বিলুপ্তি’র পথে ‘লক্ষী প্যাঁচা’!

lokhkhi-pecha

শাহজাদপুর সংবাদঃ অতীতকালে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের গাঁওগেরামে দেখা মিলতো বিভিন্ন ধরনের প্যাঁচার। প্যাঁচা ওইসব বিচিত্র প্যাঁচা নিয়ে কত কবি যে কত কবিতা লিখেছেন,তার খবর কে রাখে ? কালের আবর্তনে সময়ের পরিধিতে খাবার, বাসযোগ্য পরিবেশের অভাব, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাসহ বহুমুখী কারনে উত্তরাঞ্চলের নিভৃত পল্লী গাঁওয়ে আর দেখা মেলেনা বিভিন্ন ধরনের প্যাঁচার। অতীতে ‘হুতোম প্যাঁচা’র ভয় দেখিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ানো হতো। এখন বিলুপ্তপ্রায় ওইসব পে্যঁচা নিয়ে আর কবিদের কবিতা লিখতেও দেখা যায়না বা শিশুদের ‘হুতোম প্যাঁচা’র ভয়ও আর দেখানো হয়না। বিচিত্র বহু ধরনের প্যাঁচার মধ্যে বিরল প্রজাতির একটির নাম ‘লক্ষী প্যাঁচা’। গতকাল রোববার শাহজাদপুর পৌরসদরের রূপপুর মহল্লার একটি বসতবাড়িতে স্বল্প সময়ের জন্য একটি লক্ষী প্যাঁচার দেখা মেলে। কিন্তু দুরন্ত ছেলেপেলেদের ঢিল আর অত্যাচারে বিরল প্রজাতির ওই প্যাঁচাটি উড়ে যেতে বাধ্য হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, অতীত কালে বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন বৃক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্যাঁচার দেখা মিলতো। ওইসব প্যাঁচাদের ত্যাক্ত বিরক্ত করলে তাদের তীক্ষ ধারালো ঠোট দিয়ে মানুষের শরীরে আঁচড়ে দিতো ও কামড়ে দিতো। কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির প্যাঁচাদের মধ্যে এক প্রজাতির প্যাঁচা স্বভাবে ছিল খুবই শান্তপ্রিয়। তাই ওই প্যেঁচাকে ডাকা হতো ‘লক্ষী প্যাঁচা’ নামে। ওই প্যাঁচাকে অনেক ত্যাক্ত বিরক্ত করলেও প্যাঁচাটি কারোর শরীরে আচঁড়ে দিতো না বা কামড়ে দিতো না।‘লক্ষীপ্যাঁচা’ দেখতে অনন্য সুন্দর। ওই প্যাঁচার কালো দুটো চোখ দেখতে ভারি সুন্দর। প্যাঁচাটির কপাল থেকে নাকের ওপর ধারালো ঠোট পর্যন্ত কালো ধরনের পশমে আবৃত। ‘লক্ষীপ্যাঁচা’র বুক ও পেটের সর্বত্র সোনালী পশমের ওপর কালো অসংখ্য ছোট ছোট দাগ রয়েছে। ‘লক্ষীপ্যাঁচা’র দুটি পাখা সত্যই অসাধারণ সুন্দর যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার উপায় নেই। প্যাঁচাটি পুরো শরীর অসাধারন পালকে আবৃত। স্বভাবে লক্ষী তাই নাকি ওই প্যাঁচাকে সবাই ‘লক্ষীপ্যাঁচা’ নামে ডাকে।গতকাল বিরল প্রজাতির ওই ‘লক্ষীপ্যাঁচা’টি পুরাতন রূপপুর মহল্লার একটি দালান বাড়ীতে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করে। এ খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে একনজর প্যাঁচাটি দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় উপচে পড়ে।পরে কিছু দুরন্ত ছেলেদের অত্যাচারে প্যাঁচাটি উড়ে যেতে বাধ্য হয়।

গতকাল বিকেলে ওই বাড়ীর গৃহবধু শাহানাজ পারভীন জানান, মাঝে মধ্যেই তার কক্ষের ভেন্টিলেটরের আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের পাখির সমাগম ঘটে। প্রায় ৪ মাস পূর্বেও বিরল প্রজাতির একটি প্যাঁচা এভাবেই একই স্থানে দিনভর অবস্থান নিয়েছিল। এছাড়া তার গৃহের আশেপাশে নাম না জানা রং বেরঙ্গের বিভিন্ন ধরনের বিরল প্রজাতির পাখি মাঝে মধ্যে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় তিনি চরম বিষ্ময় প্রকাশ করেন।এদিকে, ওই লক্ষীপ্যাঁচার সংবাদ দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উৎসূক জনতা,দুরন্ত ছেলেদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পাখি শিকারীও প্যাঁচাটি ধরার চেষ্টা চালায়। তবে গৃহবধু শাহানাজ তার বাড়ীতে আসা বিভিন্ন রং বেরংয়ের বিরল প্রজাতির পাখিগুলো কাউকে ধরতে দেন না। বিরল প্রজতির ওই ‘লক্ষীপ্যাঁচা’টির পুরো শরীরে দৃষ্টিনন্দন পালকের সমাহার পরিলক্ষিত হয়। বিজ্ঞ মহলের মতে,‘অসাধু পাখি শিকারীদের দাপটে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশ থেকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তার পরও কালে ভাদ্রে দু’একটি বিরল প্রজাতির যেসব পাখিদের দেখা মেলে,পাখি শিকারীদের জালে সেগুলোও ধরা পড়ায় তাদের বংশবৃদ্ধির পরিবর্তে বংশ নিঃবংশে পরিণত হচ্ছে। বিরল প্রজাতির ‘লক্ষীপ্যাঁচা’সহ বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন ধরনের পাখি সংরক্ষণে জনসচেতনতা অতীব জরুরী বলে তারা অভিমত ব্যাক্ত করেন।

মন্তব্য

One Comment on “বিলুপ্তি’র পথে ‘লক্ষী প্যাঁচা’!”

  1. আমাদেও দেশ থেকে খাদ্য,বাসস্থান,প্রাকৃতিক দুর্যোগ,সৌখিন শিকারীর আগ্রাসনসহ বহুমুখী কারনে কালের আবর্তে সময়ের পরিধিতে বিচিত্র অনন্যসুন্দও কত প্রজাতির পাখি যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। লক্ষী প্যাঁচা তেমনি কারনগুলোর আগ্রাসনে বর্তমানে প্রায়ই বিলুপ্ত হতে চলেছে। এসব পাখি আমাদেও জাতীয় সম্পদ। এদেও
    ওক্ষার দায়িত্বও আমাদেও নিতে হবে।এজন্য জনগনকে সচেতন করাসহ সরকারকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। এটাই আমাদেও প্রত্যাশা!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.