জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন শাহজাদপুরের সন্তান শেরপুরের পিআইও শামসুন্নাহার শিউলি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন স্থাপন করা, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবাগ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, ছুটি গ্রহণের প্রবণতা, উদ্ভাবনী চর্চার সক্ষমতা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে আগ্রহ, উপস্থাপন দক্ষতা, ই-ফাইল ব্যবহারে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা করার গুনাবলীর কারনে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় শুদ্ধাচার পুররস্কার প্রদাননকরা হয়ে থাকে।

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২০-m7২০২১ অর্থ বছরের শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন সিরাজগন্জের শাহজাদপুরের মেয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)মোছাঃ শামছুন্নাহার শিউলী।

১জুন (মঙ্গলবার) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব ড.মোঃ হাবিব উল্লাহ্ বাহার স্বাক্ষরিত জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত করেছেন।

আরো জানাগেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মোছাঃসামসুন্নাহার শিউলি ২০১৭ সালে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে ২ মাস ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষনে সার্বিক মূল্যায়নে তিনি ৩য় স্থান অধিকার করে থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রশিক্ষনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পর তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে মোট ৪৯৬ জন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন তারমধ্যে থেকে এ পুরস্কারের জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি এটা নিশ্চয় অনেক পাওয়া। এজন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।পাশাপাশি বর্তমান কর্মস্থল শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিনসহ উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বিভিন্নসুত্রে জানাগেছে মোছাঃ শামছুন্নাহার শিউলী শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর হতে সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নিরালসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এই উপজেলায় যোগদান করার পর গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণকাজের গুণগতমান বৃদ্ধি পায়। গতিশীল হয় উন্নয়ন।

এছাড়া কর্মজীবনের সর্বত্রই অসামান্য অবদান ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি। এর স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী
তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন একটি সনদপত্র, একটি ক্রেস্ট ও এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ।

গেজেটে আরো বলা হয়, শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীকে উল্লিখিত সূচকের ১০০ নম্বরের মধ্যে অবশ্যই ৮০ নম্বর পেতে হবে। এটি না পেলে ওই কর্মচারী এ পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হবেন না। আর বিবেচিত কর্মচারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কর্মচারী শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হবেন।

মোছাঃ শামছুন্নাহার শিউলী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগড় ইউনিয়নের রতনকান্দি গ্রামের মো: শাহজাহান সরকার ও মিসেস মঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন দম্পতির সন্তান।রতনকান্দি গ্রামে জন্ম এবং বেড়ে ওঠেন তিনি। বাবা মায়ের বড় সন্তান তিনি।

উল্লেখ্য, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছাঃ শামছুন্নাহার শিউলী ২০০৪ সালে পাবনার ফরিদপুরে কর্ম জীবন শুরু করেন। ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি এক ছেলে,এক মেয়ের জননী।