ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত সন্দেহে ২ জন বারডেমে ভর্তি

ফাইল ছবি

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন দুজন রোগী রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভারতফেরত এ দুজন আসলেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি-না তা জানতে আজ (মঙ্গলবার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক (সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বারডেম হাসপাতালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত দুজন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তির কথা স্বীকার করলেও কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘দুজন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত’ বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার একাধিকবার বারডেম হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ দুজন রোগীর ব্যাপারে আলোচনা করে জানা গেছে, এখনও তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। আজ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। আগামী পাঁচ থেকে সাতদিনের মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে আদৌ তারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি-না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র বলেন, নিশ্চিত না হয়ে কেউ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন তথ্য প্রচার বা প্রকাশিত হলে তা জনমনে আতঙ্ক তৈরি হবে। এ রোগের চিকিৎসায় গাইডলাইন তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ভারতে একদিকে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস অন্যদিকে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মিউকরমাইসিসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মে মাসের প্রথমদিকে ভারতের চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সতর্ক করা শুরু করেন।

দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে। আর যারা বেঁচে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে একটি অংশের চোখ অপসারণ করতে হচ্ছে।

ভারতে এখন পর্যন্ত যারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে দেখা গেছে, অধিকাংশই হয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বা কিছুদিন আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মূলত সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেকের ইমিউন সিস্টেম অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন লোকজনই নতুন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া এ রোগে আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন ডায়াবেটিসের রোগীরাও। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।