দেবী দূর্গার আগমন উপলক্ষে সাজসজ্জায় ব্যস্ত শাহজাদপুরের মন্ডপগুলো

নীলাকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল জানান দেয় শরৎ বিরাজমান। জানান দেয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তার। যদিও এবার দেবী দুর্গা আসছেন হেমন্তে। শরতের আকাশে ভাসছে সাদা মেঘের ভেলা, প্রকৃতির সবুজের সমারোহে সাদা হয়ে কাশফুল দুলছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় সাজসজ্জায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শাহজাদপুরের মন্ডপগুলো।

গত ১ সেপ্টেম্বরে মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মহালয়ার সময় ঘোর অমাবস্যা থাকে। মহাতেজের আলোয় সেই অমাবস্যা দূর হয়। প্রতিষ্ঠা পায় শুভশক্তি। দুর্গাপূজার দিন গণনা এ মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়। শাস্ত্রমতে প্রতি বছরই মা কোনো না কোনো বাহনে চড়ে আসেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর দেবী আসছেন ‘দৌলায়’ চড়ে আর যাবেন ‘গজে’ চড়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। এই ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা উৎসব শুরু হবে আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে।

আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে রাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি করছে প্রতিমা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন শাহজাদপুরের প্রতিমা শিল্পীরা। তুলির আঁচরে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবীর রূপ। এখন দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পীদের।

শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বিমল কুন্ডু বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার বাকি আর মাত্র এক দিন। এ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৮২টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজা উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এবার করোনার কারণে পূজা মণ্ডপগুলোতে ছাব্বিশটা বিধিমালা তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সেই নিয়ম অনুযায়ী এবার শাহজাদপুর উপজেলায় পূজা পালন করা হবে।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তাদের এ ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখছে। প্রতিটি পুজা মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও পুলিশ ও আনছার সদস্য থাকবে। এখনো পর্যন্ত উপজেলায় কোন মন্দিরে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায় নি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কিছুটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে মাতৃবন্দনা করবেন সনাতন ধর্মালম্বীরা বলে জানা গেছে।