বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু

বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু করেছে। ‘ক্যান্ডেলা সেভেন’ নাম দিয়ে এটি উদ্ভাবন করেছে সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজি। একে উড়ন্ত স্পিডবোট বলার কারণ হলো, এটি ঢেউয়ের ওপর দিয়ে অনেকটা ভেসে চলতে পারে। খবর: রয়টার্স।  নৌযানটির নিচের একটি ধাতব কাঠামো বা ফয়েল এটিকে পানির স্তর থেকে কিছুটা ওপরে তুলতে পারে। এতে ধেয়ে আসা ঢেউ স্পিডবোটটির নিচ দিয়ে চলে যায়। উদ্ভাবকদের দাবি, নৌযানটিতে থাকা কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফয়েলের অবস্থান সমন্বয় করতে পারে। এতে দুলুনি লাগে অনেক কম। দুলুনি কম হওয়ায় দুই ধরনের সুফল পাওয়া গেছে। প্রথমত, দীর্ঘ যাত্রাজনিত অসুস্থতা কমে আসে। দ্বিতীয়ত, পানির সঙ্গে স্পিডবোটের নিচের পৃষ্ঠের ঘর্ষণ কম হওয়ায় শক্তির ব্যয় কম হয়।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, ডিজেলচালিত স্পিডবোটের তুলনায় এ স্পিডবোটে শক্তির খরচ ৮০ শতাংশ কম হয়। শব্দও কম হয় এতে। এই ষ্পিডবোট ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত নৌযানের চেয়ে এটি বেশি দূরত্বও অতিক্রম করতে পারে।

ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজির ওই স্পিডবোট এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডের লুসারনা হ্রদে ভাসতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান ভোগেল বলেন, যেহেতু স্পিডবোটে কোনো ঢেউ আঘাত করবে না, কাজেই কোনো দুলুনিও থাকবে না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিদ্যুৎচালিত যত নৌযান উদ্ভাবিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হয় গতি, না হয় পাল্লার বিষয়টি ছাড় দিতে হয়েছে। কিন্তু ক্যান্ডেলা সেভেনে দুটোই পাওয়া যাবে। একেকটি স্পিডবোটের দাম পড়বে দুই লাখ ৯৬ হাজার ডলার।