বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে ক্ষীণ আলোয় ফিটনেসবিহীন যানের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

শামছুর রহমান শিশির: রাতের বেলায় ক্ষীণ আলোয় উত্তরাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে দুরপাল্লার কিছু ভারী যানবাহন ছাড়াও নছিমন, করিমন, ভটভটি, লেগুনা ও সিএনজি টেম্পুর বেপরোয়া চলাচল পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে বেড়েছে। ওই মহাসড়কে চলাচলকারী নছিমন, করিমন, ভটভটি, লেগুনা ও সিএনজি টেম্পুর হেডলাইটে পরিমিত আলোর ব্যবস্থা নেই। আবার কোন কোন যানবাহনের দুইটি হেডলাইটের বামপাশের একটি লাইট জ্বালিয়ে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে, অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কে রাতে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি টেম্পু ও নছিমন করিমনের সিংহভাগই ক্ষীণ আলোর হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করায়।এছাড়া রাতের বেলায় এ মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি টেম্পু,লেগুনা ও ফিটনেস বিহীন নছিমনের চালকদের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় উত্তর জনপদের লাখ লাখ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই মহাসড়কের ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সড়ক দূর্ঘটনা নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এতে যাত্রীদের অনেকেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর দিনযাপন করছেন। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় যানবাহনের স্বল্পতায় ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানা কারণে এমনিতেই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, রাতে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে চলাচলের বিকল্প কোন যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকায় ও সংশ্লিষ্টদের তদারকীর অভাবে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে রাতের বেলায় চলাচল করতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই!
জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ,পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার দুরপাল্লার ভারী যানবাহন ছাড়াও রাতে নিয়মিত মিনিবাস, ট্রাক, ফিটনেসবিহীন কাটা মাইক্রো, লেগুনা, সিএনজি টেম্পু, নছিমন-করিমন চলাচল করছে। রাতের বেলায় ক্ষীণ আলোয় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পাবনা থেকে সিরাজগঞ্জ রোড বাসষ্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত ছোট বড় অসংখ্য যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি টেম্পু, নছিমন-করিমন চলাচল করে থাকে।ওইসব যানবাহনের অনেকগুলোর অগ্রভাগের দুইপাশে থাকা দুইটি হেডলাইটের একটি জ্বালিয়ে আবার কোন কোন যানবাহন ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চালকেরা এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে বিপরীত দিক থেকে আগত দুরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচ, ট্যাংকলরীসহ বিভিন্ন ধরনের দ্রুতগামী যানবাহন রাতের বেলায় যানবাহন চালনা করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। অকষ্মাৎ ওইসব যানবাহনের সামনে ক্ষীণ আলোর যানবাহন দ্রুত চলে আসায় চালকেরা ওই যানবাহনকে সাইড দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পতিত হচ্ছেন। ওই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রায় ৩০টি চাপা ও তীব্র ঝূঁকিপূর্ণ ব্রীজ এলাকায় রাতে ক্ষীণ আলোর যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের ঝূঁকি বহুলাংশে বেড়েছে। এ মহাসড়কের বাঘাবাড়ী বড়াল সেতুর দক্ষিণ পাড় এলাকায় অনেক স্থানে উচু নিচু হয়ে পড়ায় রাতের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নুকালী ব্রীজটি মহাসড়কের তুলনায় অপেক্ষাকৃত অনেক উচু ও চাপা হওয়ায় এমনিতেই সামনের যানবাহন চোখে পড়ে না। তার ওপর ক্ষীণ আলোয় এ স্থান দিয়ে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে যে কোন সময় বড় ধরনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শংকা দেখা দিয়েছে। রাতে এ মহাসড়কের শাহজাদপুরের বিসিক বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে উল্লাপাড়া আরএস (রেলওয়ে) বাসষ্ট্যান্ড ও শ্যামলীপাড়া বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচল করে ক্ষীণ আলোর অসংখ্য যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি টেম্পু, নছিমন করিমন । এছাড়া রাতে কাশিনাথপুর এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জ রোড পর্যন্ত অসংখ্য যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি টেম্পু, নছিমন করিমন তীব্র ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাতে ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে এ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ রোড পাড় হয়ে হাটিকুমড়–ল, ঘুড়কা বেলতলা, ভূঁইয়াগাতী বাসষ্ট্যান্ড, চান্দাইকোনা পাবনা, চান্দাইকোনা বগুড়া, ঘোগা বাসষ্ট্যান্ড, ছোনকা বাসষ্ট্যান্ড মির্জাপুর বাজার বাসষ্ট্যান্ড, শেরপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অসংখ্য স্বল্প আলোর যানবাহন। দিনের বেলার তুলনায় রাতের বেলায় অপেক্ষাকৃত কম যানবাহন চলাচল করায় যাত্রীদের বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় এ মহাসড়কে চলাচলকারী অসংখ্য যাত্রীবাহী লেগুনা, সিএনজি টেম্পু ও নছিমন করিমন দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে শুধুমাত্র রাতের বেলায় ভাড়া দিনের চেয়ে বেশী-এ অজুহাতে। এছাড়া,বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের বড়বড় বাসষ্ট্যান্ড ছাড়াও মিনি বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় রাতের বেলায় যেখানে সেখানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাটা মাইক্রো, সিএনজি টেম্পু, ফিটনেস বিহীন নছিমন-করিমন ষ্ট্যান্ড করে রাখা হয়। এতে, ক্ষীণ আলোর যানবাহন চলাচলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। ফলে এ মহাসড়ক দিয়ে রাতে চলাচলকারী ঢাকা কোচসহ সকল প্রকার দ্রুতগামী যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে বলে চালকেরা জানিয়েছে। রাতের বেলায় ওইসব বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সকল সময়ই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যত্রতত্র যানবাহন স্ট্যান্ড করায় অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ঝূঁকির সাথে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। এ মহাসড়কে রাতের বেলায় সিংহভাগ ভারী যানবাহন পরিচালনাকারী চালকদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অবৈধ নছিমন করিমনের অদক্ষ চালকরা ক্ষীণ আলোয় যাত্রীদের নিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে। জানা গেছে, মহাসড়কে চলাচলকারী ওইসব যানবাহনের হেডলাইটের পর্যাপ্ত আলোর অভাবে প্রতিদিন এ মহাসড়কের কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনা লেগেই আছে। বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে চলাচলকারী অবৈধ লছিমন-করিমন, ভটভটি, হিউম্যান হলার, কাটা-মাইক্রো, ব্যাটারীচালিত ইজিবাইকের কোনরূপ বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তার পরও রাতের বেলায় অবাধে মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রাতের বেলায় ওইসব যানবাহনের সংখ্যা দিনদিন বদ্ধি পাওয়ায় দুরপাল্লার সকল যানবাহন চলাচলে মারাত্বকভাবে বিঘœ ঘটায় দুর্ঘটনার মাত্রাও বেড়ে চলেছে।
বিজ্ঞমহলের মতে, ‘বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে রাতের বেলায় স্বল্প আলোর হেডলাইট জ্বালিয়ে যাত্রী ও মালামালবাহী বিভিন্ন ধরনের বাস, মিনিবাস, ট্রাক, ট্যাংকলরী, লেগুনা, সিএনজি টেম্পু, নছিমন করিমন চলাচলের ওপর নিয়মিত নজরদারী না করায় রাতের বেলায় সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এজন্য উত্তরাঞ্চলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে রাতে চলাচলকারী ক্ষীণ আলোর যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়মিত নজরদারী ও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীসাধারনের রাতের বেলায় চলাচলে জীবনের ঝুঁকি হ্রাস ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বহুলাংশে কমে যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থা সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।’