ফেসবুক দিয়ে মানবতার জয়, সুস্থ হয়ে ফিরলো ফাতেমা

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : নাম ফাতেমা বয়স ৬ বছর। সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চরবেতকান্দী গ্রামের ফজর আলীর মেয়ে ফাতেমা। অভাবী সংসারে ফুটফুটে ফাতেমার জন্ম নেয়। ভালই চলছি সাংসার। কিন্ত কপালে সুখ যেন সইলো না। তিন বছর বয়ছে পেটে পানি ধরে। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। বাবার একমাত্র ভ্যাংন গাড়ি বেচে চিকিৎসা করে। টাকার অভাবে এক সময় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।
ফাতেমা মুত্যুর সাথে চড়তে থাকে। গত ১০ ডিসেম্বর ভোর বেলা ফাতেমার তার দাদির সাথে মামুনের বাড়িতে চলে আসে অনেক কান্নাকাটি করে। এর পর মামুন বিশ্বাস ছবি তুলে ফেসবুকে সাহায্যর আবেদন করেন। সবাই সাড়া দিয়ে ফেসবুক থেকে টাকা পাঠায় মামুনের কাছে। মামুন বিশ্বাসের এই আবেদনে, গত কয়েকদিতে সংগ্রহ হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৬ টাকা।
৩১ ডিসেম্বর মামুন ফাতেমা, ফাতেমার বাবা ফজর আলী, ফাতেমার দাদী ও সোহাগ ঢাকায় এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে ভর্তি করেন। মামুন বিশ্বাস কয়েকদিন ধরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন । ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসার জন্য অর্থসংগ্রহ আর সফল অপারেশনের জন্য চোখে ঘুম নেই তার। শুধু তাই নয় অপারেশনের পর ফাতেমা সুস্থ হয়ে উঠবে কি না, এরকম শঙ্কা কাজ করছে মামুনের মনে বেশিভাগ সময়। শেষ পর্যন্ত এল কাঙ্খিত সেই দিন। ২ জানুয়ারি শুরু হলো ফাতেমার অপারেশন, সব শঙ্কা দূর করে সফল অপারেশন হলো। ফাতেমার পেট থেকে বের করা হয় প্রায় ৩ কেজি টিউমার ও ৫ লিটার পানি।
মামুন সব সময় ফায়েমার আপডেট ফেসবুকে পোষ্ট দিতেন। স্বস্তি ফিরে পেলেন মামুন, ফেসবুকে ঢু মারতেই দেখেন তার ইনবক্সে শত শত ফাতেমার সুস্থ হওয়ার ও জন্মদিনের বার্তা।মামুন একটি পোষ্টে লিখেছেন, আপন কেউ না ফাতেমা, এমনকি ফাতেমার সঙ্গে রক্তের কোন সম্পর্কও নেই মামুনের। অথচ এই শিশুর অসুস্থতা তাকে এতটাই কাঁদিয়েছে, তার অপারেশনের জন্য নিজের জন্ম দিনের কথাই ভুলে গিয়েছিলেন মামুন।
ফাতেমাকে দেখতে সাভার এনাম মেডিকেলে আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.সাজ্জাদ হায়দার লিটন। এছাড়াও সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মো: সিরাজুল ইসলাম এর নির্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পি,এস টু সেক্রেটারি শামীম আহমেদ ফাতেমাকে দেখতে হসপিটালে আসেনও সার্বিক সহযোগিতা করেন ।
মামুনের অনেক ফেসবুন্ধ হাসপাতালে ফাতেমাকে দেখা শুনা করেন।ফাতেমার বাবার ফজর আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি কোন দিন ভাবি নাই আমার মেয়ে ফাতেমা সুস্থ হবে। মামুন ভাইকে আমি কোন দিন ভুলতে পারবো না। ফাতেমার জন্য যারা টাকা পাঠিয়েছেন তাদের জন্য আমি অনেক দোয়া করবো।গতকাল যখন ঢাকা থেকে ফাতেমাকে বাড়ী নিয়ে একনজর ফাতেমা ও মামুনকে দেখার জন্য গ্রামবাসী ভিড় জমায়। মামুন যখন বিদায় নিবে ফাতেমা কাছে বলতে থাকে কাক্কু তুমি যাবে না তুমি আমাদের বাড়িতে থাকো।

মামুন বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ফাতেমা আমার মেয়ের মত। ওকে দেখলে আমার মেয়ের কথা মনে হয়। আমি চেষ্টা করেছিলাম মহান আল্লাহতালার রহমতে সবাই টাকা পাঠিয়েছিলেন।
সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান সাভার এনাম মেডিকের কলেজ এন্ড হসপিটালের সকলকে ।সকল ফেসবুক বাসীকে যারা টাকা দিয়ে ফাতেমাকে সাহায্য করেছেন।মামুন আরো জানান ইত্যাদি অনুষ্টানে আমার কাজ গুলো প্রচার হওয়ায় এখন কাজের দ্বায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে।তিনি সকল ফেসবুক বাসীর উদ্দেশ্য বলেন যারাই ফেসবুক ব্যবহার করে একটু অসহায় মানুষের জন্য কাজ করবেন তাইলে হাজারোও ফাতেমা বাঁচতে পারবে এই ফেসবুক দিয়ে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মামুন বিশ্বাস। তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে অসহায় ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন । এর আগেও ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেক অসহায় রোগীর চিকিৎসা করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মামুন বিশ্বাস ।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.