করোনাবন্যাশাহজাদপুর

দুগ্ধশিল্প রক্ষায় গো-খাদ্য বিতরণ ও সহজশর্তে ঋণ প্রদানের দাবী


বন্যা ও করোনায় গবাদী পশু নিয়ে শাহজাদপুরের খামারিরা চরম বিপাকে!

দেশের গবাদী পশুর রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুরের বিস্তৃর্ণ গোচারণ ভূমি ও বাথান এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। পাশাপাশি করোনার প্রভাবে দেশে দুধের চাহিদাও বেশ কমেছে। ফলে উপজেলার হাজার হাজার গো-খামার মালিকরা তাদের গবাদি পশু লালনে পড়েছেন চরম বিপাকে ।
এলাকার খামারিরা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে খামারিরা লাখ লাখ গবাদী পশুকে বাথান থেকে বাড়িতে, উচু স্থানে আবার বাঁধে সরিয়ে নিয়েছেন। উপজেলার বিস্তৃর্ণ গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা ঘাস ও গো-খাদ্য সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতবাড়ি, বড়ভিটা, ছোট ভিটা, বুড়ির ভিটা, কুটির ভিটার বাথান এলাকার অসংখ্য বাথানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাখ লাখ উন্নতজাতের গরু লালন পালন করা হয়। এসব এলাকা পুরোপুরি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দরের দানাদার গো-খাদ্য কিনে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এবং প্রাকৃতিক ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত প্রায় ৫০ হাজার গরু করোনার ক্রান্তিকালে লাভজনক দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও খামারিরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
স্থানীয় খামারিরা জানান, বন্যায় উপজেলার বিস্তৃর্ণ ঘাসের জমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে দুধের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। দুধের চাহিদা ও দামও কমেছে । এছাড়া দানাদার খাবারের দামও বেশ বেড়েছে। ফলে দিন দিন তাদের লোকসানের হার বাড়ছে। এতে সার্বিকভাবে গবাদী পশু লালন পালনে তাদের ভাগ্যে বিরাজ করছে কালো মেঘের ঘনঘটা। বন্যায় ডুবে যাওয়া গোচারণ ভূমিতে দেড় শতাধিক বাথান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই গাভী পালন করে আসছেন। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহিত দুধের সবটাই সরকারি বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টে বিক্রি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামে অন্যত্র দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ধলাই সমবায় সমিতির সভাপতি ও মিল্কভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির জানান, ‘করোনা ও বন্যার কারণে গো-খামারিরা লাখ লাখ গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন । ঘাসের জমিগুলি পানিতে ডুবে যাওয়ায় সৃষ্ট কাঁচা ঘাসের সংকটে দুগ্ধ উৎপাদন বহুলাংশে কমে গেছে। এছাড়া বন্যার সুযোগে খৈল ভুষিসহ বিভিন্ন ধরনের দানাদার গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদী পশু লালনে খামারিদের নানা দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।’
এদিকে, করোনার প্রভাবে ও বন্যাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিরা গবাদী পশু লালনে ও ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধশিল্পকে রক্ষায় অবিলম্বে বিনামূল্যে গো-খাদ্য বিতরণ ও সহজশর্তে ঋণ পাবার দাবী জানিয়েছেন ।

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: