দিনে গরম রাতে শীত- বাড়ছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ

চন্দন কুমার আচার্য, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ দিনে গরম রাতে শীত! সিরাজগঞ্জ জেলায় ঘরে ঘরে সর্দি জ¦র-ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। চলতি বছরে বসন্ত ঋতুর শুরুতেই দিনে অসহ্য ভ্যাপসা গরম আর শেষ রাতে শীতের আগমনী সঙ্কেত অনুভূত হয়েছে। ঋতুর এ পরিবর্তনে ছন্দপতন ঘটেছে প্রকৃতিতেও। এজন্য দিনে আবহাওয়া অনেকটা প্রচন্ড গরম থাকে ও রাতের শেষভাগে শীত লাগে। আবহাওয়ার হঠাৎ এ পরিবর্তনে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা।
ফলে ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর, গলাব্যথা, পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে চিকিৎসকদের নিকট থেকে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রত্যেক ঘরে ঘরেই এমন রোগী রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, কিশোর বৃদ্ধ সব শ্রেণির মানুষই রয়েছে। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বেশ কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকেও সর্দি, জ্বর গলাব্যথা, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাধিক রোগীরা জানান, দিনের বেলায় গরম আর শেষ রাতে শীত পড়ে। প্রত্যেক ঘরেই শিশু, বৃদ্ধসহ কেহ না কেহ সর্দি জ্বরে ভুগছেন। বেলকুচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়টা ব্যতিক্রমী। সাধারণত এ মৌসুমের মধ্য দিয়েই গরম শুরু হতে থাকে।
এ সময় দিনের বেলা গরম আবার রাতে ঠান্ডা অনুভূত হয়। শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর, গলাব্যথা, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে কমপক্ষে দুই শতাধিক শিশু ও বৃদ্ধ রোগী ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমান সময়ে আবহাওয়াটা অনেকটা ধাঁধাঁর মতো। কখনো গরম আবার কখনো ঠান্ডা। এ কারণে রাতে পাখাও ছেড়ে রাখেন অনেকে। ভোরে আরো ঠান্ডা লাগে।
ফলে সর্দি, কাশিসহ আরও কিছু শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া শুষ্ক আবহাওয়া ও রাস্তায় প্রচুর ধুলাবালি থাকায় বাতাসে অ্যালার্জেনের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারদের নিকট থেকে জানা যায়, কাশি বা শ্বাসকষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ১ সপ্তাহের বেশি কাশি হলে এবং শ্বাস প্রশ্বাস বেশি অথবা শ্বাসকষ্ট এর যে কোনো কিছু হলে চিকিৎসকের পরার্মশ নিতে হবে। অধিক গরমে অত্যাধিক পরিমানে পানি পান, ওর স্যালাইন খাওয়া সহ পরিবেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। গ্রাম এলাকার সূত্রে আরও জানা যায়, পল্লী চিকিৎসকদের নিকট চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসা পত্র অনুযায়ী শত শত মানুষ প্রত্যেক দিন বিভিন্ন রোগের জন্য ঔষধ ফার্মাসী থেকে ঔষধ ক্রয় করে নিচ্ছেন।