নিজেরাই মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে বিরোধীদের ফাঁসানোর অভিযোগ নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৬ নং পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নিজের পক্ষে ধরে রাখতে রাতদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে চলছে মুহুর্মুহু মহরা ও নানান কূটকৌশল। এরই মধ্যে হামলা, মারপিট এবং প্রচারনায় বাধা প্রদানের অভিযোগসহ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আসছে নিয়মিত। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই উপনির্বাচনে লড়াই করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র ৭ জনসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল বুধবার ১৪ আগষ্ট রাতে নির্বাচনী এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। মোটরসাইকেলটির মালিকানা দাবিকারী বড় বাচড়া গ্রামের যুবক মোঃ আতিকুর রহমান জানান, নৌকা প্রতীকের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন লোক তার পথরোধ করে মারপিট করে এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অপরদিকে ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, আঃলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন বাবু’র কয়েকজন সমর্থক বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় তিনটি মোটরসাইকেলে কাকুড়িয়া পূর্ব পাড়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি স্থানে দাঁড়ায়। পরে তারা একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে বাকী দুটি মোটরসাইকেল যোগে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা পানি দিয়ে মোটরসাইকেলের আগুন নেভায়।

পরে শাহজাদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে উপপরিদর্শক জয়ন্ত চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। মোটরসাইকেলটির মালিকানা দাবিকারী যুবক আতিকুর রহমান উপস্থিত হয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ করে। সাংবাদিকরা নৌকার কর্মী পরিচয়দানকারি আতিকুর রহমানকে মোটরসাইকেলের মালিকানার কাগজ দেখতে চাইলে তিনি কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানায়। মোটরসাইকেল চুরি করা কিনা প্রশ্ন করা হলে কোন উত্তর দিতে পারেনি, উপস্থিত জনতা মোটরসাইকেল পোড়ানোর বিষয়ে নৌকার সমর্থক আতিকুর রহমানকেই অভিযুক্ত করলে তৎক্ষণাৎ যুবকটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ আগুনে পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, কাকুড়িয়া গ্রামেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল হাসান বাবু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতিকের মোঃ রফিকুল ইসলাম শাহীনের বাড়ি। আশ্চর্যের বিষয় মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হলেও নৌকার ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, মনে হচ্ছে মোটরসাইকেল পোড়ার পরে কেউ ইচ্ছে করে ব্যানারটি রেখে প্রতিহিংসার রং দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিএনপি’র প্রার্থী রফিকুল হাসান বাবু জানান, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই নৌকার প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা নানান ভাবে প্রচার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে, নিজেরাই মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে আমাদের কর্মী সমর্থকদের মামলা হামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

এদিকে আঃলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম শাহীন জানান, এখন পর্যন্ত পোরজনা ইউনিয়নে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাবু বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারণায় হামলা ও বাধার সৃষ্টি করছে। তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নিজেরাই মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে বিরোধী পক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, নেতাকর্মীদের মতামত ও জনপ্রিয়তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যে ব্যাক্তি ইউনিয়ন আঃলীগের সম্মেলনে পরাজয় বরণ করেছে, যার ওয়ার্ড মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা নেই তাকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল সোমবার নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা আমার উপর হামলা করেছিল। বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি ও হামলা করে চলেছে। প্রতিদিন শতশত মোটরসাইকেল নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে জনগণের ভোট ছিনতাই ও ভোটাধিকার ভূলন্ঠিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, বিষয়টি আমি অবহিত আছি। আমরা সতর্ক আছি যেনো ঘটনাটি কেউ ভিন্ন খাতে নিতে না পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।