ভারতে লালারসের বদলে গার্গল করা পানি দিয়ে করোনা পরীক্ষা

ভারতের চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর বলছে, মানুষের গলায় গরগরা বা গার্গল করা পানি পরীক্ষা করেও তার করোনা সংক্রমণ হয়েছে কী না, তা জানা সম্ভব। আইসিএমআর তাদের প্রকাশনা ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিকাল রিসার্চ’-এ একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিবরণ প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গার্গল করা পানি করোনা পরীক্ষার নমুনা হিসাবে ব্যবহার শুরু হলে একদিকে যেমন পরীক্ষার খরচ কমবে অনেকটাই, আর অন্যদিকে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী নমুনা সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা কম হবে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা এইমস হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসক এই গবেষণাপত্রটি লিখেছেন।

তারা বলছেন, “লালরস সংগ্রহ করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যেমন প্রশিক্ষণ দরকার হয়, তেমনি তাদের ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। রোগীরাও লালরস সংগ্রহের সময়ে কষ্ট পান আবার নানা আনুষঙ্গিক জিনিষেরও প্রয়োজন হয়।” “এইসব অসুবিধাগুলো দূর করে এবং পরীক্ষার ফলাফল সঠিক রেখে নমুনা সংগ্রহের বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে দেখা দরকার, যার একটি হতে পারে গার্গল করা পানি নমুনা হিসাবে ব্যবহার করা,” মন্তব্য ওই গবেষণা পত্রের।
এইমস হাসপাতালে ভর্তি ৫০ জন করোনা সংক্রমিতর লালারস এবং গার্গল করা পানি সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। তারপরে দুই ধরণের নমুনাই আর টি.পি.সি.আর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে একই ফলাফল পাওয়া গেছে সব রোগীর ক্ষেত্রেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কয়েকটি রোগ নির্ণয়ের জন্যই গার্গল করা পানি নমুনা হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সেট করা হলে অনেকগুলো দিক থেকেই ভাল হবে।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. অমিতাভ নন্দী বলছিলেন, “লালারস সংগ্রহ করার সময়ে অনেক রোগীই হাঁচি দিয়ে দেন বা তাদের কাশি এসে যায়। আর তার মুখের খুব কাছেই মুখ নিয়ে কাজ করতে হয় যিনি নমুনা সংগ্রহ করছেন, সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে। এর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর গার্গল করা জল রোগী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেই সংগ্রহ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে দিয়ে দিতে পারবেন।”

তার কথায়, এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মীর ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনই খরচও কমবে পরীক্ষার। “নমুনা সংগ্রহের জন্য অন্তত দুজন স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের পুরো পিপিই, নমুনা সংগ্রহের জায়গা – এসব খরচ তো আর থাকবে না গার্গল করা জল যদি নমুনা হিসাবে ব্যবহার করা যায়। তাই খরচও কমে আসবে,” বলছিলেন ডা. নন্দী।

গবেষণা পত্রটি লিখেছে, নমুনা সংগ্রহের পরে দুই ধরণের নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়ে রোগীর সুবিধা-অসুবিধা সম্বন্ধেও জানতে চাওয়া হয়েছিল। বাহাত্তর শতাংশ রোগী জানিয়েছেন যে লালারস সংগ্রহের পদ্ধতিটিতে তারা মাঝারি থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছেন, আর ২৪% রোগী গার্গল করার ক্ষেত্রে অসুবিধার কথা বলেছেন।

পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশান অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্গালোরের পরিচালক ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. গিরিধার বাবু ওই গবেষণা পত্রটি সম্বন্ধে মন্তব্য করছিলেন, “শুধু হাসপাতালের চৌহদ্দিতে গবেষণাটা না করে যদি বাইরে বেরিয়েও করা হত, তাহলে আরও ভাল হত। কিন্তু এই গবেষণার ওপরে ভিত্তি করেই একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসেডিওর তৈরি করা যেতে পারে, যাতে দ্রুত এই পদ্ধতি কাজে লাগানো যায়।”

তবে এই পদ্ধতির একটা সমস্যার কথাও বিশেষজ্ঞরা বলছেন। “অনেক সময়েই বৃদ্ধ বা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এবং শিশুদের পক্ষে গার্গল করা কঠিন হয়,” মন্তব্য ডা. অমিতাভ নন্দীর। কিন্তু করোনা পরীক্ষার খরচ কম হওয়া আর নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি সহজ হওয়ার ফলে গার্গল করা জল নমুনা হিসাবে ব্যবহার করা শুরু হলে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তথ্য সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন