বাংলাদেশ

বন্যায় সতর্ক প্রশাসন

ধেয়ে আসছে বন্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে বন্যাকবলিত জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাকবলিত জেলার মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন খামারে গড়ে ওঠা গবাদি পশুর যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকেও নজর রাখাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, চলমান করোনা মহামারীর মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পুরোদমে এগিয়ে চলছে বেড়িবাঁধের কাজ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের বর্ষা মৌসুমে সারা দেশে কোনো নদীভাঙন হবে না। দেশের ১১টি নদীর পানি ১৫টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাংশের সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর,  সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেশের মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বাড়ছে ঘা ও পাচরাসহ পানিবাহিত নানান ধরনের রোগ। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হচ্ছে ০১৩১৮-২৩৪৫৬০। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।

মুন্সীগঞ্জ: হাসাইল-কামারখাড়া যাতায়াতের প্রধান সড়কের ভাঙ্গনীয়া কবরস্থানের সম্মুখ অংশ ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই রাস্তায় চলাচলকারীদের। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না গেলে কবরস্থানটিও যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। গতকাল সকালে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার, কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার জানান, আপাতত বালু ভর্তি বস্তা ও গাছের ডালা ফেলা হচ্ছে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার জানান, রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পীরগাছা (রংপুর) : গত ২৪ জুন দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামের শেষ বাড়িটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখনই নদীভাঙন পাশের হাগুরিয়া হাশিম গ্রামের ওপর নিশ্বাস ফেলতে শুরু করে। কিন্তু মাঝে তিস্তা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে ভাঙন থেমে যায়। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় চার দিন থেকে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী হাগুরি হাশিম গ্রামের প্রায় ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। এছাড়া পাশের নাউয়া পাড়া এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। তবে কোথাও ভাঙনরোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

দক্ষিণ গাবুড়া (মাঠের হাট) গ্রামটি ভাঙনের কবলে পরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হাগুরিয়া হাশিম গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, হাগুরিয়া হাশিম গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। বন্যার কারণে মাঝে ভাঙন বন্ধ ছিল কিন্তু বন্যার পানি কমতে শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ফের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল আজিজ বলেন, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সহযোগিতা করা হবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, হাগুরিয়া হাশিম গ্রামটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনরোধে বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জামালপুর: জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ এই নদের অববাহিকার অভ্যন্তরীণ অন্যান্য নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। জেলার আটটি পৌরসভাসহ সাত উপজেলার ৩১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এখনো পানিবন্দি রয়েছে ৮৫ হাজার ১৯৭টি পরিবারের ৩ লাখ ৫ হাজার ৯৪২ জন মানুষ। ১০ হাজার ১৯১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ৪৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

গাইবান্ধা: টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার ভাঙনকবলিত হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আশপাশের দুই শতাধিক বসতবাড়ি। ফলে ভাঙনকবলিত মানুষ দ্রুত তাদের বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা, ঈদগাহ মাঠ, একটি বিএস কোয়ার্টার, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুটি জামে মসজিদ, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও একটি বাজার এখন মারাত্মকভাবে ভাঙনকবলিত।

ঝালকাঠি: রাজাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদুরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বিশখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হতে চলছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীনের পথে মাধ্যমিক বিদ্যালয় কোনোভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয় বাদুরতলা বাজারে অবস্থিত হওয়ায় এটি বাদুরতলা স্কুল নামে পরিচিত। শুরুতে ফণির প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই সময় বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের অংশটি মালামালসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ফণি ও আমফানের প্রভাবে পানি বাড়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বিষখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনে বাদুরতলা লঞ্চঘাট, বাদুরতলা বাজার, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের সড়ক এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার জানান, এ পর্যন্ত বিষখালির ভাঙনে অর্ধশত দোকান, বসতবাড়ি, বাজার ও গাছপালাসহ কয়েকশ একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান জানান, জরুরি ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

হাতিয়া (নোয়াখালী): নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৩টি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের জোয়ারে এসব এলাকা প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার সুখচর, নলচিরা ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় এসব এলাকা অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে সহজে প্লাবিত হয়। এতে সুখচর ইউনিয়নের চরআমান উল্যা, বউবাজার, চেয়ারম্যান বাজার। নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া, নলচিরা ঘাট এলাকা। চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুদার গ্রাম মাইজচা মার্কেট এলাকা প্লাবিত হয়। এসব এলাকার প্রায় ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): ধল্যা-বিলপাড়া আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে আদাবাড়ি, ভাতকুড়া, গ্রামনাহালী, ছাওয়ালী, বাসাইল উপজেলার বিলপাড়া, কাঞ্চনপুরসহ অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছে। মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বাদশা মিয়া জানান, পানির প্রবল চাপে সড়কের এক স্থানে ভেঙে গেছে। মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্মাণ কাজ নিম্নমানের কথা অস্বীকার করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : রংছাতি ইউনিয়নের নল্লাপাড়া সড়কটি যান ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৫টি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রংছাতি, নল্লাপাড়া, আমগড়া, পুলিয়া, রাজনগর, হাসানোয়াগাঁও, পানেশ্বরপাড়া, বানাইকোনাসহ ১৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কলমাকান্দা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, পানির স্রোতে নতুন করে সড়কটির বিভিন্ন জায়গা ভেঙে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পদ্মা নদরী অংশে পানি বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদর উপজেলার মহেন্দ পুর ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রামের তিনটি চর ও কালুখালীর হরিণবাড়িয়া চরের ফসলি জমিসহ নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের ধান-পাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীরে ধীরে কমলেও ধরলার পানি ফের বাড়ছে। গত শনিবার সকালে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার যথাক্রমে ৫৯ ও ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা পানি বাড়ায় সদর উপজেলা ছাড়াও ফুলবাড়ী, উলিপুর ও রাজারহাটের শতাধিক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তার পানি বেড়ে রাজারহাট ও উলিপুরের ছয়টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত ও কিছু ঘরবাড়ি।

ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। বাঙ্গালী নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখনো ডুবে আছে। পাট, ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। যমুনার প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে এরই মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার চার শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

নীলফামারী : উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, আবারো পানি বাড়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ: ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সাহেবেরচর গ্রাম। প্রতিদিন এই নদে বিলীন হচ্ছে গ্রামের নতুন নতুন এলাকা, বসতবাড়ি। গ্রাম রক্ষায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কয়েক মাস চলে গেলেও এই কাজ শুরুই করেনি তারা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে খরচ হবে আরো কয়েক কোটি টাকা।

সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। ফলে জেলা শহরের আশপাশের এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। শহরের বাইরেও নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। হাওরে এসে সুরমার পানি চাপ তৈরি করায় পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। অনেকের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে এখনো জেলা শহরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজারসহ চারটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন আছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: