টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত

মো. মামুন হোসেন
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের চরকাদাই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন হোসেন (১৬) এ বছর বেলতৈল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে পিএসসি ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করত মামুন। ভালো ফলাফল করেও টাকার অভাবে এখন তার ভালো কোনো কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নাসির উদ্দিন জানান, তার চার সন্তানের মধ্যে মামুন দ্বিতীয়। তাদের তিন শতক বাড়ি ও একটি জীর্ণ টিনের ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। প্রতিদিন মামুন তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত। কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার ছিল না। স্কুল ছুটির দিনে সে বাবার সঙ্গে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করত। তার মজুরির টাকা লেখাপড়া ও সংসারে ব্যয় করত। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনেও সে বাবার সঙ্গে টাঙ্গাইলে ধান কাটতে যায়। সেখান থেকেই সে ফল জানতে পারে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে সে এলাকার মানুষের সেবা করতে চায়।

সাঞ্জিদা আক্তার সম্পা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের পূর্বচরকৈজুরি গ্রামের মৃত কাঠমিস্ত্রি মোশারফ ব্যাপারীর মেয়ে সাঞ্জিদা আক্তার সম্পা (১৬) এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ঠুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে টিউশনির পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে অন্যের বাড়িতে ধান সিদ্ধ-শুকানোর কাজ করত।

তার মা সাহিদা বেগম জানান, সম্পা তার একমাত্র মেয়ে। তাদের চার শতকের একটি বাড়ি ও একটি জীর্ণ টিনের ঘর ছাড়া কিছু নেই। কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। সে ডাক্তার হয়ে এলাকার গরিব মানুষের সেবা করতে চায়। কিন্তু ভালো ফলাফল করেও টাকার অভাবে এখন তার কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মামুন ও সম্পার অভিভাবকরা জানান, এ দুই শিক্ষার্থী খুবই মেধাবী। আর্থিক সহযোগিতা পেলে এরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করতে পারবে। তা না হলে অকালেই ঝড়ে পড়বে তারা।