বেলকুচিতে ঝড়ে ১২২৩ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি

গত রবিবার বিকেলের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকরিয়াবেড়া ও দৌলতপুর ইউনিয়নের ১৫ হাজার ১৭৬ জন কৃষকের ১ হাজার ২২৩ হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া এ ঝড়ে ৬৯.৫ হেক্টর জমির সবজি, ১০.৩ হেক্টর জমির পাট ও ২.৫ হেক্টর জমির তিলের ক্ষতি হয়েছে।

এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা বলে বেলকুচি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হল- দৌলতপুর, ধুকুরিয়াবেড়া, লক্ষিপুর, গোপালপুর, সাতলাঠি, খামার উল্লাপাড়া, গয়নাকান্দি, জালু মেটুয়ানি ও সরাতৈল।

এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকেরা সারা বছর এখন কী খেয়ে জীবন ধারণ করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলহাজ আলী ও সড়াতৈল গ্রামের রমজান মাল বলেন, রবিবার বাদ আসরের দিকে আকাশে একখণ্ড মেঘ জমে। তা মুহূর্তে কালো অন্ধকারে পুরো এলাকা ছেয়ে ফেলে। এরপর শুরু হয় দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি। আধঘণ্টাব্যাপী এ ঝড়ে গাছপালা ও বাড়িঘর ভেঙে মাটিতে শুয়ে পড়ে। ঘরের টিন উড়ে গাছের ডালে আটকে পড়ে। এ ছাড়া দমকা ও ঝড়ো বাতাসে উঠতি ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শিলের আঘাতে ধানের থোড় ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর গ্রামের কৃষক হাজী শওকত আলী, ফজলুল হক, মোছা. হালিমা খাতুন, নূরু প্রামাণিক, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, ধুকুরিয়াবেড়া গ্রামের নজরুল মোল্লা, জালু মেটুয়ানি গ্রামের তালেব আলী, রতন সরকার বলেন, চোখের সামনে শিলের আঘাতে সব জমির উঠতি ইরি-বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। সারা বছর এ ধান দিয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা-নির্বাহ করি। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা সারা বছর কি খেয়ে থাকব তা ভেবে পাচ্ছি না। সরকার আমাদের অনুদান ও কৃষি প্রণোদনা না দিলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এ ছাড়া এ ঝড়ে জালু মেটুয়ানি গ্রামের মাস্টার পোল্ট্রি ফিডের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে এ পোলট্রি ফিটের মালিক আব্দুল আজিজ মাস্টার জানান, তার ফার্মের একটি নতুন শেডের সিমেন্টের টিনের চাল শিলার আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

এ ছাড়া অপর একটি শেডের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। ফলে ২০০ মুরগি মারা গেছে। এতে তার ৪/৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কল্যাণ প্রসাদ পাল বলেন, কৃষকদের এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা কৃষকদের মাঝে দ্রুত বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের খুকনি ইসলামপুর, গুপিনাথপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের উধুনিয়া, আগরপুর, গজাইল, সলপ ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি, শ্রীপুর ও গবিন্দপুরে এ ঝড়ে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।