বেলকুচিতে হামাগুড়ি দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধী আছিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি বহুমুখী মহিলা ডিগ্রি কলেজে হামাগুরি দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছাঃ আছিয়া খাতুন(১৮)। শারীরিক প্রতিবন্ধীতা তাকে দমাতে পারেনি।
প্রতিবন্ধী আছিয়া খাতুন বেলকুচি পৌর এলাকার চর চালা গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর আব্দুর রহমান প্রামানিকের মেয়ে। তার দুই পাঁ সম্পূর্ণ ভাবে বিকল। সে দুই পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারেনা। দুই হাত ও দুই হাটুর উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে সে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়। এই হামাগুড়ি দিয়েই সে সব খানে চলাফেরা করে। জীবন সংগ্রামী নারী আছিয়ার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় তার বাবা-মা স্কুলে ভর্তি করে দেয়। সেই থেকে তার শিক্ষা জীবন শুরু। শারীরিক অক্ষমতা নিয়েও আছিয়া নিয়মিত স্কুলে যায় এবং ভাল ভাবে পড়া লেখা করে। সে বেলকুচির সোহাগপুর নতুনপাড়া আলহাজ সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে। এরপর সে বেলকুচি মডেল কলেজে ভর্তি হয়। সেখান থেকেই সে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে।
প্রতিবন্ধী আছিয়ার বাবা দিনমজুর আব্দুর রহমান প্রামানিক জানান, প্রতিবন্ধী আছিয়াকে প্রতিদিন স্কুল ও কলেজে আনা নেওয়া করেছে তার ছোট ছেলে ফিরোজ। তিনি বলেন, তার এই প্রতিবন্ধী মেয়ে আছিয়া লেখাপড়া শেষ করে একটি ভাল চাকরি পাক এটাই তার শেষ আশা।
আছিয়া খাতুন জানান, তার ছোট ভাই ফিরোজ কলেজে যাওয়া আসার সময় তাকে সাহায্য করেছে। এছাড়া বাবা-মা তাকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা করেন। বাবা-মা ভাই বেচে না থাকলে হয়তো আমি লেখা-পড়া করতে পারতাম না। তারাই আমার ভরসা।
বেলকুচি বহুমুখী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ একেএম শামছুল আলম জানান, দু’টি পা একে বারে বিকল। উঠে দারাতে পারেনা। হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। তার পরেও সে যে তার কলেজে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে এতে আমি অত্যন্ত গর্ভবোধ করছি। সেই সাথে আছিয়ার মঙ্গল কামনা করছি।
বেলকুচি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম গোলাম রেজা বলেন, শারিরীক প্রতিবন্ধী আছিয়ার জন্য বিধি মোতাবেক সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যাতে সে ভাল ভাবে পরীক্ষায় লিখতে পারে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আফসানা ইয়াসমিন জানান,আছিয়ার কথা জানতে পেয়ে ওই কলেজে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি শারিরীক প্রতিবন্ধী আছিয়া খুব মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার খোজ খবর নেই এবং সে যাতে সাচ্ছন্দে পরীক্ষা দিতে পারে সে ব্যবস্থ নিতে কেন্দ্র সচিবকে নির্দেশ দেই। তিনি আরো বলেন, মেয়েটির পা দুটি বিকল হওয়া সত্বেও তার মনোবলের একটুও কমতি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়েছে।