“বাংলাদেশের পাখি, বাংলাদেশের প্রাণ, পাখি বাঁচান, বাংলাদেশকে বাঁচান”

লেখকঃ মোঃ আবুল বাশার (সাংবাদিক)

Abul-Basar-Picture

পক্ষী-পবন-পানি!
জীবনের অমোঘ নিয়মেরই অনুশাসনে আমরা পাখির কলকাকলির দ্বারা উজ্জীবিত হই, বায়ুর অন্বেষণে উন্মুক্ত প্রান্তর খুঁজি, পানির স্পর্শে পুনর্জীবন লাভ করি। এভাবেই পক্ষী, পবন আর পানি আমাদের জীবনকে একপ্রকার নিয়ন্ত্রণই করে চলে দিনের পর দিন, প্রত্যক্ষে কিংবা পরোক্ষোভাবে। এই তিন কিংবা অন্যান্য অনেক অপরিহার্য অনুষঙ্গ ছাড়া আমরা জীবন যাপনের কথা ভাবতেও পারি না। অথচ দৈনন্দিন জীবন যাপনে আমরা লক্ষ্যও করি না পাখিরা আমাদের কীভাবে ঘিরে রাখে, বাতাস কখন আসে, কখন যায়, পানির ওপর কত নির্ভরশীল এই জীবন। যা আমাদের জীবনকে নানাভাবে স্পর্শ করে যায় এবং এখানেই পক্ষী, পবন এবং পানির প্রসঙ্গ অতি তাৎপর্যপূর্ণ্ হয়ে ওঠে। আমরা ঠিকই জানি যে, এই তিনটি উপাদান আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা কি সত্যিকার অর্থেই এই গুরুত্বকে যথাযথ মূল্য দেই? এই আপাত সাধারণ তিনটি উপাদান পক্ষী, পবন এবং পানিকে একটু বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারি জীবনকে কত গভীর এবং বিশদভাবে এরা নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা কিন্তু আমাদের অজান্তেই নিতান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দ্বারা পক্ষীকে প্রতিনিয়তই দূর দূর করছি, পবনকে গতিরুদ্ধ করছি, পানিতে বিষ মেশাচ্ছি। আমাদের আবহ এবং পরিবেশ ক্রমেই অ-বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। যারা আজকে উন্নয়ন এবং সংস্কারের নামে নদী-নালা, পাহাড় কিংবা গ্রাম উজাড় করে চলেছেন, তারা কি আদৌ ভেবে দেখেছেন যে, আসলে তারা নিজ স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এই দেশ এবং দেশের মানুষের কত বড় ক্ষতি করে চলেছেন? বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে অপরিকল্পিত নির্মাণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমাদেরই স্বার্থের কারণে আমাদের নদী-নালা মরে যাচ্ছে। আমাদের হাওয়া-বাতাস বিষবাষ্প বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের পাখিরা ক্রমেই বিলীন হচ্ছে সবুজ শ্যামল প্রান্তরের সঙ্গে সঙ্গে।এভাবে চললে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর নিজের দেশকে চিনতেই পারবে না বোধ হয়। বস্তুুতপক্ষে এই দেশটি থাকবে কি-না সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
প্রথমেই নিজেদের দিকে তাকানো দরকার। আমরা যদি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেরা চিন্তা না করি, তাহলে বাইরের কেউ সমব্যথী হয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসবে না। আমরা কেবল অর্থের পেছনে দৌড়াচ্ছি। সে কারণেই প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত অনুশাসন করার চেষ্টা করছি ব্যক্তিস্বার্থে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই পক্ষী, পবন এবং পানি নিয়ে হৈচৈ করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছি। অথচ পরিবেশের প্রতি, নিসর্গের প্রতি, স্বদেশের প্রতি সত্যিকার অর্থে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

পাখি (পক্ষী) নিয়ে নানা তথ্য
সারা বিশ্বে পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১০,০৬৪টি। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে আছে প্রায় ১,২০০ প্রজাতির পাখি। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ছয়শ প্রজাতির পাখির ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে এবং অনুমান করা হয় যে একদা বাংলাদেশে ৮০০ প্রজাতির পাখি ছিলো। এদেশে আগে যত পাখি ছিলো তার একটি প্রজাতির নাম হচ্ছে গোলাপি হাঁস, যেটি পৃথিবী থেকেই বিলুপ্ত হয়েছে। আরো ২৯ প্রজাতির পাখি অতীতে বাংলাদেশে ছিলো, এখন নেই- যদিও তারা বিলুপ্ত হয়নি, অন্য দেশে টিকে আছে। এই ২৯ প্রজাতির পাখি অতীতে যে বাংলাদেশে ছিলো সেকথা নিশ্চিতভাবে জানা আছে, যদিও তাদের যথার্থ আবাস অনেক ক্ষেত্রেই এদেশে এখন নেই। বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখির মোট ৩০টি প্রজাতির কথা বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬২৬ প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে।এছাড়াও এদেশের পাখি পর্যবেক্ষকগণ মাঝে মধ্যেই নতুন প্রজাতির পাখি দেখার তথ্য দিয়েছেন।
পাখি পৃথিবীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বাংলাদেশের প্রকৃতির অপরূপ উপাদান। বর্তমানে সারা পৃথিবীতেই পাখি রক্ষার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে। বিজ্ঞানীরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে পাখিই পরিবেশের সুস্থতার সূচক। কোনো অঞ্চলে ক্রমাগত পাখির পরিমাণ কমতে থাকা মানে সে অঞ্চলে ক্রমাগত দূষণ বাড়তে থাকা। বাংলাদেশের পাখি বিশেষজ্ঞগণ দেশে পাখির পরিমাণ কমে যাবার কথা বহু বছর ধরেই বলছেন। দেশে দূষণ বাড়ছে এবং পাখি কমছে এটা এখন কৃষক, পরিবেশবিদ, পরিবেশকর্মি, পাখি পর্যবেক্ষক, বন্যপ্রাণি আলোকচিত্রীগণ জানেন এবং মানেন।
নানাবিধ কারণে পৃথিবীতে পাখি কমছে। বাংলাদেশেও পাখি কমছে অতি দ্রুতগতিতে। মানুষের কারণে উজাড় হচ্ছে বন, ভরাট হচ্ছে জলাভূমি। পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস করছে মানুষ। নগরায়ন, শিল্পায়ন, কৃষিজমির আগ্রাসন, মানুষের মাধ্যমে ভূমি দখল, নদীতে বাঁধ দিয়ে চর জাগানো, খনিজ সম্পদ উত্তোলন, প্রাকৃতিক পরিবেশে পর্যটনের প্রসার ইত্যাদির কারণে পাখির আবাসভূমি ধ্বংস হচ্ছে। খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য সাগর, মহাসাগর, নদী, পাহাড়, বনভূমি, সমতলভূমি সর্বত্রই চলছে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন। ভালো ফলনের জন্য জমিতে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার, কীটনাশক, বালাইনাশক, আগাছানাশক যেসব উপাদান পাখির এবং অন্যান্য প্রাণীর খাবারের সংগে মিশছে এবং খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্য বিনষ্ট করছে। প্রতিবছর পৃথিবীতে ৫০০ কোটি পাউন্ড কীটনাশক ছিটানো হয়। শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকাতেই প্রতিবছর সাত-আট কোটি পাখি কীটনাশক খেয়ে মারা যায়। বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজে কীটনাশক মিশিয়ে রাখা হয় এবং সেই বীজ খেয়েও মারা যায় পাখি।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই বলছেন পাখি এবং মাছের জীবন একে অপরের উপর নিভর্রশীল। তারা সুনির্দিষ্ট করেই বলছেন পরিযায়ী পাখি, যেগুলোকে বাংলাদেশে অতিথি পাখিও বলা হয়, তার বেশিরভাগই জলাভূমির পাখি; এবং এই জলাভূমির পাখি না থাকলে মাছ থাকবে না। ব্যপারটি কীভাবে ঘটবে তা খেয়াল করতে হবে। পাখির বিষ্ঠা বা পায়খানা কিছু কিছু মাছ সরাসরি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এজন্যই আমরা সচরাচর দেখি মাছের খামারিরা হাঁস মুরগির বিষ্ঠা টাকা দিয়ে কিনে বস্তার পর বস্তা মাছের পুকুরে প্রয়োগ করেন। আর হাঁস-মুরগিও যে পাখি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাখির বিষ্ঠা পরোক্ষভাবেও মাছের খাবারের যোগান দেয়। পাখির বিষ্ঠা জলজ উদ্ভিদের ডাল পালায় বা কাদায় কয়েকদিন থাকলে পাখির বিষ্ঠার চারপাশে প্লাংকটন জন্মে। এই প্লাংকটন মাছের ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবার যা ছাড়া কোনো মাছ ও অন্যান্য অনেক জলজ প্রাণীই বৃদ্ধি পায় না। প্লাংকটন মাছের পুষ্টি যোগায়। তাই বলা হয় পাখি ছাড়া মাছ থাকবে না। বাংলাদেশ থেকে যে কয়েক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আরো প্রায় ৬০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে তা পাখির দ্বারা মাছ খেয়ে ফেলার কারণে নয়। আসলে মাছ কমে যাচ্ছে মানুষের অদূরদর্শিতা, অজ্ঞানতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে। বরং এখনো যে সামান্য কিছু মাছ টিকে আছে তা পাখিদেরই কল্যাণে। বাংলাদেশের পাখির তালিকার প্রায় ৬৫৮-এর অধিক প্রজাতির পাখির মধ্যে এক-চতুর্থাংশ সংকটাপন্ন এবং তার বেশ কয়েকটি বিলুপ্তির পথে। এই পাখি হারিয়ে গেলে দেশ থেকে মাছও হারিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের জমির উর্ব্বরাশক্তি গত ২০ বছরে কয়েক গুণ কমেছে। সব কৃষকই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জমি আর আগের মতো ফলন দেয় না। অথচ এই দেশ ছিল পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উর্ব্বর। যেই দেশে একদা বীজ মাটিতে ফেলে দিলেই শস্য জন্মাত সেই দেশে এখন সার কীটনাশক ও যতœ দিয়েও প্রত্যাশিত ফসল আসে না। জমির এই উর্ব্বরাাশক্তি কমে যাওয়ার কারণ পাখি কমে যাওয়া। কেননা হাজার হাজার বছর ধরে পাখির বিষ্ঠাই জমির সার হিসেবে কাজে লেগেছে। মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে যে, ফসলে ভাগ বসিয়ে পাখিরা মানুষের যেটুকু ক্ষতি করে উপকার করে তার চেয়ে ঢের বেশি। এছাড়াও পাখি ক্ষতিকর জলজ উদ্ভিদ ও বীজ এবং ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষি ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। এছাড়াও পাখি পরাগায়নে সহায়তা করে, বীজ স্থানান্তর করে, খাদ্য-শৃঙ্খল ঠিক রাখে। এরকম উপকারি প্রাণিগুলোকে হত্যা করা কিংবা জবাই করে খেয়ে ফেলা মানে বাংলাদেশকেই হত্যা করা। তাই আর কোনো পাখি হত্যা নয়। কেননা একটি পাখি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেলে সেটি আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না। এ সম্পর্কে আমদের ভারতীয় সভ্যতা ও আফ্রিকান সভ্যতার নীতি হলো প্রাণের প্রতি ভালোবাসা।
অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন, “তিন হাজার বছর ধরে ভারতের নীতি হচ্ছে প্রাণের প্রতি শ্রদ্ধা। শুধু মানুষের নয়, প্রাণীমাত্রেরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সে অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এই মূল নীতির উপরে ভারতীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠা। সেইজন্য ভারতীয় সভ্যতা এতকাল অটুট।

বাংলাদেশের পাখির তালিকা
পাখির দিক দিয়েও বাংলাদেশ অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ। এদেশে যত প্রজাতির পাখি দেখা যায় তা প্রায় কানাডার সমান। বাংলাদেশের পাখি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে; এবং ভবিষ্যতে হবে। ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে পাখির সর্বমোট ৬৬১টি প্রজাতি ছিল গবেষকরা এটি নিশ্চিত করেছেন। গত ২০০ বছরে এ সকল প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। বাংলাদেশের পাখির এই ৬৬১টি প্রজাতির ভেতর ৬৫৭-টির তালিকা নিচে উপস্থাপিত হলো।

পরিবারঃ তিতির-মুরগি :- (Phasianidae)- ১৩ জাত প্রজাতির
০০১. কালা তিতির, ০০২. বাদা তিতির, ০০৩. মেটে তিতির, ০০৪. রাজ বটেরা, ০০৫. বৃষ্টি বটেরা, ০০৬. পাতি বটেরা, ০০৭. ধলাগাল বাতাই, ০০৮. লালগলা বাতাই, ০০৯. লাল বনমুরগি, ০১০. কালা মথুরা, ০১১. মেটে কাঠমৌর, ০১২. দেশি ময়ুর, ০১৩. সবুজ ময়ুর।

পরিবারঃ শরালি হাঁস (Dendrocygnidae)- ৩২ জাত প্রজাতির
০১৪. রাজ শরালি, ০১৫. পাতি শরালি, ০১৬. বড় ধলাকপাল রাজহাঁস, ০১৭. ছোট ধলাকপাল রাজহাঁস, ০১৮. মেটে রাজহাঁস, ০১৯. দাগি রাজহাঁস, ০২০. খয়রা চকাচকি, ০২১. পাতি চকাচকি,০২২. বাদি হাঁস, ০২৩. নাকতা হাঁস, ০২৪. ধলা বালিহাঁস, ০২৫. মান্দারিন হাঁস, ০২৬. উত্তুরে ল্যাঞ্জা হাঁস, ০২৭. উত্তুরে খুন্তে-হাঁস, ০২৮. পাতি তিলিহাঁস, ০২৯. ফুলুরি হাঁস, ০৩০. বৈকাল তিলিহাঁস, ০৩১. ইউরেশীয় সিঁথিহাঁস, ০৩২. নীলমাথা হাঁস,০৩৩. দেশি মেটেহাঁস, ০৩৪. গিরিয়া হাঁস, ০৩৫. পিয়াং হাঁস, ০৩৬. গোলাপি হাঁস, ০৩৭. লালঝুঁটি ভুতিহাঁস, ০৩৮. বেয়ারের ভুতিহাঁস, ০৩৯. পাতি ভুতিহাঁস, ০৪০. টিকি হাঁস, ০৪১. বড় স্কপ, ০৪২. মরচেরঙ ভুতিহাঁস, ০৪৩. পাতি সোনাচোখ, ০৪৪. স্মিউ হাঁস, ০৪৫. পাতি মার্গেঞ্জার।

পরিবারঃ নাটাবটের (Turnicidae)- ৩ জাত প্রজাতির
০৪৬ দাগি নাটাবটের, ০৪৭. ছোট নাটাবটের, ০৪৮. হলদেপা নাটাবটের।

পরিবারঃ কাঠঠোকরা (Picidae)- ২০ জাত প্রজাতির
০৪৯. ইউরেশীয় ঘাড়ব্যথা, ০৫০. তিলা কুটিকুড়ালি, ০৫১. ধলাভ্রু কুটিকুড়ালি, ০৫২. মেটেটুপি কাঠকুড়ালি, ০৫৩. বাতাবি কাঠকুড়ালি, ০৫৪. হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি, ০৫৫. খয়রা কাঠকুড়ালি,০৫৬. মেটেমাথা কাঠকুড়ালি, ০৫৭. ছোট হলদেকুড়ালি, ০৫৮. বড় হলদেকুড়ালি, ০৫৯. দাগিবুক কাঠকুড়ালি, ০৬০. দাগিগলা কাঠকুড়ালি, ০৬১. বাংলা কাঠঠোকরা, ০৬২. পাতি কাঠঠোকরা, ০৬৩. হিমালয়ী কাঠঠোকরা, ০৬৪. বড় কাঠঠোকরা, ০৬৫. ধলামাথা কাঠকুড়ালি, ০৬৬. তামাটে কাঠকুড়ালি, ০৬৭. কলজেবুটি কাঠকুড়ালি, ০৬৮. বড় মেটেকুড়ালি।

পরিবারঃ বসন্ত (Capitonidae)- ৫ জাত প্রজাতির
০৬৯. নীলগলা বসন্ত, ০৭০. নীলকান বসন্ত, ০৭১. সেকরা বসন্ত, ০৭২. দাগি বসন্ত, ০৭৩. বড় বসন্ত।

পরিবারঃ ধনেশ (Bucerotidae)- ৪ জাত প্রজাতির
০৭৪. দেশি মেটেধনেশ, ০৭৫. উদয়ী পাকরাধনেশ, ০৭৬. রাজ ধনেশ, ০৭৭. পাতাঠুঁটি ধনেশ।

পরিবারঃ হুদহুদ (Upupidae)- ১ জাতের
০৭৮. পাতি হুদহুদ।

পরিবারঃ কুচকুচি (Trogonidae)- ১ জাতের
০৭৯. লালমাথা কুচকুচি।

পরিবারঃ নীলকান্ত (Coraciidae)- ২ জাতের
০৮০. বাংলা নীলকণ্ঠ, ০৮১. পাহাড়ি নীলকণ্ঠ।

পরিবারঃ ছোট মাছ রাঙা (Alcedinidae)- ৪ জাতের
০৮২. পাতি মাছরাঙা, ০৮৩. বন্টাইদের মাছরাঙা, ০৮৪. নীলকান মাছরাঙা, ০৮৫. উদয়ী বামনরাঙা।

পরিবারঃ লম্বাঠুঁটো মাছরাঙা (Dalcelonidae)- ৬ জাতের
০৮৬. খয়রাপাখ মাছরাঙা, ০৮৭. মেঘহও মাছরাঙা, ০৮৮. লাল মাছরাঙা, ০৮৯. কালাটুপি মাছরাঙা, ০৯০. ধলাগলা মাছরাঙা, ০৯১. ধলাঘাড় মাছরাঙা।

পরিবারঃ পাকড়া মাছরাঙা (Cerylidae)- ২ জাতের
০৯২. ঝুঁটিয়াল মাছরাঙা, ০৯৩. পাকড়া মাছরাঙা।

পরিবারঃ সুইচোরা (Meropidae)- ৪ জাতের
০৯৪. নীলদাড়ি সুইচোরা, ০৯৫. খয়রামাথা সুইচোরা, ০৯৬. সবুজ সুইচোরা, ০৯৭. নীললেজ সুইচোরা।

পরিবারঃ কোকিল (Cuculidae)- ১৭ জাতের
০৯৮. খয়রাপাখ পাপিয়া, ০৯৯. পাকরা পাপিয়া, ১০০. হজসনি চোখগ্যালো, ১০১. বড় চোখগ্যালো, ১০২. পাতি চোখগ্যালো, ১০৩. পাতি পাপিয়া, ১০৪. বউকথাকও পাপিয়া, ১০৫. ছোট পাপিয়া, ১০৬. উদয়ী পাপিয়া, ১০৭. করুণ পাপিয়া, ১০৮. মেটেপেট পাপিয়া, ১০৯. দাগি তামাপাপিয়া, ১১০. এশীয় শ্যামাপাপিয়া, ১১১. বেগুনি পাপিয়া, ১১২. বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া, ১১৩. এশীয় কোকিল, ১১৪. মেটে মালকোআ, ১১৫. সবুজঠোঁট মালকোআ।

পরিবারঃ কুবো (Centropodidae)- ২ জাতের
১১৬. বাংলা কুবো, ১১৭. বড় কুবো।

পরিবারঃ টিয়া (Psittacidae)- ৭ জাতের
১১৮. বাসন্তী লটকনটিয়া, ১১৯. মদনা লটকনটিয়া, ১২০. লালমাথা টিয়া, ১২১. চন্দনা টিয়া, ১২২. মেটেমাথা টিয়া, ১২৩. সবুজ টিয়া, ১২৪. ফুলমাথা টিয়া।

পরিবারঃ বাতাসি (Apodidae)- ৭ জাতের
১২৫. হিমালয়ী কুটিবাতাসি, ১২৬. ধলাকোমর সুইবাতাসি, ১২৭. চাঁদপিঠ সুইবাতাসি, ১২৮. খয়রাপিঠ সুইবাতাসি, ১২৯. এশীয় তালবাতাসি, ১৩০. ঘর বাতাসি, ১৩১. চেরালেজ বাতাসি।

পরিবারঃ গাছবাতাসি (Hemiprocnidae)- ১ জাতের
১৩২. ঝুটিয়াল গাছবাতাসি।

পরিবারঃ লক্ষ্মী প্যাঁচা (Tytonidae)- ১ জাতের
১৩৩. লক্ষ্মী প্যাঁচা।

পরিবারঃ প্যাঁচা (Strigidae)- ১৪ জাতের
১৩৪. কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা, ১৩৫. পাহাড়ি নিমপ্যাঁচা, ১৩৬. উদয়ী নিমপ্যাঁচা, ১৩৭. মেটে হুতোমপ্যাঁচা, ১৩৮. চিতিপেট হুতোমপ্যাঁচা, ১৩৯. তামাটে মেছোপ্যাঁচা, ১৪০. মেটে মেছোপ্যাঁচা, ১৪১. খয়রা মেছোপ্যাঁচা, ১৪২. খয়রা গাছপ্যাঁচা, ১৪৩. দাগিঘাড় কুটিপ্যাঁচা, ১৪৪. এশীয় দাগিপ্যাঁচা, ১৪৫. খুড়ুলে প্যাঁচা, ১৪৬. খয়রা শিকরেপ্যাঁচা, ১৪৭. ছোটকান প্যাঁচা।

পরিবারঃ ব্যাঙমুখো (Batrachostomidae)- ১ জাতের
১৪৮. হজসনি ব্যাঙমুখো।

পরিবারঃ কানচরা (Eurostopodidae)- ১ জাতের
১৪৯. বড় কানচরা।

পরিবারঃ রাতচরা (Caprimulgidae)- ৪ জাতের
১৫০. মেঠো রাতচরা, ১৫১. দেশি রাতচরা, ১৫২. মেটে রাতচরা, ১৫৩. ল্যাঞ্জা রাতচরা।

পরিবারঃ পায়রা-ঘুঘু-হরিয়াল (Columbidae)- ১৭ জাত প্রজাতির
১৫৪. গোলা পায়রা, ১৫৫. ধলাটুপি পায়রা, ১৫৬. তিলা ঘুঘু, ১৫৭. ইউরেশীয় কণ্ঠীঘুঘু, ১৫৮. উদয়ী রাজঘুঘু, ১৫৯. হাসির ঘুঘু, ১৬০. লাল রাজঘুঘু, ১৬১. দাগি কোকিলঘুঘু, ১৬২. পাতি শ্যামাঘুঘু, ১৬৩. ল্যাঞ্জা হরিয়াল, ১৬৪. কমলাবুক হরিয়াল, ১৬৫. ঠোঁটমোটা হরিয়াল, ১৬৬. হলদেপা হরিয়াল, ১৬৭. পম্পাডুর হরিয়াল, ১৬৮. গেজলেজ হরিয়াল, ১৬৯. সবুজ ধুমকল, ১৭০. পাহাড়ি ধুমকল।

পরিবারঃ ডাহর (Otididae)- ২ প্রজাতির
১৭১. বাংলা ডাহর, ১৭২. পাতি ডাহর।

পরিবারঃ সারস (Gruidae)- ৩ প্রজাতির
১৭৩. দেশি সারস, ১৭৪. পাতি সারস, ১৭৫. ডেমোজিল সারস।

পরিবারঃ প্যারাপাখি (Heliornithidae)- ১ প্রজাতির
১৭৬. কালামুখ প্যারাপাখি।

পরিবারঃ ঝিল্লি-পানমুরগি (Rallidae)- ১১ প্রজাতির
১৭৭. মেটেপা ঝিল্লি, ১৭৮. মেটেবুক ঝিল্লি, ১৭৯. পান্তা ঝিল্লি, ১৮০. খয়রা ঝিল্লি, ১৮১. ধলাবুক ডাহুক, ১৮২. লালবুক গুরগুরি, ১৮৩. বেইলনের গুরগুরি, ১৮৪. কোড়া, ১৮৫. বেগুনি কালেম,১৮৬. পাতি পানমুরগি, ১৮৭. পাতি কুট।

পরিবারঃ চ্যাগা, বাটান, জিরিয়া ও তাদের সহজাত (Scolopacidae)- ৩৫ জাত প্রজাতির
১৮৮. ইউরেশীয় মুরগিচ্যাগা, ১৮৯. পাতি চ্যাগা, ১৯০. সুইনহোর চ্যাগা, ১৯১. বন চ্যাগা, ১৯২. ল্যাঞ্জা চ্যাগা, ১৯৩. জ্যাক চ্যাগা, ১৯৪. দাগিলেজ জৌরালি, ১৯৫. কালালেজ জৌরালি,১৯৬. ইউরেশীয় গুলিন্দা, ১৯৭. পুবের গুলিন্দা, ১৯৮. নাটা গুলিন্দা, ১৯৯. মেটেলেজ ট্যাটলার, ২০০. তিলা লালপা, ২০১. বন বাটান, ২০২. নর্ডম্যান সবুজপা, ২০৩. পাতি সবুজপা, ২০৪. সবুজ বাটান, ২০৫. বিল বাটান, ২০৬. পাতি লালপা, ২০৭. টেরেক বাটান, ২০৮. পাতি বাটান, ২০৯. লাল নুড়িবাটান, ২১০. এশীয় ডউইচার, ২১১. স্যান্ডার্লিং, ২১২. ডানলিন, ২১৩. লাল নট, ২১৪. গুলিন্দা বাটান, ২১৫. ছোট চাপাখি, ২১৬. লালঘাড় চাপাখি, ২১৭. ঔম্বাঙ্গুল চাপাখি, ২১৮. টেমিঙ্কের চাপাখি, ২১৯. বড় নট, ২২০. চামচঠুঁটো বাটান, ২২১. মোটাঠুঁটো বাটান, ২২২. গেওয়ালা বাটান।

পরিবারঃ রাঙাচ্যাগা (Rostratulidae)- ১ জাতের
২২৩. বাংলা রাঙাচ্যাগা।

পরিবারঃ পিপি (Jacanidae)- ২ জাতের
২২৪. নেউ পিপি, ২২৫. দল পিপি।

পরিবারঃ মোটাহাঁটু (Burhinidae)- ২ জাতের
২২৬. ইউরেশীয় মোটাহাঁটু, ২২৭. বড় মোটাহাঁটু।

পরিবারঃ জিরিয়া-টিটি (Charadriidae)- ১৭ জাত প্রজাতির
২২৮. ইউরেশীয় ঝিনুকমার, ২২৯. কালাপাখ ঠেঙ্গি, ২৩০. পাকরা উল্টোঠুঁটি, ২৩১. প্রশান্ত সোনাজিরিয়া, ২৩২. মেটে জিরিয়া, ২৩৩. কেন্টিশ জিরিয়া, ২৩৪. ছোট নথজিরিয়া, ২৩৫. পাতি নথজিরিয়া, ২৩৬. বড় ধুলজিরিয়া, ২৩৭. ছোট ধুলজিরিয়া, ২৩৮. লম্বাঠুঁটো জিরিয়া, ২৩৯. মেটেমাথা টিটি, ২৪০. নদী টিটি, ২৪১. হট টিটি, ২৪২. সাদালেজি হটটিটি, ২৪৩. হলদেগাল টিটি, ২৪৪. উত্তুরে টিটি।

পরিবারঃ বাবু বাটান (Glareolidae)- ৩ জাত প্রজাতির
২৪৫. কাঁকড়া জিরিয়া, ২৪৬. ছোট বাবু বাটান, ২৪৭. উদয়ী বাবু বাটান।

পরিবারঃ গাঙচিল (Laridae) -২০ জাত প্রজাতির
২৪৮. পরজীবি জেগার, ২৪৯. পোমারাইন জেগার, ২৫০. দেশি গাঙচষা, ২৫১. খয়রামাথা গাঙচিল, ২৫২. হলদেপা গাঙচিল, ২৫৩. হিউগলিনের গাঙচিল, ২৫৪. পালাসি গাঙচিল, ২৫৫. কালামাথা গাঙচিল, ২৫৬. কালাঠোঁট পানচিল, ২৫৭. কালাপেট পানচিল, ২৫৮. ছোট পানচিল, ২৫৯. নদীয়া পানচিল, ২৬০. বাংলা টিকিপানচিল, ২৬১. বড় টিকিপানচিল, ২৬২. কাস্পিয়ান পানচিল, ২৬৩. পাতি পানচিল, ২৬৪. স্যান্ডউইচ পানচিল, ২৬৫. কালাঘাড় পানচিল, ২৬৬. জুলফি পানচিল, ২৬৭. ধলাপাখ পানচিল।

পরিবারঃ চিল-বাজ-ঈগল-শিকরে (Accipitridae)- ৪৩ জাত প্রজাতি
২৬৮. মাছমুরাল, ২৬৯. জার্ডনের বাজ, ২৭০. কালা বাজ, ২৭১. উদয়ী মধুবাজ, ২৭২. কাটুয়া চিল, ২৭৩. ভুবন চিল, ২৭৪. শঙ্খ চিল, ২৭৫. ধলালেজ ঈগল, ২৭৬. ধলাপেট সিন্ধুঈগল, ২৭৭. পালাসি কুরাঈগল, ২৭৮. মেটেমাথা কুরাঈগল, ২৭৯. ধলা শকুন, ২৮০. বাংলা শকুন, ২৮১. ইউরেশীয় গৃধিনী, ২৮২. হিমালয়ী গৃধিনী, ২৮৩. সরুঠুঁটি শকুন, ২৮৪. কালা শকুন, ২৮৫. রাজ শকুন, ২৮৬. খাটোআঙুল সাপঈগল, ২৮৭. তিলা নাগঈগল, ২৮৮. পশ্চিমা পানকাপাসি, ২৮৯. মুরগি কাপাসি, ২৯০. ধলা কাপাসি, ২৯১. পাকরা কাপাসি, ২৯২. মন্টেগুর কাপাসি, ২৯৩. পুবের পানকাপাসি, ২৯৪. পাতি শিকরে, ২৯৫. উত্তুরে গোদাশিকরে, ২৯৬. ইউরেশীয় চড়ুইশিকরে, ২৯৭. ঝুটিয়াল গোদাশিকরে, ২৯৮. বসরা শিকরে, ২৯৯. ধলাচোখ তিসাবাজ, ৩০০. পাতি তিসাবাজ, ৩০১. লম্বাপা তিসাবাজ, ৩০২. বড় গুটিঈগল, ৩০৩. দেশি গুটিঈগল, ৩০৪. এশীয় গুটিঈগল, ৩০৫. নেপালী ঈগল, ৩০৬. তামাটে ঈগল, ৩০৭. বনেলি ঈগল, ৩০৮. লালপেট ঈগল, ৩০৯. বুটপা ঈগল, ৩১০. ঝুটিয়াল শিকরেঈগল।

পরিবারঃ শাহিন (Falconidae)- ৯ জাত প্রজাতি
৩১১. আমুর শাহিন, ৩১২. সাকের শাহিন, ৩১৩. লালঘাড় শাহিন, ৩১৪. লজ্ঞর শাহিন, ৩১৫. ছোট কেস্ট্রেল, ৩১৬. পেরেগ্রিন শাহিন, ৩১৭. উদয়ী টিকাশাহিন, ৩১৮. ইউরেশীয় টিকাশাহিন, ৩১৯. পাতি কেস্ট্রেল।

পরিবারঃ ডুবুরি (Podicipedidae)- ৪ জাতের
৩২০. ছোট ডুবুরি, ৩২১. বড় খোঁপাডুবুরি, ৩২২. লালগলা ডুবুরি, ৩২৩. কালাঘাড় ডুবুরি।

পরিবারঃ গয়ার (Anhingidae)- ১ জাতের
৩২৪. গয়ার।

পরিবারঃ পানকৌড়ি (Phalacrocoracidae)- ৩ জাতের
৩২৫. বড় পানকৌড়ি, ৩২৬. দেশি পানকৌড়ি, ৩২৭. ছোট পানকৌড়ি।

পরিবারঃ বক (Ardeidae)- ১৮ জাত প্রজাতি
৩২৮. ছোট বগা, ৩২৯. মাঝলা বগা, ৩৩০. প্রশান্ত শৈলবগা, ৩৩১. ধুপনি বক, ৩৩২. দৈত্য বক, ৩৩৩. ধলাপেট বক, ৩৩৪. লালচে বক, ৩৩৫. বড় বগা, ৩৩৬. গো বগা, ৩৩৭. চিনা কানিবক, ৩৩৮. দেশি কানিবক, ৩৩৯. খুদে বক, ৩৪০. কালামাথা নিশিবক, ৩৪১. মালয়ী নিশিবক, ৩৪২. খয়রা বগলা,৩৪৩. হলদে বগলা, ৩৪৪. কালা বগলা, ৩৪৫. বাঘা বগলা।

পরিবারঃ- কাস্তেচরা-চামচঠুঁটি (Threskiornithidae)- ৪ জাতের
৩৪৬. খয়রা কাস্তেচরা, ৩৪৭. কালামাথা কাস্তেচরা, ৩৪৮. কালা কাস্তেচরা, ৩৪৯. ইউরেশীয় চামচঠুঁটি।
পরিবারঃ গগণবেড় (Pelicanidae)- ২ জাতের
৩৫০. বড় ধলা গগণবেড়, ৩৫১. চিতিঠুঁটি গগণবেড়।

পরিবারঃ মানিকজোড় (Ciconiidae)- ৮ জাতের
৩৫২. রাঙা মানিকজোড়, ৩৫৩. এশিয় শামখোল, ৩৫৪. ধলা মানিকজোড়, ৩৫৫. ধলাগলা মানিকজোড়, ৩৫৬. কালা মানিকজোড়, ৩৫৭. কালাগলা মানিকজোড়,৩৫৮. বড় মদনটাক, ৩৫৯. ছোট মদনটাক,

পরিবারঃ শুমচা (Pittidae)- ৫ জাতের
৩৬০. দেশি শুমচা, ৩৬১. নীল শুমচা, ৩৬২. প্যারা শুমচা, ৩৬৩. নীলঘাড় শুমচা, ৩৬৪. খয়রামাথা শুমচা।

পরিবারঃ মোটাঠুঁটি (Eurylaimidae)- ২ জাতের
৩৬৫. চাঁদিবুক মোটাঠুঁটি, ৩৬৬. ল্যাঞ্জা মোটাঠুঁটি।

পরিবারঃ নীলপরি (Irenidae)- ৪ জাতের
৩৬৭. এশীয় নীলপরি, ৩৬৮. সোনাকপালি হরবোলা, ৩৬৯. নীলডানা হরবোলা, ৩৭০. কমলাপেট হরবোলা।

পরিবারঃ লাটোরা (Laniidae)- ৬ জাতের
৩৭১. বর্মি লাটোরা, ৩৭২. খয়রা লাটোরা, ৩৭৩. দক্ষিণে মেটেলাটোরা, ৩৭৪. ল্যাঞ্জা লাটোরা, ৩৭৫. মেটেপিঠ লাটোরা, ৩৭৬. তামাপিঠ লাটোরা।

পরিবারঃ কাক-ফিঙে-সাহেলি (Corvidae)- ৩৬ জাত প্রজাতি
৩৭৭. নোনাবন শিসমার, ৩৭৮. লালঠোঁট নীলতাউরা, ৩৭৯. পাতি সবুজতাউরা, ৩৮০. মেটে হাঁড়িচাচা, ৩৮১. খয়রা হাঁড়িচাচা, ৩৮২. দাঁড় কাক, ৩৮৩. পাতি কাক, ৩৮৪. মেটে বনাবাবিল, ৩৮৫. কালাঘাড় বেনেবউ, ৩৮৬. ইউরেশীয় সোনাবউ, ৩৮৭. সরুঠোঁট বেনেবউ, ৩৮৮. তামারঙ বেনেবউ, ৩৮৯. কালামাথা বেনেবউ, ৩৯০. বড় কাবাসি,৩৯১. কালামাথা কাবাসি, ৩৯২. কালাপাখ কাবাসি, ৩৯৩. সুইনহোর সাহেলি, ৩৯৪. ছোট সাহেলি, ৩৯৫. মেটে সাহেলি, ৩৯৬. লাঞ্জা সাহেলি, ৩৯৭. সিঁদুরে সাহেলি, ৩৯৮. গোলাপি সাহেলি, ৩৯৯. দাগিপাখ চুটকিলাটোরা, ৪০০. ধলাগলা ছাতিঘুরুনি, ৪০১. ব্রঞ্জ ফিঙে, ৪০২. কাকঠুটোঁ ফিঙে, ৪০৩. কেশরী ফিঙে, ৪০৪. মেটে ফিঙে, ৪০৫. কালা ফিঙে, ৪০৬. বড় রেকেটফিঙে, ৪০৭. ছোট রেকেটফিঙে, ৪০৮. কালাঘাড় রাজন, ৪০৯. এশীয় শাবুলবুলি, ৪১০. পাতি ফটিকজল, ৪১১. বড় বনলাটোরা, ৪১২. পাতি বনলাটোরা।

পরিবারঃ দামা-চুটকি (Muscicapidae)- ৬২ জাত প্রজাতির
৪১৩. নীল শিলাদামা, ৪১৪. নীল শিসদামা, ৪১৫. কমলা দামা, ৪১৬. আঁশটে দামা, ৪১৭. কালাপাশ দামা, ৪১৮. খয়রাপিঠ দামা, ৪১৯. লম্বাঠোঁট দামা, ৪২০. ধলাঘাড় দামা, ৪২১. ধলাপাখ কালিদামা, ৪২২. কালাবুক দামা, ৪২৩. পাতি কালিদামা, ৪২৪. কালচে দামা, ৪২৫. ভ্রুলেখা দামা, ৪২৬. লালগলা দামা, ৪২৭. টিকেলের দামা, ৪২৮. খুদে খাটোডানা, ৪২৯. এশীয় খয়রাচুটকি, ৪৩০. মেটেবুক চুটকি, ৪৩১. কালাপাশ চুটকি, ৪৩২. তাইগা চুটকি, ৪৩৩. ধলাভ্রু চুটকি, ৪৩৪. নীলকান্ত চুটকি, ৪৩৫. লালমালা চুটকি, ৪৩৬. ঘননীল চুটকি, ৪৩৭. কালচেনীল চুটকি, ৪৩৮. ছোট পাকরাচুটকি, ৪৩৯. অম্বর চুটকি, ৪৪০. বড় নীলমনি, ৪৪১. ছোট নীলমনি, ৪৪২. লালপেট নীলমনি, ৪৪৩. ধলাগলা চুটকি, ৪৪৪. নীলগলা নীলচুটকি, ৪৪৫. টিকেলের নীলচুটকি, ৪৪৬. নীলচে চুটকি, ৪৪৭. মেটেমাথা ক্যনারিচুটকি, ৪৪৮. দেশি নীলরবিন, ৪৪৯. সাইবেরীয় চুনিকণ্ঠী, ৪৫০. লালগলা ফিদ্দা, ৪৫১. ধলালেজ চুনিকণ্ঠী, ৪৫২. নীলগলা ফিদ্দা, ৪৫৩. কমলাপাশ বনরবিন, ৪৫৪. লালবুক বনরবিন, ৪৫৫. ধলাভ্রু বনরবিন, ৪৫৬. ধলাকোমর শামা, ৪৫৭. উদয়ী দোয়েল, ৪৫৮. ডাউরিয়ান গির্দি, ৪৫৯. নীলকপালি গির্দি, ৪৬০. কালা গির্দি, ৪৬১. ধলাটুপি পানগির্দি, ৪৬২. নীল পানগির্দি, ৪৬৩. ধলালেজ রবিন, ৪৬৪. কালাপিঠ চেরালেজ, ৪৬৫. ধলাচাঁদি চেরালেজ, ৪৬৬. স্লেটপিঠ চেরালেজ, ৪৬৭. বেগুনি কোচোয়া, ৪৬৮. পাকরা ঝাড়ফিদ্দা, ৪৬৯. মেটে ঝাড়ফিদ্দা, ৪৭০. ধলাগলা ঝাড়ফিদ্দা, ৪৭১. জার্ডনের ঝাড়ফিদ্দা, ৪৭২. ধলালেজ শিলাফিদ্দা, ৪৭৩. পাতি শিলাফিদ্দা, ৪৭৪. ঊষর কানকালি।

পরিবারঃ শালিক (Sturnidae)- ১১ জাত প্রজাতির
৪৭৫. এশীয় তেলশালিক, ৪৭৬. চিতিপাখ গোশালিক, ৪৭৭. পাকরা শালিক, ৪৭৮. খয়রালেজ কাঠশালিক, ৪৭৯. বামুনি কাঠশালিক, ৪৮০. গোলাপি কাঠশালিক, ৪৮১. পাতি কাঠশালিক, ৪৮২. ধলাতলা শালিক, ৪৮৩. ঝুটি শালিক, ৪৮৪. গাঙ শালিক, ৪৮৫. ভাত শালিক, ৪৮৬. পাতি ময়না।

পরিবারঃ বনমালি (Sittiidae)- ২ জাতের
৪৮৭. খয়রাপেট বনমালি, ৪৮৮. কালাকপাল বনমালি।

পরিবারঃ গাছআঁচড়া (Certhiidae)- ১ জাতের
৪৮৯. দাগিলেজ গাছআঁচড়া।

পরিবারঃ টিট (Paridae)- ২ জাতের
৪৯০. বড় তিত, ৪৯১. সবুজপিঠ তিত।

পরিবারঃ আবাবিল (Hirundinidae)- ১০ জাতের
৪৯২. ম্লান নাকুটি, ৪৯৩. খয়রাগলা নাকুটি, ৪৯৪. বালি নাকুটি, ৪৯৫. লালকোমর আবাবিল, ৪৯৬. দাগিগলা আবাবিল, ৪৯৭. পাতি আবাবিল, ৪৯৮. তারলেজা আবাবিল, ৪৯৯. দাগি আবাবিল, ৫০০. এশীয় ঘরনাকুটি, ৫০১. নেপালি ঘরনাকুটি।

পরিবারঃ বুলবুল (Pycnonotidae)- ৯ জাতের
৫০২. কালামাথা বুলবুল, ৫০৩. বাংলা বুলবুল, ৫০৪. মেটে বুলবুল, ৫০৫. সিপাহী বুলবুল, ৫০৬. কালাঝুঁটি বুলবুল, ৫০৭. ধলাগলা বুলবুল,৫০৮. জলপাই বুলবুল, ৫০৯. কালচে বুলবুল, ৫১০. কালা বুলবুল।

পরিবারঃ ছোটন-প্রিনা ((Cisticolidae)- ৯ জাতের
৫১১. ধলামাথা ছোটন, ৫১২. ভোমরা ছোটন, ৫১৩. লালাতলা প্রিনা, ৫১৪. হলদেপেট প্রিনা, ৫১৫. সুন্দরী প্রিনা, ৫১৬. মেটেবুক প্রিনা, ৫১৭. নিরল প্রিনা, ৫১৮. লালচে প্রিনা, ৫১৯. কালচে প্রিনা।

পরিবারঃ ধলাচোখ (Zosteropidae)- ১ জাতের
৫২০. উদয়ী ধলাচোখ।

পরিবারঃ ফুটকি-ছাতারে-পেঙ্গা (Sylviidae)- ৮১ জাত প্রজাতির
৫২১. খয়রামাথা টেসিয়া, ৫২২. মেটেপেট টেসিয়া, ৫২৩. স্লেটপেট টেসিয়া, ৫২৪. এশীয় ভোতালেজ, ৫২৫. খয়রাডানা বনফুটকি, ৫২৬. বৈকাল ঝাড়ফুটকি, ৫২৭. খয়রা ঝাড়ফুটকি, ৫২৮. তিলা ঝাড়ফুটকি, ৫২৯. পালাসি ফড়িংফুটকি, ৫৩০. পাতারি ফুটকি, ৫৩১. পাতি ফড়িংফুটকি, ৫৩২. মেটেঠোঁট ফুটকি, ৫৩৩. ধানি ফুটকি, ৫৩৪. কালাভ্রু ফুটকি, ৫৩৫. ভোঁতাডানা ফুটকি, ৫৩৬. ব্লাইদের ফুটকি, ৫৩৭. উদয়ী নলফ্টুকি, ৫৩৮. বড়ঠুঁটি নলফুটকি, ৫৩৯. বাচাল নলফুটকি, ৫৪০. বুটপা ফুটকি, ৫৪১. সাইক্সের ফুটকি, ৫৪২. কালাগলা টুনটুনি, ৫৪৩. পাহাড়ি টুনটুনি, ৫৪৪. পাতি টুনটুনি, ৫৪৫. টিকেলের পাতাফুটকি, ৫৪৬. হলদেতলা ফুটকি, ৫৪৭. লেবুকোমর ফুটকি, ৫৪৮. পাতি চিফচ্যাফ, ৫৪৯. মেটে ফুটকি, ৫৫০. কালচে ফুটকি, ৫৫১. হলদেভ্রু ফুটকি, ৫৫২. বড়ঠোঁট ফুটকি, ৫৫৩. পশ্চিমা মাথাফুটকি, ৫৫৪. ব্লাইদের পাতাফুটকি, ৫৫৫. রাডির ফুটকি, ৫৫৬. সবজে ফুটকি, ৫৫৭. ধলাচোখ ফুটকি, ৫৫৮. সবুজচাঁদি ফুটকি,৫৫৯. লালচাঁদি ফুটকি, ৫৬০. মেটেচাঁদি ফুটকি, ৫৬১. হুইসলারের ফুটকি, ৫৬২. মেটেমুখোশ ফুটকি, ৫৬৩. হলদেপেট ফুটকি, ৫৬৪. দাগি ঘাসপাখি, ৫৬৫. শতদাগি ঘাসপাখি, ৫৬৬. বাংলা ঘাসপাখি, ৫৬৭. হলদেগলা পেঙ্গা, ৫৬৮. ধলাঝুঁটি পেঙ্গা, ৫৬৯. ছোট মালাপেঙ্গা, ৫৭০. বড় মালাপেঙ্গা, ৫৭১. লালঘাড় পেঙ্গা, ৫৭২. অ্যাবটের ছাতারে, ৫৭৩. দাগিগলা ছাতারে, ৫৭৪. বাদা ছাতারে, ৫৭৫. গলাফোলা ছাতারে, ৫৭৬. খয়রাবুক ছাতারে, ৫৭৭. তিলাবুক কাস্তেছাতারে, ৫৭৮. বড় কাস্তেছাতারে, ৫৭৯. লালঠোঁট কাস্তেছাতারে, ৫৮০. ধলাভ্রু কাস্তেছাতারে, ৫৮১. মেটেগলা ছাতারে, ৫৮২. লালকপাল ছাতারে, ৫৮৩. দাগি তিতছাতারে, ৫৮৪. লালটুপি ছাতারে, ৫৮৫. হলদেচোখ ছাতারে, ৫৮৬. দাগি ছাতারে, ৫৮৭. বন ছাতারে, ৫৮৮. ধলামুখোশ ছাতারে, ৫৮৯. লালমুখ দাগিডানা, ৫৯০. নেপালি ফালভেটা, ৫৯১. খয়রাগাল ফালভেটা, ৫৯২. ল্যাঞ্জা সিবিয়া, ৫৯৩. দাগি উহিনা, ৫৯৪. কালাগাল উহিনা, ৫৯৫. ধলাপেট উহিনা, ৫৯৬. কালাবুক টিয়াঠুঁটি, ৫৯৭. তিলাবুক টিয়াঠুঁটি, ৫৯৮. বড় লালমাথা টিয়াঠুঁটি, ৫৯৯. ছোট ধলাগলা, ৬০০. ওর্ফিয়ান ফুটকি।

পরিবারঃ ভরত (Alaudidae)- ৭ জাতের
৬০১. বাংলা ঝাড়ভরত, ৬০২. সুরেলা ঝাড়ভরত, ৬০৩. মেটেচাঁদি চড়ুইভরত, ৬০৪. হিউমের ভোঁতাভরত, ৬০৫. বড় ভোঁতাভরত, ৬০৬. বালি ভরত, ৬০৭. উদয়ী অভ্রভরত।

পরিবারঃ ফুলঝুরি-মৌটুসি (Nectarinidae)- ১৯ জাত প্রজাতির
৬০৮. ঠোঁটমোটা ফুলঝুরি, ৬০৯. হলদেতলা ফুলঝুরি, ৬১০. নিরল ফুলঝুরি, ৬১১. লালপিঠ ফুলঝুরি, ৬১২. মেটেঠোঁট ফুলঝুরি, ৬১৩. লালবুক ফুলঝুরি, ৬১৪. হলদেপেট ফুলঝুরি, ৬১৫. কমলাপেট ফুলঝুরি, ৬১৬. চুনিমুখি মৌটুসি, ৬১৭. বেগুনিগলা মৌটুসি, ৬১৮. বেগুনিকোমর মৌটুসি, ৬১৯. বেগুনি মৌটুসি, ৬২০. জলপাইপিঠ মৌটুসি, ৬২১. বেগম-গোল্ডের মৌটুসি, ৬২২. লাললেজ মৌটুসি, ৬২৩. সবুজলেজ মৌটুসি, ৬২৪. সিঁদুরে মৌটুসি, ৬২৫. ছোট মাকড়মার, ৬২৬. দাগি মাকড়মার।

পরিবারঃ চড়ুই-বাবুই-খঞ্জন-তুলিকা-মুনিয়া (Passeridae)- ২৫ জাত প্রজাতির
৬২৭. পাতি চড়ুই, ৬২৮. ইউরেশীয় গাছচড়ুই, ৬২৯. বন খঞ্জন, ৬৩০. ধলা খঞ্জন, ৬৩১. মেটে খঞ্জন, ৬৩২. সিট্রিন খঞ্জন, ৬৩৩. পশ্চিমা হলদেখঞ্জন, ৬৩৪. ধলাভ্রু খঞ্জন, ৬৩৫. তামাটে তুলিকা, ৬৩৬. লালগলা তুলিকা, ৬৩৭. ব্লাইদের তুলিকা, ৬৩৮. জলপাইপিঠ তুলিকা, ৬৩৯. রিচার্ডের তুলিকা, ৬৪০. গোলাপি তুলিকা, ৬৪১. ধানি তুলিকা, ৬৪২. লম্বাঠোঁট তুলিকা, ৬৪৩. গেছো তুলিকা, ৬৪৪. বাংলা বাবুই, ৬৪৫. দাগি বাবুই, ৬৪৬. দেশি বাবুই, ৬৪৭. লাল মামুনিয়া, ৬৪৮. দেশি চাঁদিঠোঁট, ৬৪৯. কালামাথা মুনিয়া, ৬৫০. তিলা মুনিয়া, ৬৫১. ধলাকোমর মুনিয়া।

পরিবারঃ তুতি ও চটক (Fringilidae)- ৫ জাতের
৬৫২. পাতি তুতি, ৬৫৩. হলদেবুক চটক, ৬৫৪. লালকান চটক, ৬৫৫. খুদে চটক, ৬৫৬. কালামুখ চটক, ৬৫৭. এৎবু-হবপশবফ ইঁহঃরহম, ২০১২ সালের নভেম্বরের ২৯ তারিখ আদনান অদি রেকর্ড করেন সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট থেকে।

বিপন্ন পাখি

v1-1462961417

আন্তর্জাতিক শকুন-সচেতনতা দিবস
২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার Birds of Prey Programme ও ইংল্যান্ডের Hawk Conservancy Trust-এর উদ্যোগে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার দিনটিকে আন্তর্জাতিক শকুন-সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে এই দিবসটি পালন করে আসছে এবং এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, গবেষক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মারণঘাতী ওষুধ ডাইকোফেনাক ও কিটোপ্রোফেন মুক্ত শকুনের আবাসস্থল নিশ্চিত করুন’। হিসাব মতে চলতি বছরের বছরের ৫ সেপ্টম্বর শনিবার ছিল আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস। বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে।

শকুন নিয়ে নানা কথা
শকুনকে বলা হয় প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পশু-পাখিসহ নানা প্রাণীর মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ প্রাণি। কিন্তু পরিবেশের জন্য অপরিহার্য্য এই প্রানি মানবসৃষ্ট কারণে এখন মহাবিপন্নের পথে।শকুন মড়াখেকো মাংসাশী পাখি। তাই তাকে কেউ ভালো চোখে দেখে না। লোভী আর নির্দয় কাউকে কটাক্ষ করতে গিয়ে অনেকে শকুনের সঙ্গে তুলনা করে থাকে। শকুনের প্রতি নাক সিঁটকানো এই মনোভাবের কারণে পাখিটির বংশ নিপাত হওয়ার জোগাড়। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে, উপলব্ধি হয়েছে শকুন মানুষের শত্রু নয়, বরং বন্ধু।গবেষণায় শকুন সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে অজানা তথ্য। বলা হচ্ছে যে শকুন পচা-গলা মাংস খাওয়াসহ ভয়াবহ অনেক জীবাণু হজম করে থাকে। এখন প্রতিবছর নির্দিষ্ট দিনে ‘বিশ্বজুড়ে শকুন সচেতনতা দিবস’ পালিত হয়। আসুন আমরাও প্রতিবছর গ্রামগঞ্জে দিবসটি পালনের মদ্যদিয়ে শকুনের প্রতি একটু শুভকামনা করি। ওরা বেঁচে থাকুক। আমাদের পরিবেশকে সুন্দর রাখুক।
ইংরেজিতে ‘ভালচার’ বলে পরিচিত শকুনের গলা, ঘাড় ও মাথায় কোনো পালক থাকে না। প্রশস্ত ডানায় ভর করে আকাশে ওড়ে। লোকচক্ষুর আড়ালে বট, পাকুড়, অশ্বত্থ, ডুমুর ইত্যাদি বড় গাছে সাধারণত শকুন বাসা বাঁধে। গাছের কোটর, পর্বতের চূড়ায় ও গুহায় সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের এক থেকে তিনটা ডিম দিয়ে থাকে। রং সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে থাকে। এরা মাংসাশী, বিশেষ করে মৃত প্রাণির মাংস খেয়ে থাকে এই শিকারি পাখি। বিশ্বে ২৩ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এর মধ্যে চার ধরনের শকুন বাংলাদেশে আসে। এরা স্থায়ীভাবে থাকে না। পরিযায়ী। এগুলো হচ্ছে হিমালয় গৃধিনী, ইউরেশীয়, ধলা ও কালা শকুন। হিমালয় গৃধিনী ও ইউরেশীয় শকুন প্রায়সই আসে, আবার চলে যায়। তবে পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধলা শকুনকে ৪০ বছর পর গত জুনে কাপ্তাইয়ে দেখা গেছে। কালা শকুন মাঝে মধ্যে দেখা যায়।
তিন ধরনের শকুন এ দেশে বাসা বানিয়ে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটাত। এগুলো হচ্ছে রাজ শকুন, সরুঠোঁট শকুন ও বাংলা শকুন। রাজ শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ৩৫ বছর পর সরুঠোঁট শকুন এবার হবিগঞ্জের একটি বনে দেখা গেছে। তার বাসাও পাওয়া গেছে। মোটামুটি থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলা শকুন।এক হিসাবে জানা গেছে, বাংলাদেশে এর সংখ্যা তিন শর বেশি হবে না। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তান মিলে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। আশির দশকে সার্কভুক্ত দেশে প্রায় ৪০ মিলিয়ন বাংলা শকুনের অস্তিত্ব ছিল। গত তিন দশকে উপমহাদেশে ৭৫ শতাংশ শকুন মারা গেছে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের গবেষক ড. লিন্ডসে ওক তাঁর এক গবেষণায় প্রমাণ করেন, পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনের ব্যবহারই শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। ভারতে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ শকুন মারা যাওয়ার কারণও ডাইক্লোফেন।গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত মরা পশুর মাংস খেয়ে কাক-শিয়াল কোনো প্রাণিই বাঁচতে পারে না। তারাও আক্রান্ত হয়। এমনকি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু মাটিতে পুঁতে ফেললেও তার জীবাণু বহুদিন পর্যন্ত ধ্বংস হয় না। একমাত্র শকুনই অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু হজম করে ফেলতে পারে। এখন চারদিকে যেভাবে অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে, এতে আক্রান্ত পশু মানুষের সংস্পর্শে এলে মানুষও আক্রান্ত হবে হচ্ছে। আমাদের গো-সম্পদে পরিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে অ্যানথ্রাক্সের আক্রমনের শিকার হয়েছে বহু মানুষ। আক্রান্ত মরা পশু সরিয়ে ফেলতে শকুনের কোনো বিকল্প নেই।
অনেক দেরিতে হলেও জানা গেছে শকুন অশুভ কোনো পাখি নয়, তারা মানুষের বন্ধু। মানুষের ভেতর এই সচেতনতা সৃষ্টিতে এবং শকুন সংরক্ষণে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) কাজ করছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে আইইউসিএনের উদ্যোগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি হয়েছে। এই কমিটির উদ্যোগে বাংলা শকুন সংরক্ষণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলেই বাংলাদেশ সরকার বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বাংলা শকুনের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারতে এ রকম পাঁচটি ও নেপালে দুটি এলাকাকে বাংলা শকুনের জন্য নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য তার আগেই ভারতে ২০০৬ সালে এবং বাংলাদেশে ২০১০ সালের নভেম্বরে ডাইক্লোফেনাক ওষুধ নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। অনেক দেশ বিকল্প ওষুধ ব্যবহার করছে। আমাদের দেশেও এই ঔষধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে জন সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে।

বাংলাদেশের শকুনেরা ভালো নেই

বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ২৩ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে পশ্চিম গোলার্ধে ৭ প্রজাতির এবং পূর্ব গোলার্ধে (ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া) ঈগলের সঙ্গে সম্পর্কিত ১১ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এর মধ্যে ৪ প্রজাতি স্থায়ী আর ২ প্রজাতি পরিযায়ী। বাংলা শকুন ছাড়াও বাংলাদেশে দেখা যায় রাজশকুন, গ্রিফন শকুন বা ইউরেশীয় গৃধিনী, হিমালয়ী গৃধিনী, সরুঠুঁটি শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন। তবে এখন শুধু বাংলা শকুন এবং গ্রিফন শকুন বা ইউরেশীয় গৃধিনীই মাঝে মাঝে দেখা যায়। এসব প্রজাতির শকুন সারাবিশ্বে বিপন্ন। আর স্থায়ী প্রজাতির মধ্যে রাজশকুন তো মহাবিপন্ন।
বাংলাদেশের পাখি গবেষকদের ২ এপ্রিল, ২০১২ প্রদেও তথ্যানুযায়ী, ৪৭টি বাংলা শকুন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের কালাছড়ার গভীর জংগলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেখা গিয়েছিল। তার পরের বছর সেখানে শকুনের পরিমাণ কমে দাড়িয়েছিল ৭টিতে। বর্তমানে কালাছড়ায় প্রায় ২০ টি বাংলা শকুন রয়েছে। এছাড়া পত্রিকার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বর, ২০১০-এ বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জের দন্ডাপাল ইউনিয়নের রাজারহাট, সুন্দরদীঘি, ফুলবাড়ী ও খকেরহাটে একঝাঁক গ্রিফন শকুন বা ইউরেশীয় গৃধিনী আসে। স্থানীয় লোকজন ৮টি দুর্বল শকুন ধরে ফেলে। পরে পঞ্চগড়ের ততকালীন জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক আটক শকুনগুলো না মারার নির্দেশ দেন। কিন্তু আহত একটি শকুন মারা যায়। পরে ১১ মার্চ, ২০১১ আরেকটি অসুস্থ শকুন মারা যায়। একই দিন বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে পঞ্চগড় যান এবং বিরল শকুনগুলো কক্সবাজারের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের শকুন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি তখন আশা করেছিলেন, শকুনগুলো সুস্থ হলেই এগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক শকুন শুমারির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে পৃথিবীর ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলা-শকুন মারা গেছে। এ কারণে অনেক দেশে পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনের ব্যবহারই নিষিদ্ধ হয়েছে এবং বিকল্প ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে ঘটা করে বাংলাদেশে ওষুধটি নিষিদ্ধ করাহয়েছে কিন্তু ওষুধটির ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। মৃত পশুর মাংস খেয়ে লোকালয় ও বনবাদাড় দূষণমুক্ত রাখার কাজে শকুনের বিকল্পনেই। পশুর ক্ষুরা ও তড়কা রোগের জীবাণু কেবল শকুন হজমের মাধ্যমে ধ্বংস করতে পারে। শকুন না থাকার কারণেই ক্ষুরা ও তড়কা রোগের প্রাধান্য বাংলাদেশে বেড়েছে। শকুনসমৃদ্ধ সুন্দরবন ও হাওরাঞ্চল এখন প্রায় শকুনশূন্য। গবাদিপশুর বিষাক্ত মাংস থেকে দূরে রাখার জন্য কোনো কোনো দেশে শকুনের আবাসে নিয়মিত কুকুর মেরে রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয় কিনা তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এছাড়াও শকুন বিলুপ্ত হবার আরো অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে শকুনের খাবার ও আবাসস্থলের সংকট। যার ফলে বাংলাদেশের শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনেরা সাধারণত পুরনো বড় বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরনো বড় বড় গাছগুলো নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে। পরিবেশ দূষণের কারণেও শকুনের ডিম থেকে ছানা হচ্ছে না। দূষণের কারণে শকুনসহ বিভিন্ন পাখির ডিমের খোলস পাতলা হয়ে যাচ্ছে এবং তার ফলে ডিম থেকে ছানা হচ্ছে না এবং অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী ‘শকুন’ কবিতার ভাষায় আমরা বলি- ‘মাঠ থেকে মাঠে মাঠে সমস্ত দুপুর ভরে এশিয়ার আকাশে আকাশে/শকুনেরা চরিতেছে; মানুষ দেখেছে হাট ঘাঁট বস্তি, নিস্তব্ধ প্রান্তর/শকুনের; যেখানে মাঠের দৃঢ় নীরবতা দাঁড়ায়েছে আকাশের পাশে’- । এছাড়াও অনেক সাহিত্যিক শকুনকে তাদের সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন। আমাদের স্লোগান হোক-
‘নির্মল প্রকৃতি ও সুস্থ প্রকৃতির জন্য মহাবিপন্ন বাংলা শকুন রক্ষা করি’

বাংলাদেশে গ্রামবাংলায় ভাত শালিকের সংখ্যা কমে আসছে

320px-common_myna_acridotheres_tristis_drinking_water_w_img_7971

যেসব পাখির কলকাকলিতে ভোরে মানুষের ঘুম ভাঙে তাদের মধ্যে ভাতশালিক অন্যতম। গ্রাম বাংলায় এমন কোন মানুষ নেই পাখিটির সঙ্গে যার পরিচয় নেই। পাখিটি দেখেনি এমন গ্রামের মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পাখি বিশারদের মতে বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বে এদের সংখ্যা বাড়লেও গ্রাম বাংলায় কমে আসছে। সে কারণে আইইউসিএনএই প্রজাতিটিকে নূন্যতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। দেশের বন্যপ্রাণি আইনেও এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।পাখি বিশারদদের মতে এই প্রজাতির শালিক এখনও গ্রাম বাংলার সর্বত্রই দেখা গেলেও সংখ্যায় আগের তুলনায় কমে গেছে। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে বলে বিরূপ অবস্থাতেও টিকে আছে। এরা সবকিছু খাওয়ার পাশাপাশি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে থাকতেই ভালবাসে। মানুষের আহার্য ভাত, তরকারি, চাল, চিড়া, মুড়ি খেতে অভ্যস্ত। সুযোগ পেলে জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে খাবার খেয়ে পালিয়ে যায়।

ভাতশালিকের পরিচিতি
ভাতশালিকের দেহের বেশিরভাগ অংশজুড়ে রয়েছে বাদামি রঙ। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড় কালচে। বুকের ওপরের অংশ ও লেজ ওপরে ঢাকনিও কালো। দেহের বাকি অংশ কালচে বাদামি। কোন ঝুঁটি নেই। এর ডানার সাদা পট্টি ওড়ার সময় স্পষ্ট হয়। একইভাবে স্পষ্ট হয় লেজের প্রান্তভাগ। চোখের নিচে ও পেছনের পালকহীন চামড়া হলুদ। চোখ বাদামি বা লালচে বাদামি। ঠোঁট হলুদ। নিচের ঠোঁটের গোড়া সামান্য বাদামি সবুজ। পা, পায়ের পাতা ও নখর হলুদ। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা একই রকম, কেবল আকারে সামান্য ভিন্নতা দেখা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা সামান্য বাদামি কালো এবং গলা ও বুক অপেক্ষাকৃত ফিকে বাদামি। এরা যত্রতত্র চিকন ডালপালা ও আঁশ দিয়ে গোলাকার বাসা তৈরি করে। ইংরেজীতে এদের ‘কমন ময়না’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে ভাতশালিক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ভাতশালিক এশিয়ার আবাসিক পাখি। আদিনিবাস ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। এছাড়া তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, কিরঘিজিস্তান এবং মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোচীন ও চীনও এদের মূল আবাস।
এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এদের দেখা মেলে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইল, নিউজিল্যান্ড, নিউ ক্যালিডোনিয়া, হাওয়াই, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ (সেসেলস, মরিশাস, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপ) এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহে প্রজাতিটির দেখা মেলে। ভাতশালিক বসত বাড়ির আশপাশেই গাছের ডালে বাস করে। ভোরে যেসব পাখির কলকাকলিতে মানুষের ঘুম ভাঙে, ভাতশালিক তাদের অন্যতম। দিনের অবসর সময়ে এরা প্রচুর শব্দ করে ডাকাডাকি করে। এদের ডাক বেশ বিচিত্র। উচ্চকণ্ঠে চিড়িক শব্দে ডাক দেয়, শিস দেয়, ঘর ঘর শব্দ করে। প্রায়ই পালক ফুলিয়ে মাথা ওপর নিচ ঝাঁকিয়ে ডাকাডাকি করে। ঘরে ফেরার আগে বা বিশ্রামের আগেও এরা দলবদ্ধ হয়ে ডাকাডাকি করে। ভয় পেলে বা আশপাশে বিপদের আভাস পেলে চকে চকে শব্দে ডেকে দলের অন্য সদস্যদের সতর্ক করে দেয়। উড়ে পালানোর সময়ও একই রকম আওয়াজ করে। মানুষের কথাও অনুকরণ করতে পারদর্শী। অন্য সব পাখি আর জীবজন্তুর ডাকও নকল করতে পারে। ফলে কথা বলা পাখি আর গায়ক পাখি হিসেবে ভাতশালিক বেশ সমাদরে পালন করা হয়। পাখি বিশারদরা বলছেন, অন্য সব শালিকের মতো ভাতশালিকও সর্বভূক। শহর, গ্রাম, প্রান্তর, ডাস্টবিন সর্বত্রই এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। পোকামাকড়ের সন্ধানে ঘাসজমিতে এদের প্রায়সই লাফিয়ে লাফিয়ে চরে বেড়াতে দেখা যায়। মূলত এরা ঘাসফড়িং বা পঙ্গপাল খুঁজে খুঁজে শিকার করে খায়। সে জন্যই এর বৈজ্ঞানিক নাম হয়েছে পঙ্গপাল শিকারী। শুধু ভূমি থেকে নয়, অন্যান্য উৎস থেকেও বিচিত্র রকমের পতঙ্গ এরা আহার করে। পোকামাকড়ের সন্ধানে এরা তৃণভূমিতে গবাদিপশুর পেছনে পেছনে ঘুরে বেড়ায়।

টিয়া পাখির তেমন একটা দেখা মেলে না
বাংলাদেশে ৭ জাতের টিয়া পাখি রয়েছে। টিয়া পরিযায়ি পাখি না হলেও এখন এতদঞ্চলে এ পাখীর খুববেশী একটা দেখা মেলে না। ৬০ এর দশকেও এ অঞ্চলে শীত মৌশুমে টিয়ার দেখা মিলতো। গ্রামের আশে পাশের সব্জীর জমিগুলোর বেড়া হিসেবে বপন করা হতো কুশুম ফুল গাছ। এ গাছের পাতাগুলোর সাথে থাকতো অসংখ্য কাঁটা। এ কাঁটার কারনে ছাগল, ভেড়া, গরু এর পাশে ভীড়তে পাড়তো না। কুশুম ফুল গাছে গাঁড়ো হলুদ রংগের ফুল ফুটতো, ফলও হতো। ঐ ফলের বীজ ছিল টিয়া পাখির প্রিয় খারার ছিল। গাঁড়ো সবুজ রংগের টিয়াপাখিগুলো যখন কুশুম ফুল গাছের মধ্যে ঢুকে ফল খেত, তখন পাছের পাতার রংগের সাথে একদম মিশে যেত এ কারনে টিয়পাখি ধরতে গিয়ে অনেক শিশু কিশোররা বোঁকা বনে যেত। এ ছাড়াও বড়বড় কামরাঙ্গা গাছ ছিল পাখির অস্থায়ি আবাস স্থল। এরা কামরাঙ্গা কুঁচি কুঁচিকরে কেটে এর রস খেতো। ছোবরাগুলো ফেলতো মাটিতে। চাষাবাদের ধরণ পাল্টে যাওয়া সহ টিয়াপাখির বসবাসগোগ্য বৃক্ষের অভাবে এখন আর এতদঞ্চলে আর টিয়া পাখি খুববেশী একটা দেখা যায়না। তবে পত্র পত্রিকার সুবাদে আমরা এলাকায় টিয়াপাখির খবর পাই। কিন্তু খবরগুলো যেমন দুঃখজন তেমনি হতাশাব্যঞ্জক। চলতি বছরের ২৯ আগষ্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানতে পারি রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খাঁচায় বন্দী পাঁচ শ’ টিয়া পাখিসহ এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঐদিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে মফিজ উদ্দিন (৪০) নামে এক পাচারকারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে খাঁচাবন্দী পাঁচ শ’ টিয়াপাখি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মফিজ উদ্দিনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হলে বিচারক ফয়সাল হক তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। মফিজের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার কুমারখালী গ্রামে। তার পিতার নাম সাইদুল হক। ঐ সময় কনকর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এর আগেও মফিজ রাজশাহী থেকে পাখি পাচার করে নিয়ে যাওয়ার সময় বন বিভাগের অভিযানে আটক হয়েছিল। সেবার তার কাছ থেকে আট শ’ পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল; যা রাজশাহীতে সর্বোচ্চ পাখি আটকের রেকর্ড বলেও জানিয়েছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী। তিনি সেদিন বলেছিলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শ’ টিয়াপাখিসহ পাচারকারী মফিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। সে পাখিগুলো নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। বনবিভাগের ঐ কর্মকর্ত আজকের এ আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রেখে এলাকাবাসীকে আরো স্বচেতন করতে পারবেন।

দেখা মেলেনা সুই চোরা পাখির
আমাদের দেশে ৪ জাতের সুইচোরা পাখি থাকলেও এতদঞ্চলে সবুজ রঙের সুইচোরা পাখির অবস্থান ছিল শীর্ষে। এলাকার করতোয়া সহ আশে পাশের ছোট-বড় নদী ও খালপাড়ের মাটিখুড়ে নদীর পাড়ে এরা বাঁশা তৈরী করতো। শিশু-কিশোরের দল নদীতে গোছল করতে গিয়ে খেলার ছলে সুইচোরা ধরতে গিয়ে নদীর পাড়ে খোঁড়া মাটির গর্তে পাখির বাসায় হাত ঢুকিয়ে দিয়ে অনেকেই ধোড়া সাপেড় কামড় খেয়েছে এ ধরনের অনেক উধারণ ছিল। কিন্তু সেই সুইচোরা পাখি আর ধোড়া সাপের দেখা মেলে না। নদীর পাড়ও নেই। নদীনালা খালবিল শুকিয়ে যাচ্ছে। ভরাট হয়ে যাচ্ছে সেগুলো। অনেক নদীর অস্তি¡ই নেই।

প্যাঁচার সংখ্যা কমে গেছে
আমাদের দেশে ১৪ জাতের প্যাঁচা থাকলেও লক্ষ্মী প্যাঁচার জাত ১টি। আমাদের কৃষি সংস্কৃতিতে লক্ষèী প্যাঁচাকে কৃষির উন্নয়নের, ফসল ফলণের শুভ-অ-শুভের দিক দর্শনের বাহক হিসেবে মনে করা হতো। যে গ্রামে ও যে বাড়ীতে লক্ষèী প্যঁচা নেই সে গ্রাম ভালো নয়, সেবাড়ীও ভালো ছিল না। অর্থাৎ তাদের কোন উন্নতি হতো না বলে মনে করা হতো। বাস্তবেও এটি সত্য ছিল। লক্ষèী প্যাঁচা ছিল লক্ষèীর বাহন। শুভ অ-শুভের প্রতিক। প্যাঁচার দল রাতভর ফসলের জমির ক্ষতিকর কীটপতঙ্গগুলো ধরে ধরে খেত, জমির উর্ব্বরতা শক্তিবৃদ্ধি সহ অধিক ফসল ফলনের সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। সাড়াদিন কৃষকের বাড়ীর ঘড়ের চংাড়ায় অথবা বাড়ীর কোন বড় বৃক্ষের ঘন পাতার আঁধারে বাসা বেঁধে বসবাস করতো। পরিবারের সদস্যরাসহ শিশু কিশোরাও প্যাঁচার প্রতি সুতীক্ষè দৃষ্টি রাখতো, যাতে কেই প্যাঁচার কোন ক্ষতি করতে না পারে। এমন কি ঝড়ের কবলে কিম্বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্যাঁচা ক্ষতিগ্রস্থ হলে কিম্বা আহত হলে তাকে বাড়ীতে নিয়ে এসে সেবা সশ্রুষা করা হত। শুস্থ হলে তাকে আবার ছেড়ে দেয়া হত। আর গ্রামে গভীর ও শেষ রাতে হুতুম প্যাঁচার হুতুম, হুতুম গম্ভীর শব্দের ডাক শোনেনি এমন শিশু কিশোর সে সময়ে ছিল না। এখন যারা বয়োবৃদ্ধ তাদের স্মৃতিপটে সেগুলো গাথা রয়েছে। রাসায়নিক কৃষির বিরূপ প্রভাবের ফলে আমাদের কৃষি সংস্কৃতির লক্ষèীর প্রতিক লক্ষèী প্যাঁচাসহ অন্যান্য প্যাঁচার আর খুব একটা দেখা মিলছে না। অবশেষে প্যাঁচা দেখতে এবং চিনতে কি আমাদের আাগামি প্রজন্মকে চিড়িয়া খানাতে যেতে হবে। প্যাঁচার জাত প্রজাতি রক্ষায় আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে। আসুন আমরা সোচ্চার হই প্রকৃতির লক্ষèীকে আমরা আমাদের মাঝে সংরক্ষণ করি। আমাদের আগামি দিনের শিশুরা বলতে শিখুক “প্যাঁচা তোর এ কান পঁচা ঐ কান দেখা”। এভাবেই আমাদের দেশে অনেক পাখি বিপন্নের পথে। আমরা কবিতার ভাষায় এভাবে বলতে পারি-

‘ভাতশালিকের এ দেশে’

চড়ই-বাবই-খঞ্জন-তুলিকা-মুনিয়া-লালঝুটি শালিক-গাঙশালিক-আর ভাত শালিকের এ দেশে, সবাই আমরা ছিলাম ভালো একত্রে মিলে মিশে//প্রকৃতির নির্ভেজাল-নির্লোভ আচ্ছাদনে ছিলাম আমরা বেশ, অধিক ফসল ফলানোর নামে রাসায়নিক কৃষি আমাদের করতে চলেছে শেষ//ককিল ডাকতো কূহু-কূহু,বউ কথা কও সুরে-সুরে, সুর মিলিয়ে কন্ঠস্বরে দিলে উত্তর আবার ডাকতো বারে-বারে//নদীপাড়ে ছোটবগা-মাঝলাবগা-লালচেবগা-বড়বগার আর মেলেনা দেখা, নদীনালা-খালবিল শুকিয়ে হয়েছে সব ফাঁকা// ছোট পানকৌড়ি-বড় পানকৌড়ি আর ফটিক জ্বল আকাশ পানে তাকিয়ে শুধু করছে ছল, আহবান করছে খোদাতালায় দাও-দাও ফিড়িয়ে নদীর জ্বল// বাংলা বুলবুল-মেটে বুলবুল-সিপাহী বুলবুল-কালাঝুটি বুলবুল- ধলা বুলবুল-জলপাই বুলবুলের খুব একটা দেখা মেলেনা আর, প্রকৃতির মাঝে আপনজালা সব পুরাতন বৃক্ষ সব কেঁটে করা হয়েছে উজাড়// একাশিয়া আর ইউকিলিপটাস গাছে দেশ হয়েছে ভরপুর, সবাই বলে প্রকৃতি বিদ্ধংসী গাছ মিলছেনা উচ্ছেদের সুর// নীলদাড়ি সুইচোর-খয়রামাথা সুইচোরা-সবুজ সুইচোরা- নীললেজ সুইচোরা- দেখা যায়না নদীপাড়ে, তারা সব কোথায় গেলো কেউ খোঁজেনা তারে// লালঝুটিয়াল মাছরাঙা-পাকড়া মাছরাঙা-লম্বাঠুটো মাছরাঙা আর ধরে না মাছ, নানা বর্ণের কাঠকুড়ালি কাঠুকরিয়ে ফিরছেনা এ-গাছ ও-গাছ// লক্ষ্মী প্যাঁচা-হুতোম প্যাঁচা-মেছো প্যাঁচা-ছোটকান প্যাঁচার দেখা পাওয়া যায় অকসাৎ, তাহলে কি লক্ষ্মী প্রতিক দেশ থেকে হয়ে যাচ্ছে নস্যাৎ// আকাশে উড়ে না এখন চিল-বাজ-শকুন, এদেরেকে চিনতে হলে এখন চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখুন// নানা নামের গাঙচিল আর পানচিলে থাকতো ছেয়ে নদীর ওপরের আকাশে, হঠাৎ করেই ওরা কি সব মিলিয়ে গেল বাতাশে// ঘুঘু পাখি-দেশি সারস-পাতি সারস-রাতচরাদের এইদেশে, প্রকৃতির সাথে সম্বন্ধ রেখে পাখিদের সাথে ছিলেম মিলে মিশে// মানুষের দল সব করে রব রাত্রি পোহাইলো, প্রজন্মের প্রজন্ম রক্ষায় পাখিরা সব গেল কোথায় জানার চেষ্টা করাটাই ভালো// বটগাছ গেল-পাইকর গেল-উচ্ছেদ হলো ছোটবড় পুড়াতন সব গাছ, নদী গেল-খাল গেল-বিল গেল মিলছেনা আর মাছ// সারে-বিষে মিলে-মিশে প্রকৃতি-পরিবেশ আর কৃষিজমি করছে ছাড়খার, এ বিষয়ে জ্ঞানী-গুনিরা এখনো করছে না চিৎকার, এভাবে চলতে থাকলে আগামি প্রজন্মকে ব্যাপক হারে নিজেদেরই করতে হবে নিজের স্বজনদের সৎকার//

তোতাপাখির জন্যে নতুন জঙ্গল
pসম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানাগেছে, তোতাপাখির জন্য নতুন জঙ্গল তৈরি হচ্ছে। শুধু তোতাপাখির জন্যে কি নতুন করে কেউ জঙ্গল তৈরি করে ? হ্যাঁ, এমনই জঙ্গল তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। শুধু তোতাপাখিই যে এ জঙ্গলের উপকার পাবে তা নয়, জঙ্গল উজাড়ের ফলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি শঙ্কাও কাটাবে জঙ্গল। দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলে এখনও হাজার বছরের বেশি বয়সের বৃক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। এমনই একটি গাছ ইয়েলোউড। আগে এরকম গাছে সেখানকার জঙ্গল ভর্তি ছিল। এখন এ গাছ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে হারাচ্ছে ফলও। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে হলুদ কাঠের চাহিদা বাড়ছে। গত ৩৫০ বছর ধরেই চাহিদা বাড়তির দিকে। কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. স্টিভ বয়েস এ বিষয়ে বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল ইয়েলোউড। রেলওয়ে স্লিপার এবং খনির কাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্যে এরকম লাখ লাখ গাছ কাটা হয়েছে। আর এখন সুন্দর রংয়ের জন্য ইয়েলোউড বিশ্বের অন্যতম দামি কাঠ। অনেক জায়গায় কিউবিক মিটার প্রতি এ গাছের মূল্য তিন হাজার ইউরো।’দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বর্তমানে ইয়েলোউড গাছ কাটার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। উদ্দেশ্য এসব গাছের ব্যাপক নিধন ঠেকানো। তা সত্ত্বেও অবৈধভাবে এগুলো এখনও কাটা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় অমূল্য গাছ ইয়েলোউড হারিয়ে যাবে।ইয়েলোউড ফলে থাকা ‘অ্যান্টি ভাইরাল এজেন্ট’ সম্ভবত কেপ তোতাপাখির জন্যে আদর্শ। এ ফলের অভাবে পাখিগুলো একর্ন এবং একরকম বাদাম খাচ্ছে। সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো নয়। তাছাড়া ইয়েলোউড ফল না থাকায় এখন বছরে দু’মাস তাদের কার্যত অভুক্ত থাকতে হয়। তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের অভিমত, পরিস্থিতি সম্ভবত এখনও পুরোপুরি হতাশাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি। বংশবৃদ্ধির জন্যে কেপ তোতাপাখির বিশেষ ঘরের দরকার হয়। ‘কেপ প্যারোট’ প্রকল্প তাই জঙ্গলের গাছে শতাধিক ঘর ঝুলিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এ প্রকল্পের অধীনে নতুন করে বনায়ন কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে, যেখানে অনেক ইয়েলোউড গাছ লাগানো হবে। তখন তোতারাও সারা বছর তাদের উপযুক্ত খাবার পাবে। কেপ প্যারোট প্রকল্প এজন্যে গ্রামবাসীদের টাকা দিচ্ছে। গাছ প্রতি এক ইউরো। আর এগুলো পরবর্তী সময়ে দেখাশোনার জন্যে আরও টাকা পাবেন তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল এটি। সরকারের এ প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছেন স্থানীয়রা।

‘কক্সবাজারের কুদুম গুহা’

73724321

পাহাড়ের গুহায় হাজারো পাখির বাসা
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, আকর্ষণ করে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। পর্যটকরা ভ্রমণে এসে সাগর ছাড়াও প্রাকৃতিক নানা নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন। সমুদ্র ঘেঁষে বিশাল বিশাল পাহাড়, একই সাগরে দুই রকমের পানি। প্রকৃতির অদৃশ্য বাঁধ দু’রকমের পানিকে আলাদা করে রেখেছে। দু’রংয়ের ওই পানির ওপর দিয়ে চলছে শত শত ট্রলার। কিন্তু পানি মিশছে না, যার যার অবস্থানে যেন অনড়। নীল আর সাদা পানি একত্রে মিশ্রিত করার কোন সুযোগ নেই। সমুদ্রের পানির নিচে বড় বড় পাথর-কোরাল এবং এসব পাথরের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের লাফালাফি সত্যিই উপভোগ্য। এসব দৃশ্য দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন পর্যটকরা।
এছাড়াও সৈকত সংলগ্ন পাহাড়ে ছোট ছোট ছিদ্র করে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার পাখি। পর্যটকরা সৈকত শহর কক্সবাজার থেকে কলাতলী হয়ে মেরিন ড্রাইভের ওপর দিয়ে পাথুরে বিচ ইনানী যাওয়ার সময় দেখতে পান পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ। ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় ইনানী থেকে শহরে ফেরার পথে চোখে পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য- পাহাড়ের বুকে পাখিদের বাসা। আর সেসব বাসার সামনে হাজারো পাখির কলকাকলি, এলোপাতাড়ি ওড়াউড়ি দেখতে রীতিমতো ভিড় লেগে যায় পর্যটকদের। হাজারো পাখির কলকাকলি আর ওড়াউড়ির দৃশ্য দেখে মন ভরে যায় সবার। পাহাড়ের বুকে ছোট ছোট গর্তে পাখির বসবাসের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটি সত্যি বিরল।
দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামু বৌদ্ধ পল্লী, রামকোট, একশ’ ফুট লম্বা গৌতম বুদ্ধমূর্তি, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী পাথুরে বীচ, শাহপরী দ্বীপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, টেকনাফ মাথিনের কূপ, নিদানিয়া কানাই রাজার গুহা ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট রয়েছে কক্সবাজার জেলাজুড়ে।
বিভিন্ন সময়ে সারা পৃথিবী থেকে এদেশে যেসব পরিযায়ী পাখি আসে, সেগুলো পরিবেশ দূষণসহ নানা মনুষ্যসৃষ্ট প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হয়। পাখির নিরাপত্তাসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে সবুজ প্রকৃতি পরিবেশ জনগণের অংশগ্রহণে রক্ষার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে সচেতন মহল। পাখিসহ নানা জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিও জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কক্সবাজারের টেকনাফ ‘কুদুমগুহা’ পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পাহাড়ের গাঁ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক শতাব্দীর পুরনো ওই ‘কুদুমগুহা’। প্রাকৃতিক এই গুহা নিয়ে রয়েছে নানা কিংবদন্তি। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ৬১ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের গহীন অরণ্যের এই গুহা নিয়েই গড়ে উঠছে পর্যটন কেন্দ্র্র। ইতোমধ্যে ইউএসএইডের অর্থায়নে ৫০ হাজার মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং গহীন অরণ্যের হরিখোলা চাকমা পল্লী থেকে পায়ে হেঁটে আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ। ঘণ্টাখানেক চলার পর দেখা মেলে আশ্চর্য এই গুহা। ভেতরে হিমশীতল জল। কোথাও কোমর, কোথাও গলা সমান পানি। চাকমা শব্দ ‘কুদুং অও’ থেকে এর নামকরণ করা হয় ‘কুদুমগুহা’। জনশ্রুতি আছে- ওখানে এক পরী বাস করত। মিয়ানমারের (বার্মা) এক ওঝা (বৈদ্য) এসে তাকে হত্যা করে। সেই থেকে এ গুহাটি এভাবেই পড়ে আছে। প্রায় ১২০ মিটার লম্বা আর আট ফুট প্রস্থ গুহায় দেখা মেলে চামচিকা, বানর, সাপসহ নানা বন্যপ্রাণির।

কারেন্ট জাল হত্যা করছে পাখি মাছ, ধ্বংস করছে প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ, ধ্বংস করছে পৃথিবী
সারা দেশে কুল ও বরই চাষকালীন সময়ে কুল-বরই গাছের ওপরে কারেন্ট জাল টানানো হয় পাখিদের হাত থেকে কুল-বরই রক্ষা করার জন্য। রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা, নওগাঁ ও দিনাজপুরের কয়েকটি উপজেলা এবং পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় এখন কুল বরই চাষের জন্য বরই ক্ষেতের উপরে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার পাখি নিধন করা হচ্ছে। শত শত বছর ধরে কুল পাখিরা খেলেও কৃষক কারেন্ট জাল ব্যবহার করতেন না। এখন কেন তারা এ-কাজ করছেন ? এর জবাব হচ্ছে পাখিদের প্রাকৃতিক খাবার কমে যাওয়া। উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশে প্রকৃতি বিধ্বংসী ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, ইপিলইপিল, লম্বু ইত্যাদি ক্ষতিকর আগ্রাসি প্রজাতির গাছ গত ৩০ বছর লাগানো হয়েছে। এসব গাছে পাখির কোনো খাবার নেই। পাখির প্রাকৃতিক খাবার সরবরাহকারী দেশি গাছগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই অবস্থায় আমাদের প্রকৃতির অনিবার্য অনুষঙ্গ এই পাখি মারা যাবেই। পাখি বাঁচাতে হলে দেশি গাছ রোপণ করতে হবে। কারেন্ট জাল শুধু পাখিই হত্যা করছে না, কারেন্ট জাল গোটা পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। ব্যবসাহীন, মুনাফাহীন একটি সমাজ পারে কেবল পৃথিবীকে বাঁচাতে।

“পাখি শিকারি”
ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে হেমন্তের আগমন ঘটতে চলেছে, শীতও আসন্ন। আগমন ঘটবে শীতের পরিযায়ী পাখিদেরও। শুধু ভরা শীতেই নয়, অক্টোবরের মধ্যেও কিছু কিছু প্রজাতির আগমন ঘটে দেশে। মূলত এ পরিযায়ী পাখিরা আমাদের দেশে আসে উষ্ণতার খোঁজে এবং খাবারের সন্ধানে। দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে ওরা অতিথি পাখি নামে পরিচিত। আসলে ওরা অতিথি নয়, পরিযায়ী পাখি। শব্দ দুটির মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও পাখি শিকারীরা দুটি শব্দের অর্থকে এক করে ফেলেন। এতে করে ওদের লাভ বৈ লোকসান হয় না। কারণ রসনাবিলাসীরা অতিথি পাখির মাংসের প্রতি দুর্বল থাকেন। তাদের চাহিদার কারণে নির্মমতার শিকার হয় পরিযায়ী পাখিরা।
প্রতিবছর এ ধরনের সংবাদ খবরের কাগজ মারফত আমরা জানতে পারি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে পাবনা, নাটোর,সিরাজগঞ্জ জেলাসহ বৃহৎ চলনবিল, করতোয়া, বড়াল ্হুড়াসাগর, যমুনা ও আশেপাশের নদী ও বিলে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটবে। পাখি শিকারীরা শিকারের মহা-উৎসবে মেতে উঠবে। দিনে দুপুরে নিধন করা হবে শত শত পাখি। এ পাখি প্রকাশ্যে বিক্রিও করা হবে। ফাঁদ পেতে বা বিষ টোপ প্রয়োগে যারা পাখি নিধন করে, তদের আর যাই হোক পাখি শিকারি বলা যায় না। আমাদের চোখে তারা দুস্কৃতিকারী। যেখানে আমাদের দেশে ‘বালিহাঁস’ মহাবিপন্নের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, সেখানে চলনবিল এলাকায় একজোড়া বালিহাঁস বিক্রি হয় মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা! এর চেয়ে দুঃখজনক সংবাদ আর কি হতে পারে । শুধু এটুকুই বলব, আমাদের পরিবেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে যারা, ওদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বনের পাখিরা। ওরা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করছে না, ওরা আমাদের প্রকৃতির কঠিন পরিবেশে খাপ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। অভিযোগ রয়েছে, পাখিরা আমাদের ফল-শস্যাদি খেয়ে ফেলছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই ফলটা খেয়ে দূরে কোথাও গিয়ে মল ত্যাগের মাধ্যমে বনায়ন সৃষ্টি করছে। আর বন হলো অক্সিজেন তৈরির কারখানা। যে অক্সিজেন স্বাশ প্রশাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে আমরা বেঁচে থাকি। আরও অবাক করা তথ্য হচ্ছে, হাওড়াঞ্চলের মানুষের ধারণা, পরিযায়ী পাখিরা শুধু তাদের ফসল খেয়েই বিনষ্ট করছে। অথচ পরিসংখ্যানে দেখাযায়, সেই পরিযায়ী পাখিরা হাওড়েই প্রতিদিন একটনের বেশি বিষ্ঠাত্যাগ করছে। যার ফলে ফসলের গাছ-গাছালি ও মাছেরা পাচ্ছে উপযুক্ত খাবার। উপকারী বন্ধু পরিযায়ী পাখিসহ অন্যান্য পাখি নিধন করা দুষ্কৃতকারীদের এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ওদের খাবারে বিষ মাখিয়ে, বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করা হচ্ছে। কি জঘন্য কাজই না করছে ওরা। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার ফলে আজ দেশ থেকে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। যেমন হারিয়েছে ফ্লোরিকান ময়ূর, পিংক মাথা হাঁস ও রাজশকুন। আর হারিয়ে যেতে বসেছে ভাদিহাঁস, বালিহাঁস, দিগহাঁস, কালো তিতির, চন্দনা, বাংলা শকুন ইত্যাদি প্রজাতির পাখি। এ ছাড়াও আরও ১৯ প্রজাতির পাখি মহাবিপন্নের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
বিষয়টা ভাবতেই কষ্ট হয়। আরো কষ্ট লাগে পরিবেশটা ভারসাম্য হারিয়ে পঙ্গু হতে দেখে। এ নিধন দ্রুত বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে অন্ধকারের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে। তাই আমাদের উচিত প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে বন্যপ্রাণীদের ওপর যেন অত্যাচার নিপীড়ন না ঘটে তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি দেয়া। কাজটি কিন্তু ইচ্ছে করলেই আমর করতে পারি।

“মামুনের পাখির বাসা”

18-06-2015

প্রমাণস্বরূপ বলতে হয়, আগনুকালি গ্রামের যে ছেলেটি এক সময় ফাঁদ পেতে বা ঢিলছুঁড়ে পাখি শিকার করত, সে এখন দি বার্ড সেফটি হাউস (পাখির নিরাপত্তা) বিধানে এলাকার যুবকদের সাথে নিয়ে গাছে গাছে পাখির বাসা বেঁধে দিয়ে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরী করার মাধ্যমে পাখি সংরক্ষনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় তার এ প্রশংসনীয় ও সাহসী উদ্যোগ প্রচার-প্রচারণার বদৌলতে।এখন দেশের বেশ কয়েটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনামে স্থান পেয়েছে “মামুনের পাখির বাসা”। একাধিক টিভি চ্যানেল স্ব-চিত্র প্রতিবেতন করেছে “ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের আগনুকালি গ্রাম এখন পাখির অভয়ারণ্য, গাছে গাছে বাঁধা হচ্ছে মাটির কলস, কলসে ইতোমধ্যে বাসা বেঁধেছে পাখিরা”। গ্রামের মামুন নামের ছেলেটির চরিত্র পাল্টে গেছে, সে এখন পাখি নিধন না করে বরং পাখি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি পাখি সংরক্ষনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহন করায়। মাসুনের মত সব মানুষের চরিত্র পাল্লাটাতে হবে। পাখি আমাদের বন্ধু, বন্ধুদেও রক্ষা করতে হবে, তাদেরকে সংরক্ষণ করার দায়িত্বও আমাদের নিজেদের স্বার্থেই করতে হবে। তাই পাখীসহ বন্যপ্রানি রক্ষায় ব্যপকভাবে প্রচার প্রচারণাসহ আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। যাতে প্রকাশ্য দিবালোকে কেউ বন্যপ্রাণি নিধন করতে না পারে।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন’

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত

23577_1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের জন্য অর্জিত হয়েছে এক বিরল আন্তর্জাতিক সম্মান। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কার। এটি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান। আমরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত ২৮ সেপ্টম্বর/১৫ বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘ পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক এখিম স্টেইনারের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কার গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই পুরস্কার বাংলাদেশের জনগণের অজেয় মনোভাব ও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি। ‘আমি আমার জনগণের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি। তাদের সমর্থন ছাড়া এটা পুরোপুরি অসম্ভব ছিল। এই কথা বলার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সারা পৃথিবী জানে, বাংলাদেশ প্রায়ই খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। কিন্তু প্রকৃতির এসব বিরুদ্ধতার মুখে এ দেশের মানুষের টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি-সহিষ্ণুতার খবর বহির্বিশ্বের মানুষ কমই জানে। প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ সম্মাননা পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর জানার সুযোগ হলো যে বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃতির প্রতিকূলতার মুখে শুধু টিকে থাকতেই জানে না, বরং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো দক্ষভাবে মোকাবিলা করার সুদূরপ্রসারী কর্মকৌশলও নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ৪০ লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ চালু করে বিশ্বে প্রথম ‘সোলার জাতি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হওয়ার পরেও বাংলাদেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে, ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে গত ২৬ সেপ্টম্বর/১৫ শনিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ তুলে দেন আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের মহাসচিব হুলিন ঝাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক এসব স্বীকৃতি ও সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক।

বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন
সরকার ইতোমধ্যে বন্যপ্রাণি রক্ষার্থে কিছু ভাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ পাস করেছে। ওই আইনের ১নং ও ২নং তফসিলে ৬৫০ প্রজাতির পাখিকে ‘প্রোটেক্টেড বার্ড’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিযায়ী পাখি শিকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড- অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সুন্দরবন ও টাংঙ্গুয়ার হাওড়কে ‘রামসার সাইট’ ঘোষণা করেছে। অপরদিকে টাঙ্গুয়ার হাওর, হাইল হাওড়, হাকালুকি হাওড়, নিঝুম দ্বীপ ও সোনাদিয়া দ্বীপকে ‘ফ্লাইওয়ে সাইট’ ঘোষণা করেছে। এ সকল এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্ট্রেংদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়ার্ল্ড লাইফ প্রটেকশন’ প্রকল্পের আওতায় বনবিভাগ-এনজিও-বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। শকুনের মরণঘাতী ওষুধ ডাইক্লোফেনাক উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বন্যপ্রাণি প্রেমীদেরর উৎসাহিত করতে ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ প্রদান করছে। উদ্ধারকৃত ও আহত পাখির সেবাদানে সারাদেশে ৪টি অঞ্চলে ‘বন্যপ্রাণি উদ্ধার কেন্দ্র’ স্থাপন করেছে। পাখি সমৃদ্ধ এলাকাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ‘ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইন ২০১২-তে উল্লেখ আছে, বাঘ বা হাতি হত্যা করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা; ৭ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। অন্যসব বন্যপ্রাণি শিকার করলে অথবা আইন লঙ্ঘনকারীকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১ বছর কারাদন্ডের কথা বলা আছে। আইনটি বাস্তবায়ন হলে অনেক বিপন্ন বন্যপ্রাণি রক্ষা পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু আইন পাস হলেই চলবে না, তার প্রয়োগও হতে হবে যথাযথ। বাস্তবে আইন তেমন একটা প্রয়োগ হচ্ছে না আমাদের দেশে। তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, দ্রুত বন্যপ্রাণি নিধন আইন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে এগিয়ে আসুন। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ইতোমধ্যে। নিজে একজন পরিবেশকর্মী হয়ে তাঁর এ গৌরবান্বিত অর্জনের অংশীদারিত্ববোধ করছি এবং প্রত্যাশা করছি, তিনি আইনটি বাস্তবায়নে কঠোর দিকনির্দেশনা দেবেন।

পাখি বাঁচাতে ও বাড়াতে আমাদের করণীয়
বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে পাখির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। পাখি বা পাখির গান যেখানে নেই সে জায়গা অবরুদ্ধ, দূষিত। সেখানকার প্রকৃতি ও নিসর্গে প্রাণ নেই। কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ হলো পাখি, যা প্রকৃতি প্রেমিসহ সব মানুষের মনকে সবসময় দোলা দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৫৬ প্রজাতির পাখি দেখা যায়, যদিও মনে করা হয় বাংলাদেশে ২০০ বছর আগে ৮০০ প্রজাতির বেশি পাখি পাওয়া যেত। বাংলাদেশ থেকে গত ২০০ বছরে হারিয়ে গেছে প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি আর রাজধানী ঢাকা শহর থেকে গত দুই দশকে শতকরা ৫০ ভাগ প্রজাতির পাখিই হারিয়ে গেছে। আমরা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি তবে আগামি দশ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে আরো ৪০০ প্রজাতির পাখি। পাখি হারিয়ে যাবার মূল কারণগুলো হলো জলাশয় ভরাট, অবাধে গাছপালা কাটা, নিম্নভূমিগুলো দখল করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা। এসব ভূমিদস্যুর কারণেই আজকে জীববৈচিত্র্য/প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। অথচ একটি এলাকার উদ্ভিদকুল, প্রাণিকুল, জলাশয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বনভূমি ও পুরনো গাছপালা রক্ষা করা:- পাখি বেঁচে থাকার জন্য দরকার ঘন গাছপালাযুক্ত এলাকা। দেশের সর্বত্রই গাছপালা কমে যাওয়ায় এখন অনেক প্রজাতির পাখিই চোখে পড়ে না। এমনিভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পাখির বিভিন্ন প্রজাতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ভবনের নামে কাটা হয় পুরনো গাছগুলো। অথচ এসব গাছের সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের সম্পর্কের কথা ভুলে গেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরনো বা মৃত গাছের গর্র্তে নানা পাখি ও অন্যান্য প্রাণি বাসা বাঁধে বা আতœরক্ষা করে। পুরনো গাছ না থাকার কারণে অনেক প্রজাতির পাখিসহ বিড়াল পরিবারের প্রাণিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সূত্রমতে, হার্ভে নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক গুলশান এলাকায় প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি দেখার কথা বর্ণনা করেন, যা বর্তমান সময়ে কল্পনাও করা যায় না। এর একটাই কারণ প্রাচীন বৃক্ষ নিধন।

পাখির ব্যাবসা বন্ধ করা:- কিছু অসাধু পাখি ব্যবসায়ী পাখির বিভিন্ন প্রজাতিকে ধ্বংস করছে। পাখি ব্যবসা বন্ধ করা জরুরি।

পাখি শিকার বন্ধ করা:- বাংলাদেশে পাখি শিকার করা হয় নানাভাবে। সব রকমের পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখা দরকার, আমরা মানুষ তৈরি করতে পারি, কিন্তু পাখি তৈরি করতে পারি না।

জলাভূমি ছাড়তে হবে:- জীববৈচিত্র্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে জলাশয় রক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প উপায় নেই। ইতিমধ্যে যেসব জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে আর যেগুলো আছে সেগুলো সংরক্ষণ খুবই জরুরি। ড. আলী রেজা খান এর মতে- “সবার আগে দরকার বন্য প্রাণী এবং তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র বন্য প্রাণি পরিদপ্তর গঠন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে পরিবেশ, বন্য প্রাণি ও বন মন্ত্রণালয় করা যেতে পারে। বাংলাদেশের বন পরিদপ্তর যে প্রক্রিয়ায় বন ব্যবস্থাপনা করে, তা বাণিজ্যিক বন-ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ছাড়া ভারত-বাংলা বৈরী পানিব্যবস্থা পরিযায়ী পাখির চারণভূমির সংকটের সঙ্গে জড়িত। কাজেই বন্যপ্রাণির জন্য ছাড়তে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ জলাভূমি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, সরকার ঘোষিত বন্য প্রাণি ও পাখির অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, ইকো-পার্ক, রামসার, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ইত্যাদি।”

নতুন বনভূমি সৃজন করা:- জেলায় জেলায় তৈরি করতে হবে নতুন বনভূমি, যদিও মানুষ বনভূমি সৃষ্টি করতে পারে না, তদুপরি, দেশিয় গাছপালার স্বল্প জায়গার বনভুমি সৃষ্টি করা সম্ভব। আমরা চাইলে প্রতি জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০০ হেক্টর জমি বনভূমির জন্য বরাদ্দ দেয়া খুব কঠিন কিছু নয়। আমরা আশা করি অনতিবিলম্বে প্রতি জেলায় জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য পৃথক বনভূমি সৃজন করা হবে। বন্য প্রাণিপরিদপ্তর গঠন: বন্যপ্রাণি রক্ষার জন্য একটি আলাদা বন্যপ্রাণি পরিদপ্তর গঠন করতে হবে। “বন্য প্রাণি পরিদপ্তরের প্রথম কাজ হবে, যতদূর সম্ভব বেদখল হয়ে যাওয়া সব সরকারি জলাভূমি উদ্ধার করে তা শুধু মৎস্যসম্পদ এবং পাখি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা। যার মধ্যে অবশ্যই থাকবে স্থানীয় তৃণমূল জনগণের শ্রমভিত্তিক অংশীদারি। জলাভূমির অভয়াশ্রম বা অভয়ারণ্যে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং জনগণের যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে এ পরিদপ্তর। এরপর তারা বন্য প্রাণি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ করবে। এতে বিভিন্ন সমিতি-সংগঠনের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।”

দেশি গাছপালা লাগানো:- আমাদের এ দেশে স্থানীয় যেসব প্রজাতির পাখি আছে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি; যা কেবল দেশি গাছ, লতা-গুল্ম , দেশি উদ্ভিদ প্রজাতি ও জলাধার সংরক্ষণ করেই সম্ভব। এ ছাড়া নগরীর সড়ক-বিভাজনীতে দেশি গাছ লাগানোর ব্যাপারটিও খাটো করে দেখার নয়। আলংকারিক উদ্ভিদ শুধু চাকচিক্য বৃদ্ধিই করে, জীববৈচিত্র রক্ষা করে না পাখিবান্ধব গাছপালা লাগাতে হলে পাখির জীবন প্রণালী জানা দরকার। কোন গাছে কোন পাখি থাকে তা গবেষকদের কাছ থেকে জানতে হবে এবং সেসব গাছ রোপন করতে হবে। বিদেশি আগ্রাসি ক্ষতিকর প্রজাতির গাছ রোপণ বন্ধ করতে হবে।

গাছে কলস টাঙানো:- কিছু পাখি গাছের গর্তে বা কোটরে বাসা করে এবং ছানা তোলে। গাছে শত শত বছরে কোটর তৈরি হয়। পুরনো গাছ না থাকায় গাছে কোটর বা গর্ত নেই। এই অবস্থায় পাখি রক্ষার্থে গাছে গাছে কলস টাঙিয়ে দেয়া হচ্ছে। সারা দেশেই গাছে কলস টাঙানো জনপ্রিয় করতে হবে।

পাখিবান্ধব বাড়িঘর নির্মাণ:- ঘর নির্মাণের সময় এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে যেসব পাখি ঘরের বিভিন্ন স্থানে বাসা করে তারা বাসা করার জায়গা পায়; যেমন ঘরের ঘুলঘুলি, ঘরের ছাঁদ ও বারান্দায় কিছু জায়গা পাখির বাসা তৈরির জন্য ফাঁকা রাখা। রাত্রে যেন আলোর উজ্জ্বলতা ঘরের বাইরে না যায় সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। রাতের শহরের আলোর উজ্জ্বলতা পরিযায়ী পাখির গতিপথে বাধার সৃষ্টি করে।

চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা:- যেসব পাখি চিড়িয়াখানায় রয়েছে সেগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে তারা বন্দি অবস্থায়ও ছানা তুলতে উৎসাহিত হয়।

পাখি বাঁচলে মাছ বাঁচবে, ফুল ফুটবে, ফল ধরবে, গাছ বাঁচবে, ঋতুবৈচিত্র্য থাকবে, প্রকৃতি রক্ষা পাবে, সর্বোপরি বাংলাদেশ টিকে যাবে। তাই আসুন সকলে মিলে পাখি বাঁচাই, প্রকৃতি বাঁচাই, জীববৈচিত্র্য/প্রাণবৈচিত্র্য বাঁচাই।

প্রকৃতি ও মানুষ

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড়। এ সম্পর্ক নাড়ির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বললে অত্যুক্তি হবে না। কেননা প্রকৃতি যদি মা হয় তবে মানুষ তার সন্তান। প্রকৃতির রূপ, রস আস্বাদন করেই মানুষের জীবনচক্র ঘূর্ণায়মান। অনাদিকাল থেকেই প্রকৃতি তার আপন নিয়মে, নিজস্ব গতিতে চলছে। কেউ তার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে গেলে কিংবা স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার চেষ্টা করলে প্রকৃতি বিরূপ হয়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিশোধও নেয়। সেই প্রতিশোধ হয় ভয়ঙ্কর, প্রাণসংহারী-সম্পদবিনাশী। তখন প্রকৃতির কল্যাণরূপ আর থাকে না। খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারী ইত্যাদি তো চোখের সামনেই ঘটছে। গ্রীন হাউস এ্যাফেক্টের ফলে বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা, সূর্যের অতিবেগুনী ক্ষতিকর রশ্মির বিকিরণ এর সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর এসব কিন্তু ধরিত্রীর সন্তান হয়ে মানুষই জেনে-বুঝে কখনও না বুঝেও করছে। অর্থাৎ নিজেদের ক্ষতি করছে নিজেরাই।
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম ও গতি ব্যাহত করলে যে মানুষই দুর্ভোগে পড়ে এর প্রমাণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। অভিন্ন গতিধারার কোন নদীর ওপর বাঁধ নির্মিত হলে হয়ত একপাশে শস্য-শ্যামলা আর অন্য পাশে প্রকৃতি বিরান হওয়ার উপক্রম হয়। এমন বাস্তবতা কারও কাম্য হতে পারে না। আমাদের দেশের অভ্যন্তরেও এমন কিছু ঘটছে যা প্রকৃতিবিরুদ্ধ তো বটেই পাশাপাশি দেশজুড়ে অনেক জেলায়ই প্রকাশ্যে এমন প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে, এক রকম জোর করে হরণ করা হচ্ছে প্রকৃতির স্বাভাবিকত্ব। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে এক সময় প্রকৃতির বিরূপ বা রুদ্ররোষের শিকার হতে পারি আমরা, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ নিয়ে সরকারের যে মাথাব্যথা নেই তা নয়। আছে নানা উদ্যোগ, আইনও অছে। সে আইন কঠোরও বটে। তবে প্রায়োগিক দিকটা তত শক্তিশালী বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। আইনের যথার্থ ও বাস্তবানুগ প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক আন্দোলনও এ ক্ষেত্রে জরুরী। নতুন প্রজন্মের প্রতি আহব্বান রইলো প্রজন্ম পর প্রজন্ম রক্ষার দায়িত্ব হিসেবে প্রকৃতি বিরুদ্ধ স্বার্থপর মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলণ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। মানুষকে জ্ঞান স্বচেতন করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে সকলকে।

সমাপ্ত।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.