নতুন ‘শিশু শ্রেণি’ : প্রাক-প্রাথমিকের মেয়াদ দুই বছর হচ্ছে

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরেকটি শ্রেণি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।কিন্ডার গার্টেনের মতো ‘প্লে গ্রুপ’ এর আদলে নতুন সৃষ্টি করা এ শ্রেণির নাম হবে ‘শিশু শ্রেণি’। এরপর ‘নার্সারি’ শেষ করে প্রথম শ্রেণি। নতুন ‘শিশু শ্রেণি’র ফলে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হবে এখন থেকে দুই বছর।

নতুন শ্রেণি যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালে দেশের দুই হাজার ৫৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করবে সরকার। আর এ কার্যক্রমে সফলতা এলে ২০২৩ সাল থেকে সব বিদ্যালয়েই ‘শিশু শ্রেণি’ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম শুক্রবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি দুই বছর মেয়াদী করার প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী বছর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে তার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা কনসেপ্ট ডেভেলপ করেছি, সেখানেই বলা আছে কীভাবে কী করব। আগামী সোমবার একটি ভার্চুয়াল সভা করে আমরা প্ল্যান চূড়ান্ত করব।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে এক বছর পড়াশোনা করে।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছর প্রথম দফায় দেশের ২ হাজার ৫৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক চালু করা হবে। পরের তিন থেকে চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা চালু হবে।

নতুন ‘শিশু শ্রেণি’ চালুর সিদ্ধান্তে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন একজন করে শিক্ষক ও একজন করে আয়া নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আর চার বছর বয়সেই শিশুরা নতুন শেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে পরিকল্পনায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জুন এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে দুই বছর মেয়াদে প্রাক-প্রাথমিকের কথা বলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী বছরে প্রাক-প্রাথমিকের দুটি শ্রেণির জন্যই কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠায় সরকার নতুন শেণি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে এক বছর ধরে পড়াশোনা করে। ২০১০ সালে স্বল্প পরিসরে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালুর পর ২০১৪ সালে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি এই শ্রেণি চালু করে সরকার।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৯৯টিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ৩৭ হাজার ৬৭২টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের একজন করে সহকারী শিক্ষকও রয়েছেন। ২৬ হাজার ৩৬৬ বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা শিগগিরই নিয়োগ করা হবে।

নতুন শ্রেণি খোলার ফলে শিক্ষার্থীদের আনুসঙ্গিক খরচের জন্য গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন থেকে ৫৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি থেকে ব্যয় করার কথা রয়েছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.