বন্যার পানিতে ২২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে অর্ধ লক্ষ কমলমতি শিশু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহজাদপুর উপজেলার ২২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধ লক্ষ কমলমতি শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাসে যাতায়াত করছে। ফলে অভিভাবকেরা তাদের আদরের সন্তানদের নিয়ে দিনভর প্রাণহানীর আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন। তাদের আদরের সন্তানেরা বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাদের এই উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাটে না। ফলে তারা দিন ভর থাকেন নানা উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। এমনটিই জানিয়েছেন মশিপুর, চরকৈজুরি, গোপালপুর, মাকড়কোলা, লহিন্দাকান্দি, ছোটমহারাজপুর, মাকড়া, কুরসি, বাতিয়া, নরিনা, মাকড়, কামালপুর, জগতলা, গুপিয়াখালি, চরগুদিবাড়ি গ্রামের অধিকাংশ অভিভাবকেরা। তারা আরো জানান, স্কুলের চার দিকে থৈ থে বন্যার পানি। অধিকাংশ স্কুলের মাঠ ঘাট ও স্কুল ঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। তারপরেও শিশুদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে বিদ্যালয় গুলি এখনও খোলা থাকায় পাড়ালেখা পিছিয়ে যাওয়ার ভয়ে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও তাদের কমলমতি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে বাঁধ্য হচ্ছেন। বন্যার কারণে বিদ্যালয় গুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হলে তাদের এ সমস্যায় পড়তে হোত না।
জানাযায়, এ বছর বন্যায় শাহজাদপুর উপজেলার ৬৯টি প্রাইমারি স্কুল ঘর,১০৬টি প্রাইমারি স্কুলের মাঠ ও ৫০টি মাধ্যমিক,নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ডুবে গেছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক জানান, উপর মহল থেকে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বিদ্যালয় গুলি ছুটি ছুটি ঘোষণার কোন নির্দেশ না আসায় বিদ্যালয় গুলি এখন চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ওই সব বিদ্যালয় থেকে বন্যার পানি সরতে ২/৩ মাস সময় লাগবে। এতোদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি হবে। সামনে পরীক্ষা তাই একটু কষ্ট হলেও শিক্ষার্থীদের মঙ্গলার্থেই বিদ্যালয় গুলি খোলা রাখা হয়েছে। অপর দিকে যমুনা নদীতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। ফলে রূপপুর নতুনপাড়া সহ পৌর এলাকার ১২টি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর ও তাঁত ফ্যাক্টরি বন্যার পানিতে এখনও ডুবে আছে। এতে উপজেলার পৌর এলাকা সহ ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ছাড়া প্রায় ৫ হাজার কিঃ মিঃ কাঁচা ও পাঁকা সড়ক বন্যার পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপর দিকে উপজেলার জামিরতা ও পোরজনা বাজার ২ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ ২টি বাজারের ২/৪টি ছাড়া বাকি সব দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপর কাঁচা বাজার বসেছে । এ ছাড়া জামিরতা-পোরজনা ও শিবরামপুর-খুকনি পাঁকা সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে যানবহণ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে খুকনি,জালালপুর, পোরজনা,গালা ও সোনাতুনি ইউনিয়নের মানুষের বাজার ঘাট ও চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অপর দিকে কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল-গোপালপুর বাঁধ ও সড়কের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে কৈজুরী,জালালপুর,বেলতৈল ও খুকনি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ সব ইউনিয়নের ৫ হাজার বিঘা জমির বোনা আমন ধান,শাকসব্জির ক্ষেত ও তাঁত ফ্যাক্টরী বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,বন্যা ও ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে গত ২ দিনে ৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা দূর্গত এলাকার টিউবয়েল গুলি পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বাহিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে।