ডা. জাফরুল্লাহর স্বাস্থ্যের অবনতি

জ্বর ও গলাব্যথায় ভুগছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া তার নিউমোনিয়ায় আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

আজ বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বাস্থ্যের কিছুটা অবনতি ঘটেছে। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতলে তার সিটিস্ক্যান করার কথা রয়েছে।

ফরহাদ বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে সিরিয়াল দেওয়া আছে। তার (জাফরুল্লাহ চৌধুরী) শরীরের ভেতরে ইনফেকশনের ছবি এক্সরেতে ভালো আসছে না। তাই সিটি স্ক্যান করানো হচ্ছে।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতির তথ্য দেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার। তিনি বলেন, ‘তিনি কোভিড-১৯ পরবর্তী সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। সপ্তাহে তিনবার তার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। বিকল কিডনি রোগী হিসেবে দীর্ঘ একমাস রোগে ভোগার কারণে উনার শরীর খুবই দুর্বল। স্বরযন্ত্রের প্রদাহের কারণে বর্তমানে তার কথা বলা নিষেধ। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেখে গেছেন। তিনি জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন এবং উনার অবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জানাতে বলেছেন।’

গণস্বাস্থ্যের করোনা কিটের সমন্বয়ক বলেন, ‘জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি কিট নিবন্ধন না পাওয়ায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী খুবই বিষণ্ন। তবে ঔষধ প্রশাসন ও বিএসএমএমইউ কিটের উন্নয়নে সহায়তা করবে জানতে পেরে উনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড কিটের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করছে। উনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন শিগগির কিটটি নিবন্ধন পাবে এবং শিগগির বিএসএমএমইউ অ্যান্টিজেন কিট পরীক্ষার কাজ শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য ১৫ শয্যার একটি আইসিইউ চালু করতে যাচ্ছেন। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি অর্থ জোগাড়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন।’

উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গত ২৫ মে করোনা আক্রান্তের খবর নিজেই জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তের র্যাপিড টেস্টিং কিট দিয়ে পরীক্ষা করালে তার করোনা ধরা পড়ে। এরপর ২৮ মে বিএসএমএমইউর পরীক্ষাতে থেকেও তার করোনা পজিটিভ আসে। এরপর রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি গত ১৩ জুন করোনা পরীক্ষায় তার ফল নেগেটিভ আসে। করোনা জয়ের আগে বার বার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.