নয়াদিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ সমন্বিত বৈঠক

সীমান্তে সহিংসতা রোধ ও হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ঐকমত্য

1
শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম : বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দু’দেশের সীমান্তে সহিংস ঘটনা রোধ ও সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ, বিশেষ করে গরু চোরাচালানের স্পর্শ কাতর স্থানগুলোতে রাত্রিকালীন যৌথ সমম্বিত পেট্রোল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিজিবি এবং বিএসএফ এর ৩৯তম মহাপরিচালক পর্যায়ে সমান্বিত কনফারেন্সে এই সিদ্ধান্ত নেয় হয় বলে গতকাল রোববার এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিব আহমেদ এবং বিএসএফ’র মহাপরিচালক ডি. কে পাঠক।

দু’দেশের সীমান্তে অপরাধ রোধ, ড্রাগস, অস্ত্র, মাদক, গরু, স্বর্ণ, জাল টাকার নোট চোরচালান বন্ধ করার নিদ্ধান্ত নিয়ে বলা হয়, এসবের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি ৬ মাস অন্তর পর্যালোচনা করার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষই সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য একমত হয়ে কতিপয় সিদ্ধান্ত নেয় বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। উভয় পক্ষ এ ব্যাপারে তথ্য আদান প্রদান করবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়। ভারতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ইমিগ্রেশন সম্পর্কে এক পশ্নের উত্তরে জেনারেল আজিজ বলেন, অবৈধ যাতায়াত আছে কিন্তু কোন অবৈধ ইমিগ্রেশন নাই। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে ইমিগ্রেশনের কোন যৌত্তিক কারণও নেই। তিনি বলেন, অবৈধ যাতায়াত বন্ধ করার জন্যও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারত সীমান্ত হত্যা শূন্য পর্যায়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে বার বার বাংলাদেশকে আশ্বাস দেয়ার পর এখনো সীমান্তে হত্যা ঘটছে কেন-এ প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ ডিজি ডি.কে পাঠক বলেন, হত্যাকান্ডের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। আমরা সীমান্ত ব্যবস্থা উন্নয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো ভাল করার চেষ্টা করছি্। তবে তিনি বলেন, প্রথমেই গুলি করা হয় না। যখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তখনই বাধ্য হয়ে গুলি করা হয়। এব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত হত্যা কমে এসছে এতে আমরা খুশি কিন্তু যতদিন এটা শূন্যের পর্যায়ে না আসবে ততদিন আমার এই বিষয়ে কথা বলেই যাব।

বিএসএফ’র হাতে নিহত ফেলানী হত্যার বিচার সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসএফ ডিজি বলেন, পুনরায় বিচারের কাজ চলছে। সাক্ষ্যসাবদ জোগার করা একটু সময় সাপেক্ষ তাই বিলম্ব হচ্ছে। তবে তিনি সুষ্ঠু বিচার হবে বলে জানান।বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ভারতে জাল টাকার নোট এবং অস্ত্র প্রবেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশে কোন জাল টাকা ছাপানোর বা অস্ত্র তৈরির কারখানা নেই। এগুলো বিদেশ থেকে আসে। বর্ডার এয়ার পোর্ট কারেন্সি মেশিন বসানো হয়েছে। জাল টাকা এবং অস্ত্র ধরার জন্য আমার যথেষ্ট তৎপর রয়েছি এবং আমাদের হাতে প্রচুর ধরা পড়েছে।গত ২০ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ২০জন প্রতিনিধি যোগ দেন।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.