গল্প/কবিতাভিডিওমুক্তিযুদ্ধসম্পাদকীয়স্বাস্থ্য

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

♦।।এ্যাপোলো হাসপাতালের পথে যাত্রা।।♦

# ২৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উত্তরা ৬ নং সেক্টর থেকে বসুন্ধরা এলাকার এ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্দ্যেশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। এর আগে ৪ জন মিলে আমাকে ধরে তিন তলা থেকে নীচে নামিয়ে গাড়ীতে উঠানো হয়েছিল। তখন হাত পায়ে কোন শক্তি না থাকলেও ধরাধরি করে গাড়ীতে বসিয়ে দিলে কিছু সময়ের জন্য বসে থাকার মত অবস্থা ছিল। যথা সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে আমাকে ৪ তলায় ডাক্তারের সামনে নিয়ে বসিয়ে রাখা হলো। বসে থাকা অবস্থায় আমাকে দেখতে আসলেন সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার। তিনি পার্শবর্তী গুলশান এলাকায় থাকেন। তাঁকে দেখে অনেকটাই উদ্দীপ্ত হলাম। মনোবলটা ধরে রাখার চেষ্টা শুরু করলাম।

প্রায় আধাঘন্টা পরে আমাকে ডাক্তারের চেম্বারে নেয়া হলো। ডাক্তার সাহেব নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা পর প্রাথমিকভাবে GBS (Guillain Barr’e Syndorme) রোগ সনাক্ত করলেন। এর জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিলেন। বড় ছেলে এ্যাপোলো হাসপাতপালে ভর্ত্তী করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বললেন, রোগীর নানা মুখী রোগের কারনে নানা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আইসিইউ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি লিখে দিলে রোগী ভর্ত্তী করে নেবে কিন্তু সব সাপোর্ট এখান থেকে পাওয়া যাবেনা। পাওয়া গেলেও সেটি হবে অত্যান্ত ব্যায়বহুল লক্ষ লক্ষ টাকা চলে যাবে পরবর্তীতে এর হিসেব মেলাতে পারবেন না। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরীভাবে ভর্ত্তী করে চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিলেন। বললেন, এমনিতেই বেশকটা দিন দেরী হয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একজন সাংবাদিক বন্ধুর রেফারেন্স থাকায় ডাক্তার সাহেব কোন ফি নিলেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক আমাকে আবার গাড়ীতে তোলা হলো। যাত্রা শুরু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্বিবদ্যালয়ের উদ্দ্যেশে।

অনেক যানজট পেড়িয়ে সকাল ১১ টা ২৫ মিনিটে। গাড়ী নিয়ে এই গেট সেই গেট করতেই বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে গেল। শত শত রোগী এবং তাদের পরিবার পরিজনের পদযাত্রায় মুখোরিত হাসপাতাল। মনে হলো যেন রোগীর হাট বাজার। কারো মুখে হাঁসি নেই। সবারই উদাস নয়ন। কেউ ফিরে যাচ্ছে, কেউ অপেক্ষমান। নানা ধরনের রোগীর কাঁতরানী দেখে মনটা দূর্বল হয়ে গেল। দুই ছেলে ছুটাছুটি করছে। প্রায় দুই ঘন্টা দৌড়াদৌড়ির পর যে খবরটি পাওয়া গেল, সেটি অত্যান্ত হতাশা ব্যঞ্জক। অনেক চেষ্টা করেও আমাকে নামানোর জন্য হাসপাতালের একটি হুইল চেয়ার পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি হুইল চেয়ারে রোগী বহনকারী কোন ব্যক্তিকে। এক যায়গায় হুইল চেয়ার থাকলেও তা ছিল তালা মারা। হতাশ হয়ে ছেলেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বললো এখানে সময় ব্যায় করা অনর্থক।

সিন্ধান্ত হলো ধানমন্ডির আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তী করার। এরপর যে গাড়ীতে ছিলাম ঐ গাড়ীতেই আবার ধানমন্ডির উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু হলো। এবার খুব বেশী একটা যানজটে পরতে হয়নি। দ্রুতই হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। হাসপাতালের রোগী বহনকারীরা আমাকে ধরাধরি করে গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ইমারজেন্সীতে নিয়ে গেল। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হলো। এর পর ভর্ত্তীর প্রস্তুতি পর্ব শেষে আমাকে নেয়া হলো হাসপতালের এ ব্লকের ৪ তলার ৭ নং কেবিনে। গত তিন দিন আমার পায়খানা প্রশ্রাব একদম বন্ধ। স্ত্রী বেড প্যানে প্রশ্রাব করানোর চেষ্টা চাললো কিন্তু কোন লাভ হলোনা। কিছুক্ষণ পরে এলেন, নিউরো সার্জন ফিরোজ আহমেদ কোরেশী। তিনি নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। তাঁর কথা বলার ভাষা দেখে ছেলে জিজ্ঞাসা করলো আপনার বাড়ী বোধহয় রাজশাহীর দিকে। তিনি বললেন হ্যা। আলাপ চারিতায় জানাগেল তিনি পূর্ব পরিচিত। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার সাহেব সবাই ডেকে বলে দিলেন, আমার আত্মীয় লিখে দেয়া নির্দেশমত দ্রুত রোগীর সকল টেষ্ট সম্পন্ন করে সন্ধ্যার মধ্যে তাঁকে জানাতে। একের পর এক টেষ্ট শুরু হলো। পরে রাতে রোগ সনাক্ত হলো। ছেলেরা কেমন যেন গোপনীয়তা রক্ষা করে চললো। রাতে আমার পাশে রইলো ছোট ছেলে ও স্ত্রী। অন্যরা বাসায় ফিরে গেল।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: