শিল্পটিকে সমৃদ্ধশালী করতে সুদমুক্ত অর্থসংস্থানের দাবি


‘ঝুরি’ তৈরির এক গ্রামের নাম হাটপ্রাঁচিল !

শামছুর রহমান শিশির ও সাগর বসাক, হাটপ্রাঁচিল,(কৈজুরি)থেকে ফিরে : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী দুর্গম ভাঙ্গন কবলিত এলাকা কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাঁচিল গ্রামটি ঝুরি গ্রাম বলে পরিচিত। ওই গ্রামের সিংহভাগ নারী-পুরুষ বর্তমানে ঝুরি তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। প্রতিদিন পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাটপ্রাচীল গ্রামে তৈরি ঝুরি পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, রাক্ষুসী যমুনার কড়াল গ্রামে বারবার জমি-জমা, ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল সব হারিয়ে পথের ভিখারীতে পরিণত শতশত উদ্বাস্তুরা হাটপ্রাঁচিল গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী বাঁধের দু’পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করে আসছিলো। প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা হওয়ায় হাটপ্রাঁচিল গ্রামের অসহায় এসব মানুষের হাতে জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজকর্ম তেমন একটা ছিলো না। ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন দুঃস্থ নারীরা প্রথমে ঝুরি তৈরির কাজ শুরু করে। সারাদেশে ঝুরির বেশ কদর থাকায় ও পেশাটি লাভজনক হওয়ায় দিনদিন ওই দুঃস্থ নারীরা একে অপরের দেখাদেখিতে ঝুরি তৈরির কাজ শুরু করে। ঝুরি প্রস্তুতকারক দুঃস্থ ওইসব নারীদের পাশাপাশি যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকেরা নিজেদের এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত করেছে। এ গ্রামে তৈরি ঝুরি সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন মেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রাচীন এ শিল্পটি আজও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
হাটপাচিল গ্রামে মদিনা বেগম, মমতা বেগম, আয়নাল হকসহ বেশ কয়েকজন ঝুরি প্রস্তুতকারক জানান, ‘অতীতে গ্রামবাসীর হাতে তেমন কোন কাজ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতিনিয়ত খেয়ে না খেয়ে তাদের মানবেতর দিনযাপন করতে হতো। কিন্তু ঝুরি তৈরি করে বিক্রি করার পর থেকে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেটপুরে খেতে পারছে। ঝুরি তৈরির কাজে সরকারি-বেসরকারিভাবে যদি সুদমুুক্ত অর্থসহায়তা করা হতো, তাহলে এ শিল্পটি বৃহৎ একটি শিল্পে পরিণত করা সম্ভব হতো।’
এ বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাটপ্রাঁচীল গ্রামের ঝুরি প্রস্তুকারক নারীরা বেশ কর্মঠ। তারা ঝুরি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ঝুরি তৈরির এ শিল্পটি আজও বৃহৎ শিল্পে রূপান্তর হতে পারেনি। এসব ঝুরি প্রস্তুতকারক নারীদের যদি সরকারি-বেসরকারিভাবে সুদমুক্ত অর্থসহায়তা দেয়া হলে এ গ্রামের কর্মঠ নারীরা ঝুরি তৈরি করে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি শিল্পটিকে বৃহৎ শিল্পে রূপদান করতে পারবে।’
অন্যদিকে, ঝুরি শিল্পটিকে সমৃদ্ধশালী করতে প্রয়োজনীয় সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানিয়েছে হাটপ্রাঁচিল গ্রামের ঝুরি প্রস্তুতকারক নারীরা।

মন্তব্য