নীলফামারীতে “লাম্পি স্কিন” রোগে আক্রান্ত গরু, দুশ্চিন্তায় খামারীরা

ক্যাপরি পক্স ভাইরাস সংক্রমণে নীলফামারীর ছয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে গবাদী পশু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদিকে কোরবানীর ঈদের আগেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, প্রায় একমাস ধরে এ ক্যাপরি পক্স ভাইরাসটি গ্রাম অঞ্চলে গরুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এই অসুখটিকে ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বলে জানিয়েছেন বিষেষজ্ঞরা। এই রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা হচ্ছে। পরে তা ঘায়ে পরিণত হয়ে ফেটে রস বের হয়। এমনকি পশুর গায়ে জ্বর হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রোগ প্রতিরোধে মশা, মাছি থেকে পশুকে দুরে রাখতে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর গ্রামে ৫টি, জেলা সদরের বাহালিপাড়া গ্রামে ২টি ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নিতাই গ্রামে ২টিসহ মোট ৯টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

সদর উপজেলা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, ক্যাপরি পক্স ভাইরাসের মাধ্যমে ‘লাম্পি স্কিন’ নামের রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে (সিড্রোমেটিক ট্রিটমেন্ট) আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, অ্যান্টি হিস্টামিন ও জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিয়ে ভাল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে খাবার সোডা পরিমাণ মত পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পশুর শরীর পরিস্কার রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে খামারীদের।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়ার সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, আমার তিনটি গরু ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে প্রায় শতাধিক গরু। গরু তিনটির পেছনে ১০ হাজার টাকা খরচ করেও এখন সুস্থ করতে পারিনি।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.