তার অস্বচ্ছল পরিবারকে অার্থিক সহযোগীতা প্রদানে পৌর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা


জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না শাহজাদপুরের সেই সামাদের!

শামছুর রহমান শিশির : ‘ঘুমে ওয়ালী জাগো হে, আল্লাহর দাওয়াত করো কবুল’- গত ৩৮ বছর ধরে বিনে পয়সায়, নিঃস্বার্থভাবে প্রতি বছরের রমজানের পুরো মাসেই এ গজল গেয়ে গভীর রাতে শাহজাদপুরের রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লা, রূপপুর দক্ষিণপাড়া মহল্লা, রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লা ও পাঠানপাড়া মহল্লার মুসলমানদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে রোজার দাওয়াত দিয়ে গেছেন শাহজাদপুরের যে আব্দুস সামাদ, তিনি আর নেই। গতকাল শনিবার রাতে হৃদযন্ত্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাত ১১টার দিকে এনায়েতপুর নেবার পথে তিনি মারা যান। আজ দুপুরে থানারঘাট মদিনাতুল উলূম কওমিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে নামাজে যানাজা শেষে দরগাহপাড়ায় তার দাফন করা হয়েছে। গত রমজান মাসে ৩৮ বছর ঘুমন্ত রোজাদারদের দাওয়াত দেয়া প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদকের সাথে তার দীর্ঘ সময় আলাপ হয়েছিলো। আলাপচারিতার সে সময়ে মরহুম আব্দুস সামাদ জানিয়েছিলেন, “গত ১৬ বছর পূর্বে শাহজাদপুর পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকর্মী হিসেবে চাকুরী করেছেন। সুদীর্ঘ ওই ১৬ বছরে সরকারীভাবে কোন প্রজ্ঞাপন না আসায় পৌরসভায় তার নিয়োগ দীর্ঘ সময়েও স্থায়ীকরণ হয়নি । তিনি মারা যাবার পর ২ মেয়ে ২ ছেলে ও স্ত্রী’র অভাবী সংসারে স্ত্রী, সন্তানদের জীবন জীবীকার প্রশ্নে ভবিষ্যতে যেনো কষ্ট পেতে না হয়, সেজন্য শাহজাদপুর পৌরসভায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি স্থায়ী হলে মরেও তিনি শান্তি পেতেন বলে গত রমজানে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অমোঘ বিধান অখন্ডনীয়! ক’দিন আগে এ প্রতিবেদকের নিকট প্রকাশ করা শেষ ইচ্ছে পূরণ হবার আগেরই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩৮ বছরে মরহুম আব্দুস সামাদ কখনও বা লাঠি হাতে, আবার কখনও বা লাঠির সাথে বাঁশি নিয়ে একাকি আঁধার রাতে রোজাদারদের ঘুম ভাঙ্গানোর ওই দুঃষ্কর ও কষ্টসাধ্য কাজটি নিঃস্বার্থভাবে করে গেছেন।
লেখাপড়া খুব একটা করার ভাগ্য হয়নি তার। কিন্তু তার পরেও একজন মুসলমান হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধে সর্বশক্তিমান আল্লাহু সুবহানু তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে একটানা ৩৮ বছর স্থানীয় ঘুমন্ত রোজাদার মুসলমানদের ঘুম থেকে ডেকে রোজা রাখার জন্য সেহরির প্রস্তুতির যে বিরল আহবানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তাতে এলাকার মুসুল্লীরা তার কাছে ঋণী! সেই ঋণের দায়ভার কিছুটা হলেও লাঘবে তার পরিবারকে সাধ্যমতো আর্ধিক সাপোর্ট প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী!