পরামর্শ এই সময় ভালো ঘুম ও ব্যায়াম জরুরি

করোনাভাইরাস মহামারিজনিত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দিন দিন প্যানিক্ড বা আতঙ্কিত হচ্ছি। প্রথম দিকে লোকজনের ধারণা ছিল, খুব অল্প সময়েই হয়তো এই বিপদ কেটে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাওয়ায় মানুষের মনে আতঙ্কটা বেশ বেড়ে যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, এই ক্রান্তিকালে ভালো ঘুম আনার চেষ্টা করলে এবং কিছু ভালো ব্যায়াম করলে দেহ সুস্থ থাকে, মনেও ভালো প্রভাব ফেলে।
এ জন্য যা করতে পারেন তা হলো—

► স্ট্রেসফুল কন্ডিশন বা চিন্তাযুক্ত অবস্থার কারণে অনেকে ঠিকমতো খাচ্ছেন না, ঘুমাচ্ছেন না; বরং সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা করছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মানসিকভাবে ঠিক হয়ে পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিন।

► শরীর ঠিক রাখতে প্রতিদিন কিছু শারীরিক কাজকর্ম করুন। এ জন্য প্রতিদিন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম ইত্যাদি করা যেতে পারে। এই ব্যায়ামগুলো সবাই মিলে ঘরেই করা সম্ভব। এতে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বাড়বে, কনফিডেন্স লেভেলও বাড়বে।

► মনে রাখতে হবে, ভালো ঘুম ছাড়া মানসিক প্রশান্তি কখনোই সম্ভব নয়। কেননা দেহের নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত রাখে ভালো ঘুম। কিন্তু দিনে ঘুমালে রাতে ঘুম আসবে না—এটাই স্বাভাবিক। তাই শারীরিক পরিশ্রম বাড়িয়ে দিন। এতে দেখবেন ঘুম ঠিকমতো হবে বা কোয়ালিটি ঘুম হবে।

► রাত জাগলে মানসিক অশান্তি বাড়ে। দেহের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম আছে, যা ঘুমের জন্য দরকারি। সেটা ঠিকমতো ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। কেউ যখন সিমপ্যাথেটিক অ্যাক্টিভিটির দিকে যায় তখন বুক ধড়ফড় করা, আতঙ্কিত হওয়া ইত্যাদির প্রবণতা বেড়ে যায়। দেহের নার্ভাস সিস্টেমকে কুলডাউন বা শান্ত রাখতে পারে ভালো ঘুম ও ব্যায়াম।

► দূরে থেকেও কাছে—এই থিওরি মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। এতেও মানসিক শক্তি মেলে।

► নেগেটিভ বা খারাপ বিষয়গুলোও স্মরণ রাখতে হবে। তা না হলে করোনার ব্যাপারে সতর্কতা ঢিলেঢালা হয়ে যাবে। তবে নেগেটিভ বিষয়গুলো জেনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য সারাক্ষণ পত্রপত্রিকা বা টেলিভিশনে সংবাদ দেখা বা স্ক্রল করে করে ফেসবুকে করোনাভাইরাসের সংবাদ দেখতে ব্যস্ত থাকা বা শুধু ওসব সংবাদ সন্ধান করা উচিত হবে না।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.