দেড় বছরে সরকারের অদৃশ্য ৫ মন্ত্রী

বর্তমান সরকারের দেড় বছর পূর্ণ হল আজ। গত বছরের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল। সেই মন্ত্রিসভায় ছোট খাটো কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া পুরো মন্ত্রিসভাই দেড় বছর পার করলো। ৪৭ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় এমন কয়েক জন আছেন যাদের মন্ত্রিত্ব আছে নাকি নেই তা জানতে মন্ত্রিসভার তালিকা দেখতে হয়। তাদের কোনও কার্যক্রম নেই। এরা আগে শুধুমাত্র মন্ত্রিসভার বৈঠকে থাকতেন। আর এখন করোনা পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক না হওয়ায় তারা একেবারেই অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এসব মন্ত্রীরা না আছেন কোনো উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়, না আছেন নিজ এলাকার ত্রাণ কার্যক্রমে। জনগণের সাথে তাদের কোনও যোগাযোগই নেই। অথচ তারা হলেন জনগণের প্রতিনিধি। এদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে শুধু চোখে পড়ে মন্ত্রীর বিশেষ গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করা। তারা অফিসে যান কি যান না, তারও কোনও খবর নেই। এমন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন-

বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান

ইয়াফেস ওসমানকে কোনো সভা সমাবেশে দেখা যায় না। নিজ এলাকায় তিনি রীতিমতো ডুমুরের ফুল। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও তাকে চোখে পড়ে না। অদৃশ্য হয়েই আছেন তিনি।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিনের দেখা কদাচিৎ মেলে। তিনি যেন অমাবস্যার চাঁদ। হঠাৎ হঠাৎ তাকে দেখা যায়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও তার কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। করোনার লকডাউনের মধ্যেও বাংলাদেশ বায়ুদূষনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নানা রকম কথা বার্তা হলেও তিনি কিছু্ই করেননি। মন্ত্রী হিসেবে তাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য, বিবৃতি বা কোনো উদ্যেগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ

বর্তমান করোনা সঙ্কটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের কোনো পদক্ষেপই আমাদের চোখে পড়ছে না। কোথায় তিনি আছেন সেটাও এক বড় প্রশ্ন।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী

আরেকজন অদৃশ্য মন্ত্রী হলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী। বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। কিন্তু একটা দিবস এবং নিজের অসুস্থতা ছাড়া তাকে আর কোনো সংবাদে আমরা দেখি না। তাকে কখনও কোনো বিষয়ে কথা বলতেও দেখা যায় না।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কারণ তিনি একজন নারী নেত্রী এবং তাকে আমতা অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব এবং কর্মতৎপর দেখেছি। কিন্তু এখন প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি একেবারেই নীরব। লোকচক্ষুর অন্তরালে তিনি। নিজ এলাকায় বা উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়- কোথাও তাকে চোখে পড়ে না।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.