বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আর নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আমীন খসরু আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। গত শুক্রবার (৫ জুন) স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

৭৪ বছর বয়সী শফিকুল আমীন খসরু মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে, এক মেয়ে, ভাই, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

১৯৬৪ সালে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যান এই নেতা। পরে ১৯৬৫ সালেও ৩২ ধানমন্ডিতে দেখা হয় বঙ্গবন্ধুর সাথে। সেখানেই প্রথম তার নাম জিজ্ঞেস করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ওই একবার নাম বলেছিলেন, পরে আর কোনদিন বলতে হয়নি। দূর থেকে দেখে তাকে দেখলেই বঙ্গবন্ধু বলে ওঠতেন, ‘এ্যাই তোরা সরে যা, আমার গফরগাঁওয়ের খসরু এসেছে, খসরু ভিতরে আয়।’

৬ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের জনসভায় যাচ্ছিলেন জাতির পিতা। পথে মশাখালি স্টেশনে নেমে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে কথা বলার অনুরোধ করলে তারই কাঁধে ভর দিয়ে ট্রেন থেকে নামেন ব্ঙ্গবন্ধু। এসময় নেতাকে মঞ্চে রেখে তার সামনে দু’একটা কথা বলার সাহস দেখাতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন সার্কিট হাউজে জনসভায় যাওয়ার বিলম্ব হয় কিনা ভেবে পেছন থেকে বঙ্গবন্ধু কাছে এসে গালে চড় দিয়ে তাকে থামিয়ে নিজে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। জনসভা শেষে আবার তিনি  কাছে ডাকেন ও গালে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘খসরু তোর কি খুব লেগেছে?’ তখন ‘হ্যাঁ’ বলে আমি বললাম, ‘লেগেছে তবে আদরে এখন ভুলে গেছি’। ওই ট্রেনে চেপেই তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জনসভায় গিয়েছিলেন।

খসরুর ছোট ভাই গফরগাঁও চাকরিজীবী কল্যাণ ফোরাম সভাপতি অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, মঙ্গলবার (৯ জুন) গফরগাঁওয়ের মশাখালীর বীরখারুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। জানাজায় উপস্থিত থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহভাজন ছিলেন শফিকুল আমিন খসরু। ঊনসত্তরের গণঅভুত্থানে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ এলাকায় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন খসরু। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহে গফরগাঁও সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। মশাখালী ইউনিয়ন, গফরগাঁও থানা ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বহু সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.