বিরুদ্ধে জাল সনদ জমা দিয়ে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে প্রভাষক পদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ ( এনটিআরসিএ ) কর্তৃক ও সহকারী পরিচালক ( শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান ) মো: লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ( যাহার স্মারক নং- বেশিনিক/শি.শি/সনদ যাচাই (সকল)/৫০৯(অংশ-১)/২০১৫/২৬৬ ) বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়, যার অনুলিপি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও প্রদান করা হয়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ যেহেতু সনদধারী ব্যক্তি জাল/জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। সেহেতু উক্ত সনদধারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এবং গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে এনটিআরসিএ- কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ অনুলিপি প্রাপ্তির পর সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ০৩/০১/২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেন ( যাহার স্মারক নং- জেশিঅ/সিরাজ/২০১৬/২৫৩৯ )। উপরোক্ত নির্দেশনার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত প্রভাষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি অদ্যবধি বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘ আমি অল্পদিন হলো অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেছি। বিষয়টি অনেক পূর্বের। এতদিন ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেনো তা আমি অবগত নই।’ ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রেরিত পত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ পত্র প্রাপ্তির পর অভিযুক্ত প্রভাষক কে এম শরিফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিলো। কলেজ পরিচালনা পর্ষদে এডহক কমিটি থাকায় তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।’ এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পত্র প্রাপ্তির পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রভাষক কেএম শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছে।