বেলকুচিতে বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন ইউএনও

সারা বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে দিশেহারা, দেশব্যাপী যখন সকল ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক সেই সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার পৌর এলাকার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় বাল্যবিবাহ বিবাহের আয়োজন থেমে নেই। এ ঘটনার তথ্য পেয়ে তৎক্ষণাৎ কনের বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান। এ সময় অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করে।

সোমবার (৩ আগষ্ট) বিকালে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হয়। তখন কনের বাড়ীতে কনে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এর সাথে রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইরনগর গ্রামের পরিবহন শ্রমিক এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং তাদের ছেলে ও মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম রবিন শীষ, বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম ও থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বাল্যবিবাহ একটা সামাজিক ব্যাধি। বেলকুচি উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সঠিক তথ্য প্রদান করলে আমরা দ্রুত সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালীন ২৫০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে পুরষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।