মীমকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার দাবী স্বজনদের


ভালোবাসার সুখের নীড় গড়তে গিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রাণ হারালো শাহজাদপুরের মীম

শামছুর রহমান শিশির : প্রেমের টানে প্রেমিকার হাত ধরে ভালোবাসার সুখের নীড় গড়তে গিয়ে ৬ বছর পর অবশেষে স্বামীর বাড়ি থেকে নাশ হয়ে ফিরতে হলো শাহজাদপুর পৌর এলাকার ইসলামপুর (রামবাড়ী) মহল্লার চাঁন মিয়ার মেয়ে ২ সন্তানের জননী মীম খাতুন (২৪) কে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মীমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের বেদনাদায়ক এ ঘটনাটি ঘটেছে নিহতের শ্বশুর বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার পাইকপাড়া মহল্লার রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে। খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধু মীমের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, ‘অমানবিকভাবে নির্যাতনপূর্বক পরিকল্পিতভাবে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন গলায় ওড়না পেচিয়ে মীমকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। এমনকি মীমের মৃত্যু খবর আমাদের না জানিয়েই সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে। কয়েক ঘন্টা পর জনৈক এক প্রতিবেশীর মোবাইল ফোনে আমরা মীমের মৃত্যু সংবাদ জানতে পারি।’
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা গেছে, ‘প্রায় ৬ বছর পূর্বে সাথিয়া উপজেলার পাইকপাড়া মহল্লার রাজ্জাক মোল্লার ছেলে সিরাজুল মোল্লা (২৮)’র সাথে মীম খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তানজিল (৪) ও তানভীর (১) নামের ২ শিশুপুত্র জন্ম নেয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মীমের অলস প্রকৃতির আরামপ্রিয় স্বামী সিরাজুল মোল্লা (২৮) কোন কাজ না করায় সংসারে প্রায়শই নানা অশান্তি লেগেই থাকতো। অকর্ম স্বামী সেরাজুল নিজের দোষ ঢাকতে সব দোষ অসহায় মীমের ওপর চাপিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মীমের ওপর অমানবিক ও শারীরীক নির্যাতন চালিয়ে আসলেও অসহায় গৃববধু মীম মুখ বুজে নীরবে সব অত্যাচার সহ্য করে আসছিলো। এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পাষন্ড স্বামী সিরাজুল, শ্বাশুড়ী, ননদ রাজিয়া, দেবর রিপন অসহায় গৃহবধু নীলাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে নীলা আত্মহত্যা করেছে মর্মে অপ্রপ্রচার চালিয়ে শ্বশুর বাড়ীর সবাই লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে নিহতের পিতা চাঁন মিয়া, মোঝো ভাই রাশিদুল ও ছোটভাই রাসেলসহ আত্মীয় স্বজনেরা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে আজ শুক্রবার বেলা ৩ টায় নিহতের লাশ শাহজাদপুরে এসে পৌঁছালে আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। এদিন বাদ মাগরিব বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত মীমের আত্মীয় স্বজনেরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে সুবিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নিহত মীমের লাশ উদ্ধারপূর্বক ময়নাতদন্ত কার্য সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

মন্তব্য