জাতীয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের চাকরির সময়সীমা বাড়িয়ে বিল পাস

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের চাকরির সময়সীমা দুই বছর বাড়াতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। মূলত করোনা মহামারির এ সময়ে গভর্নর পরিবর্তন না করে এই পদে মো. ফজলে কবিরকে রেখে দিতে আইন সংশোধন করে বিলটি পাস করা হলো। তবে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির এমপিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২০’ নামে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও বিএনপির হারুনুর রশীদসহ বেশ কয়েকজন এমপি এই বিল পাসের বিরোধিতা করে বলেন, একজন ব্যক্তির জন্য এ ধরনের বিল পাস সংবিধানবিরোধী। আর এটি একটি খারাপ উদাহরণ হিসেবে থাকবে।

মো. ফজলে কবির জুলাইয়ে ৬৫ বছরে পা দেবেন। তবে এ পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকায় আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে ৬৫ বছরের পর গর্ভনর হিসেবে নিযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। এমনকি বাংলাদেশে ব্যাংকে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও ৬৫ বছর পর পুনর্নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয় না। এ জন্য এই বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’ এর আর্টিকেল ১০ এর (৫) এর শর্ত অনুযায়ী, গভর্নরের কার্যকাল বা মেয়াদ চার বছর এবং তাকে পুনর্নিয়োগ করা যাইবে।’

এতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ‘৬৭ বছর বয়স পূর্তির পর কোনো ব্যক্তি গভর্নর পদে আসীন থাকতে পারবে না।’

বিলে বলা হয়েছে, ‘দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজস্বনীতির সঙ্গে সংগতি রেখে কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংকের ঋণ সরবরাহ এবং ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রামান সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সঙ্গে সমন্বয় সাধন প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ও উন্নতর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজনবোধে উক্ত পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুসারে পুনর্নিয়োগ প্রদান কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২০’ এর আর্টিকেল ১০ এর ক্লোজ (৫) এর শর্ত অনুযায়ী, সংশোধনপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫-এর স্থলে ৬৭ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

 

Related Articles

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: