প্রতারক সিন্ডিকেটের মুল হোতা রহিম সিকদারকে গ্রেফতার কর’ল বগুড়া সিআইডি

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে বগুড়া গাবতলী থানা এলাকার বাহাদুরপুর গ্রামের সোলায়মান আকন্দের ছেলে মো: রাসেল মিয়া’র কাছ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের বিভিন্ন সময় পর্যায়ক্রমে নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে মোট ৭লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি পেশাদার প্রতারক সিন্ডিকেট ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে।

নিয়োগপত্র পেয়ে রাসেল মিয়া বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে যোগদান করতে গিয়ে জানতে পারে তার নিয়োগপত্র সঠিক না। ইতিমধ্যে প্রতারক সিন্ডিকেটের প্রধান রহিম সিকদারসহ অন্যান্য সদস্যরা সকল যোগাযোগ মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে গা ঢাকা দেয়।কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভুগি রাসেল মিয়া’র বড় ভাই মো: আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানার মামলা নম্বর ১৭ তারিখ: ৪/১১/২০১৯ খ্রি: ধারা: ৩৪/৩৮৬/৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড দায়ের করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটির তদন্তভার বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর অর্পিত হয়।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো: ফজলে এলাহী এবং এসআই সাধক চন্দ্র রায় ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও প্রতারক চক্রের সিন্ডিকেট প্রধানকে গ্রেফতার বা সুস্পস্ঠ তথ্যাদি উদঘাটন করতে পারে না। এমতাবস্থায় গত ২২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রি: বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে তদন্তকারী অফিসার হিসাবে সিআইডি বগুড়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক এটিএম শিফাতুল মাজদারকে তদন্তকারী অফিসার হিসাবে নিয়োগ করে। সিআইডি বগুড়া জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ কাউছার সিকদার এর প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহারসহ বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্ত করে গত ২৭ ডিসেম্বর ভোররাত্রে মামলার প্রধান আসামী সিন্ডিকেট প্রধান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকার সিতারামপুর গ্রামের মৃত মন্টু সিকদারের ছেলে নাদিম ওরফে রহিম সিকদার (৩৭)-কে ডিএমপি’র হাজারীবাগ থানা এলাকা থেকে মামলার তদন্তকারী অফিসার সিআইডি বগুড়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক এটিএম শিফাতুল মাজদার গ্রেফতার করে।

গতকাল ২৮ ডিসেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে গ্রেফতারকৃত নাদিম ওরফে রহিম সিকদার ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামলার সকল তথ্য প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর হেফাজত থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, দৈনিক অন্য দিগন্ত পত্রিকার নিজের পরিচয়পত্র, সিআইডি লেখাযুক্ত কালো মানিব্যাগসহ মাহফুজ নামের একজনের পাসপোর্টের ফটোকপি আলামত হিসাবে জব্দ করেছে তদন্তকারী অফিসার। মামলার তদন্তকারী অফিসার জানান প্রতারকচক্রের অন্যান্য সদস্য অচিরেই গ্রেফতার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।