বেলকুচিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অভ্যন্তরীন কোন্দলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। তাদের সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে বেলকুচি পৌর এলাকায় শেরনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, পৌর যুবলীগ নেতা শেরনরগ মহল্লার সাহেদুল ইসলাম (৩০), যুবলীগ কর্মী শাহাদত হোসেন (২৩), জাহিদুল ইসলাম (২২), ছাত্রলীগ কর্মী আমিরুল ইসলাম (১৮) ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী হাসান (২৬)। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নির্দেশে তার সহযোগীরা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের স্বজনেরা জানান, শুক্রবার দুপুরে বেলকুচি পৌর এলাকায় শেরনগর মহল্লার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সাহেদুল ইসলামসহ ওই ৫ নেতাকর্মী স্থানীয় হাই সরকারের মিলের পাশে অবস্থান করছিল। তখন বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হকের সহযোগী জুয়েল, ফরিদুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাদের ওপর হামলা চালায়। তখন তাদের পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার পর সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

বেলকুচি পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় সাংসদের ছত্রছায়ায় বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার একের পর এক চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুরো উপজেলাবাসী এখন আতঙ্কিত। প্রতিদিনই শত মানুষ তার সন্ত্রাসীদের দ্বারা হয়রানি হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর দফায়-দফায় হামলা হয়েছে। সর্বশেষ আমাদের দলীয় ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে এই সন্ত্রাসীরা। দলীয় ও আইন গত ভাবে তাদের কঠোর শান্তি দাবি করছি।

বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজ এই ঘটনায়া তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে বিশ্বাস পরিবার আমাকেই দায়ী করে। আমাদের সাংসদ বলেছেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে যেন আমরা জড়িত না হই। তার নির্দেশ মেনেই চলছি। আমি বা আমরা এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত নই।

এদিকে হামলার ঘটনার ব্যাপারে বেলকুচি থানার সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, ঘটনটি মর্মান্তিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ক্ষতিয়ে দেখছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেথ্য, গত ৬ জুন বেলকুচি উপজেলার সগুনা চৌরাস্তা মোড়ে একটি সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাস ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। লাজুক বিশ্বাসের পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয় উভয় পক্ষের বেশ কিছু মোটরসাইকেল। এরপর থেকেই মাঝে-মাঝেই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।