পরিবেশের ওপর পড়ছে ক্ষতিকারক প্রভাব


বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরে খোলা আকাশের নীচে কয়লার স্তুপ;বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান বাড়ছে

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, শামছুর রহমান শিশির, বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ : শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার শত শত ইটভাটায় পুরোদমে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কয়লা। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর থেকে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার শত শত ইটভাটায় হাজার হাজার টন কয়লা সরবরাহ করার জন বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর চত্ত্বরে খোলা আকাশের নীচে টন টন কয়লার মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। মজুদকৃত এসব কয়লা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে না রাখায় বায়ুমন্ডলে গ্রীন হাউজের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক প্রভাব বিস্তারকারী কার্বনের পরিমান বাড়ছে। বিজ্ঞ মহলের মতে,‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বায়ুমন্ডলে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কার্বনের পরিমান নিয়ন্ত্রন করা না গেলে শাহজাদপুরে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান বহুলাংশে বেড়ে যাবে এবং সর্বত্র এর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। এ অবস্থা রোধে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর চত্ত্বরে শত শত টন কয়লার স্তুপকে সুরক্ষিত অবস্থায় ঢেকে রাখা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে, সরকারীভাবে ব্যাপক প্রচার, নানা বিধি নিষেধ নির্ধারণ করে দেওয়ায় শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার শতশত ইটভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সর্বত্র কয়লার চাহিদা আনুপাতিক হারে বাড়ছে। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ও বিভিন্ন উপজেলার শতশত ইটভাটায় কয়লার চাহিদার ভিত্তিতে শাহজদপুরের বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর থেকে টন টন কয়লা বিক্রি করা হচ্ছে। বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর এলাকা থেকে ট্রাকে করে সড়কপথে নির্দিষ্ট ভাটায় কয়লা পৌছে দেওয়া হচ্ছে। খুলনার মংলা ও চট্রগ্রামের পতেঙ্গা নৌ-বন্দর থেকে নৌ-পথে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজে করে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরে কয়লা আনায়ন করা হচ্ছে। জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর এলাকায় অরক্ষিত অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে স্তুপাকারে জমা করে রাখা হচ্ছে। পরে ওই স্থান থেকে যথাস্থানে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার শতশত ইটভাটাগুলোতে অতীতে ব্যাপকভাবে জ্বালানী হিসাবে কাঠ ব্যবহৃত হতো। সরকারিভাবে বিধি নিষেধ ও ব্যাপক প্রচার প্রচারনার পর থেকে বর্তমানে ইটভাটায় জ্বালানী হিসাবে কাঠ, বাঁশের গুঁড়ি ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। ইটভাটায় কয়লার বর্ধিত এ চাহিদায় যোগানও কয়েকগুন বেড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরের জেটিতে নতুন নতুন কয়লাবাহী কার্গো জাহাজের আগমন ঘটছে। এসব কার্গো জাহাজ থেকে কয়লা আনলোড করে বন্দরের চত্ত্বরে অরক্ষিত অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে রাখা হচ্ছে। এতে বায়ুতে কার্বনের পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান অতীতের তুলনায় ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে এবং পরিবেশের ওপর পড়বে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এ অবস্থা রোধে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর চত্ত্বরে স্তুপাকারে জমা রাখা শত শত টন কয়লা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা উচিত বলে পরিবেশবিদগনেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

One thought on “<p style='color:#ff0000;font-size:16px;margin-bottom:-15px;'>পরিবেশের ওপর পড়ছে ক্ষতিকারক প্রভাব</p><br>বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরে খোলা আকাশের নীচে কয়লার স্তুপ;বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান বাড়ছে

Comments are closed.