তারেক জিয়া ওএসডি!

বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপিতে গতি ফিরেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের থেকে অনেক চাঙ্গা। বিশেষ করে দলের মহাসচিব নিয়মিতই সংবাদ সম্মেলন করছেন, সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে সরকারের নানা সমালোচনাও করছেন। আর এই সময়ে বিএনপির অন্যান্য নেতাদেরও ঘুম ভেঙেছে। আড়ষ্টতা ভেঙে তারাও টুকটাক কথাবার্তা বলছেন। করোনা কালে বিএনপি রাজনীতিতে নিজেদেরকে বিরোধী দল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছে। আর এর মধ্যেই বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, তারেক জিয়া মোটামুটি নিষ্ক্রিয়, দলের কোন কর্মকাণ্ডের মধ্যে তিনি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না, হস্তক্ষেপ করছেন না এবং দলের নেতাদেরকে তিনি কোন পরামর্শ বা উপদেশও দিচ্ছেন না, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তাও কালেভদ্রে হচ্ছে। এর কারণ কি জানতে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার কারণে তারেক জিয়া ওএসডি হয়ে আছেন এবং রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াই তাঁকে নিষ্ক্রিয় থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। একারণেই বিএনপির রাজনীতিতে তারেক জিয়া কোন ভূমিকা রাখছেন না। এখন তিনি ওএসডি হিসেবেই আছেন। এর পেছনে একাধিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রথমত, বেগম জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কথা চলছে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এই বাস্তবতায় তারেক জিয়া যদি কোনরকম বেফাঁস কথা বলেন বা এমন কোন কর্মকাণ্ড করেন তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ ভ্রমণ বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বেগম জিয়া এবং তাঁর পরিবার। এজন্য তারেক জিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন এখন কোন কথা না বলে।

দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়াই জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর চিকিৎসক এবং বিভিন্ন নেতাদের মাধ্যমে জেনেছেন যে, তারেক জিয়ার কারণে দলের মধ্যে অস্বস্তি এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তারেক জিয়ার অনেক সিদ্ধান্তের চরম মূল্য দিতে হয়েছে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে। আর এই বাস্তবতায় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বেগম জিয়ার ছায়ায় নিজেরাই কাজ করতে চাচ্ছেন। বিশেষ করে অনেক নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন যে, বিদেশে বসে দল চালানোর ফলে তারেক জিয়া বাস্তবতা বুঝছেন না। ফলে অনেক সিদ্ধান্তই ভুল হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া এই প্রেক্ষিতে তারেকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারেককে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তৃতীয়ত, খালেদা জিয়ার পছন্দের, কিন্তু তারেক জিয়ার অপছন্দের অনেক নেতৃবৃন্দ আছেন যারা দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, বিএনপিকে চাঙ্গা করতে গেলে তাঁদের সক্রিয় করা দরকার। বিশেষ করে তৃণমূল বিএনপিতে তারেককে নিয়ে হতাশা, ক্ষোভ অনেক বেশি। এই প্রেক্ষাপটেই তারককে আপাতত সকল ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম খালেদা জিয়া যে ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন, এই ২৫ মাসে তারেক অনেকগুলো কমিটি করেছেন, যে কমিটিগুলো নিয়ে বিতর্ক আছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন কিছু ব্যক্তিদেরকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যাদের বিএনপির জন্য কোন ত্যাগ নেই এবং বিএনপির দুঃসময়ে তাঁরা কোন কাজ করেননি। এই সমস্ত বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এখন বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে তারেককে ওএসডি করা হয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.