ভন্ড কবিরাজ কাকিলাকে ৩লক্ষ টাকা অর্থদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাথায় ছোট বৃত্তাকারে ন্যাড়ার পর সেখানে কাকিলা মাছের ধারালো ঠোঁট দিয়ে খুচিয়ে রক্তাক্ত করে সিঁদুর, তেল ও গাছ-গাছরার তরল পেষ্ট মাথায় লাগিয়ে হচ্ছে জন্ডিস রোগের অপচিকিৎসা। পাবনার ভন্ড কবিরাজ আব্দুর রশিদ ওরফে কাকিলা বাবা তার পিতার স্বপ্নে পাওয়া এমন অদ্ভুদ চিকিৎসা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। পাবনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলা হতে আগত শিশু নারী এবং নানা বয়সী সহস্রাধিক রোগী প্রতি শুক্রবার এখানে ১/২শ টাকায় এমন ভাওতাবাজী চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারিত হচ্ছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে ভন্ড কবিরাজ কাকিলা বাবা এবং তার ছেলে সাব্বির হককে আটক করে সাজা দিয়েছে। এসময় তাদের ৩ লাখ টাকা অর্থ দন্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের সাজা দিলে তারা শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে তারা রক্ষা পান।
সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকার ওয়জুল হকের বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতি শুক্রবার দিন ব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রতারনা মুলক কবিরাজী চিকিৎসা দিয়ে আসছিল পাবনা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান অফিসের গাড়ি চালক এবং পাবনা সদরের রবিনগর গোবিন্দা গ্রামের ভন্ড কবিরাজ আব্দুর রশিদ কাকিলা বাবা। বিভিন্ন জেলা থেকে ভোর হতে আগত সরলপ্রাণ হাজারো মানুষ এখানো ১শ/২শ টাকার বিনিময়ে প্রতারনার চিকিৎসা নিতে আসতো। তিনি শিশু, কুমারী মেয়ে সহ বিভিন্ন বয়সী রোগীদের প্রথমে ব্লেড দিয়ে মাথার মাঝের কিছুটা অংশ চুল কেটে ন্যাড়া করেন। এরপর কাকিলা মাছের ধারালো ঠোঁট দিয়ে আঘাত করে রক্তাত্ব স্থানে সিঁদুর, তেল ও গাছ-গাছরার তরল পেস্ট লাগিয়ে দিচ্ছেন। রোগীকে রক্তাক্ত করে এভাবেই হয়ে যেত জটিল জন্ডিস রোগের চিকিৎসা। এ কাজে তার ছেলে সাব্বির হক ও কয়েক সহযোগী সহায়তা করতো। বাবার মৃত্যুর পর তার অবর্তমানে গত ২৫ বছর ধরে এই কাকিলা বাবাই এ অপচিকিৎসা সাধারন মানুষকে দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীমুল রাজীব জানান, সে রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার পরিবর্তে কাকিলা মাছের ঠোঁটের কাটা দিয়ে রক্তাত্ব করে অপচিকিৎসা দিচ্ছে। বিষয়টি আমরা একজন সংবাদ কর্মীর কাছ থেকে জানতে পেরে সাথে-সাথে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেই। সে বলেছে আর এ রকম প্রতারনা মুলক কাজ করবে না। তিনি আরো জানান, সাধারন মানুষকেও সচেতন হতে হবে এসব ভন্ড কবিরাজ হতে। না হলে তারাই আরো ক্ষতির মুখে পড়বে।


প্রতারক কবিরাজদের আটক করে সাজা দেয়ায় ইউএনওকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ, শাহজাদপুর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহু। তারা জানান, কাকিলা বাবার বিস্তর প্রতারনার হাত থেকে সাধারন মানুষ রক্ষা পেয়েছে। তার নিজ এলাকায় তোপের মুখে পড়ায় আমাদের এলাকাতে আস্তানা গেড়েছিল। সপ্তাহে এক দিন বসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। উপজেলা প্রশাসন তাকে আটক করে সাজা দেয়ায় আমরা কাকিলা বাবার দৌরাত্ব হতে মুক্তি পেয়েছি।