গল্প/কবিতাফটোগ্যালারীসম্পাদকীয়স্বাস্থ্য

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৪)

♦রোগ সনাক্ত করণ শেষ ♦
।।শুরু হলো রোগের সাথে যুদ্ধ।।

# ২৯ আগষ্ট বুধবার। সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটি ডাক্তার এলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে RESPIROMETER (Respiratory Exerciser) Three ball practice শুরু করার নির্দেশ দিলেন, জিজ্ঞাসা করলেন মন খারাপ লাগছে? বললাম সেটাইতো স্বাভাবিক। তিনি বললেন, হঠাৎ ঝড়ে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। আপনার যে রোগ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আপনার শরীরের ঘড়বাড়ী সব ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। মেরামত হতে সময় লাগবে। আমরা আজ থেকেই মেরামত করার কাজ শুরু করবো যদি ঔষধটা পেয়ে যাই। সুতরাং ঘাবরানোর কিম্বা হতাশ হবার মত কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবেন।

গতদিন ভর্তির পরপরই আমার ডানহাতে ক্যানোলা পরানো হয়েছিল। দেয়া হয়েছিল স্যালাইন। স্যালাইন খোলা হলেও ক্যানোলাটি হাতে রয়েই গেছে। অস্বস্তিকর অবস্থা। ৬৭ বছর বয়সে এই প্রথম শরীরে ক্যানোলা ঢোকানো হয়েছে।

সকাল ১০ টার দিকে উত্তরা থেকে বড় ছেলে এলো। তার কাছ থেকে জানা গেল আমার রোগ সনাক্ত করণ হয়েছে যার নাম- GBS (Guillain Barr’e Syndorme)। এক ধরনের ভয়াবহ জীবনহানীকর ভাইরাস (নিরব ঘাতক)। এখন শরীরের ওজন অনুযায়ী ঔষধ নির্ণয় করে ( ইনজেকশন) পুশ করা হবে। এই ইন্জেকশনটি সাধারণত Human anty body drugs হিসেবে পরিচিত। এ ইন্জেকশান আমাদের দেশে তৈরী হয়না। ঔষধের মূল্য এতোটাই বেশী যে ধারনা করাই কঠিন। সর্বমহলের নাগালের বাইরে। আমাদের নাগালেরও বাইরে তবে ঔষধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকেলের দিকে পেয়ে যাবো। সারা বিশ্বে এ ঔষধ উৎপাদন অনুমোদন প্রাপ্ত দেশগুলো হলো অষ্ট্রিয়া, জার্মানী, গ্রীস, ইটালী, পোল্যান্ড, পর্তুগাল।

KEDRION BIO PHARMA- Italy কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ইনজেকশন ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঔষধের আমদানী কারক ZAS নামক একটি কোম্পানী। যার ৫ গ্রাম/১০০ মিলিঃ এক ভয়েল ইন্জেকশনের বাজার মূল্য- ৩৫,০০০/- (পয়ত্রিশ হাজার) টাকা। প্রতিদিন ৬ টি ভয়েল ইন্জেকশন ৬ ঘন্টায় একটানা পুশ করতে হবে। প্রতিদিন ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ইন্জেশন নামক হিউম্যান এন্টিবডি থেরাপী শরীরে পুশ করা হবে। এভাবে ৫ দিন থেরাপী দিতে হবে। এর পরেও রয়ে গেছে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি। ঔষধের পার্শ প্রতিক্রিয়া শুরু হলে, কিংবা শরীর ঔষধ ধারনক্ষম না হলে, কিংবা রক্তচাপ কমে গেলে যে কোন সময় রোগীকে আই সি ইউতে ঢোকানোর প্রয়োজন হতে পারে। সেটি দীর্ঘ অথবা স্বল্প সময়ের জন্যও হতে পারে। রোগীর শারিরিক অবস্থার ওপর সেটি নির্ভর করবে। শুনে অনেকটাই হতাশ হয়ে গেলাম।

দুপুরে হাসপাতালে দেখতে এলেন মুক্তিযোদ্ধা তৌসিফুল বাড়ী ভাই এবং ভাবী। তাঁদের দেখে দু’চোখ এলো পানি। সামলিয়ে নিয়ে উভয়ের মাঝে কৌশলাদি বিনিময় হলো। তাঁরা সান্তনা দিলেন। আমি অনেকটা চাঙ্গা হলাম। এরপর এলেন মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ভাই। এর পর এলো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা, এলেন আমার বন্ধুর বোন জামাই আক্তার হোসেন। এলো আমাদের স্নেহাস্পদ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষক লীলা ফেরদৌস হিমেল, এলেন মুক্তিযোদ্ধা সামাদ তালুকদার, মতিউর রহমান। সবাইকে পাশে পেয়ে মনের জোর বেড়ে গেলো। বিকেলে আইস ব্যাগে করে ঔষধ এলো। শুরু হলো ইন্জেকশন পুশ। ভয়ে ভয়ে আছি  পার্শ প্রতিক্রিয়া হয় কিনা। আল্লার রহমতে প্রথম ডোজটা নির্বিগ্নে পুশ হয়ে গেল। মনের জোর আরো বেড়ে গেল।

♦।।মোঃ আবুল বাশার।।♦
তাং- ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৮ সেপ্টম্বর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

 

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: