লাল কার্ড সবুজ কার্ড দেখানো মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ নয়


বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানো যাবেনা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই একেকটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। লালকার্ড সবুজ কার্ড দেখিয়ে তাঁরা কাউকে ক্ষমতায় উত্তোলন ও অবতরণের দর্শন লালন করেন না। একবার জীবন বাজী রেখে স্বশস্ত্র যুদ্ধ করে অন্ততঃ সে অভিজ্ঞতা টুকু তাঁরা অর্জন করতে পেড়েছেন।

বাংলাদেশে বিগত ৫০ বছরের বিরাজনীতি করণের মাঝ দিয়ে রাজনীতিতে ও সমাজে যে আগাছা তৈরী হয়েছে, সেই আগাছাগুলো নিজেদের রক্ষায়, নতুন প্রজন্মের মাঝে রাজনীতিহীনতার সুযোগে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে তারা ধর্মের খোলসে বঁধে ফেলার অপ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এর পৃষ্টপোষকতায় রয়েছে অবৈধ পুঁজি অর্জনকারী লুটেরা গোষ্টি ও বিদেশী দাতারা। ওরা গাছেরটা খয়েছে তলারটাও কুড়াতে চায়। তারা নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে আখেরে বেহস্ত দোজখের স্বপ্ন দেখিয়ে আফগানিস্তানের মত ইসলামি বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। দেশকে আফগানিস্তান, দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাতে চায়।

কার লেজ কার সাথে বাঁধা আছে একটু পশ্চাতে হাত দিলেই বোঝা যায়। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের মানুষ এমিনেতই বিগত ৫০ বছর ধরে শোষিত বঞ্চিত ও নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এর পরেও ক্ষমতার রুটি ভাগাভাগিতে দেশটা শিয়াল কুকুরের হাতে চলে যাক মুক্তিযোদ্ধারা ও তাঁদের প্রজন্মরা কোনদিন সেটি হতে দেবে না। যারা ইসলামি বিপ্লবের ঘারে চেপে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছেন। সেটিও কখনো হবেনা। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলীম। তবে উগ্র ধর্মান্ধ নয়। ইসলামী বিপ্লব জিয়াউর রহমানের শাসনামলে হয়নি,এরশাদ গুটি চালিয়ে ছিলেন হালে পানি পায়নি,পালে বাতাশ লাগেনি,পতন ঘটেছিল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে হয়নি,জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে হবে এটি কখনো সম্ভব নয়। মোট কথা বাংলাদেশকে যারা দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছেন,গুটি চালছেন, সেটি কখনো হবার নয়। সময় থাকতে লাইনে ফিরুন।

মুক্তিযোদ্ধারা জনগনের অতন্ত্র প্রহরী। ১৯৭১ সালে জাতীয় সঙ্কটকালে তারা দেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে ছিলেন, এখনও দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের সাথেই আছেন। চিন্তা চেতনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য রক্ষায় তাঁরা তাঁদের নিজেদের শ্রেণি চরিত্র পরিবর্তন করেন নি। প্রয়োজনে এই বৃদ্ধ বয়সেও মানুষকে অহিংস মুক্তির লড়াইয়ে যোগদানের জন্য গণস্বচেতনতা বৃদ্ধি করবার প্রয়াসে আবারও মুক্তিযোদ্ধারা জনসাধারণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। মানুষের কাঙ্খিত মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনার কথা বলবেন। সুবিধাবাদীদের মুখোস উন্মোচন করবেন।

এই মহুর্তে দেশপ্রেমিক জনতা ও মুক্তির চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের ঐক্যটা জরুরী। কারন দেশের রাজনীতি এখন দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। লুটেরা ধনিক বণিক শ্রেণির হাতে চলে গেছে। যারা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের মানুষকে নিঃশ্ব ও নিরাপত্তাহীন করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই ভুলের খেসারত দেশের জনগণ এখনও দিয়ে চলেছে। এবার আপনাদের পালা। প্রকৃতির ন্যায় বিচার সেদিকেই এগিয়ে চলেছে। এখনও ঘুড়ে দাঁড়াবার সময় আছে। সাধারণ মানুষের বাঁচা মরার অহিংস লড়াইয়ে, মানব কল্যাণে যোগদিন। দেশের মানুষের বাঁচার পথ সুগম করুন। নিজে বাঁচুন।

যে সকল মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা এবং সন্তানেরা শুধুমাত্র নিজেদের মুক্তির চেতনাকে ভাতা কোটা ভোগের সুবিধার মাঝে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ সুবিধার লোভে মুক্তিযুদ্ধ না করে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধারণ না করে,যারা নতুন করে নাক ফুটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেঁজেছেন। সবাইকে দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। কারন তাদের মুক্তি পাবার প্রশ্নটির হিসেব নিকেশের ভগ্নাংশ রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার মাঝ দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছেনি। এ ছারাও শুধুমাত্র ভাতা কোটা সুযোগ সুবিধা লোভ ও লাভের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেন নি। তাঁরা নিজেদের রক্তে গড়া স্বাধীন রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছিল যথাযোগ্য সম্মান, মর্যাদা ও স্বীকৃতি। রাষ্ট্র সেটিও বিগত ৫০ বছরেও করেনি। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য। সেটিও হয়নি। অপরদিকে রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার দূর্বলতার সুযোগে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা গোপনে ধর্মীয় লেবাসে সাধারন মানুষকে তাদের পক্ষে নিয়েছে, নেয়ার জন্য তৎপর রয়েছে। এখন তারা আঘাত হানতে শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর ওপর। আপনি যতই গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করুন না কেন শত্রু এখন আপনার চারিপাশে ওৎ পেতে বসে আছে, আঘাত হানার জন্য। চিন্তা চেতনার জগতকে প্রসারিত করুন। সাধারন মানুষের কাঁতারে গিয়ে দাঁড়ান । আমরাও আছি আপনাদের সাথে পাশে। জয়বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
৩০ এপ্রিল, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, শুক্রবার।