চালতা এক বিষ্ময়কর ফল ও ফুল!

শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ এক বিষ্ময়কর ফল ও ফুলের নাম হচ্ছে চালতা।বহুবিধ ভেষজ ঔসধিগুনসম্পন্ন ওই চালতা ফল ও ফুলের বিকাশ ও পরিপূর্ণতা বড়ই বৈচিত্রময়।এমন ফল বড়ই দূরহ যাতে প্রথমে ফল,পরে ফুল ও পূনরায় ফলে পরিনত হয়।চালতা ফুল দেখতে বড়ই দৃষ্টিনন্দন যা নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না !এর ফল বহুবিধ ঔসধিগুনসম্পন্ন হলেও মূলত এর আচার আমাদের দেশের নারীদের জন্য দুষ্প্রাপ্য,লোভনীয় ও মুখরোচক খাবার হিসাবে ব্যাপক সমাদৃত।কিন্তু কালের আবর্তে অতি পরিচিত চালতা ফল বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।
গতকাল চালতা ফল ও ফুল পরিদর্শনকালে গাছের মালিক চপলের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয়।আলাপকালে তিনি জানান, তার বাড়িতে রোপনকৃত চালতা গাছের বয়স প্রায় ১০ বছর। ওই গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। প্রতিটি চালতা ফল ২৫০ থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজন হয়।চালতা গাছে প্রথমে ফল ধরে।ফলের আকার যখন ডিমবল আকৃতি ধারন করে তখন ওই ফলের মধ্য থেকে ফুল ফোটে।চালতার ফুল সাধারণত রাতে ফোটে ।ফুল ফোটার পর ওই ফুলটিতে মৌমাছি বসা শুরু করে।অতি আশ্চার্যের বিষয় হলো রাতে ফুল ফোটার পর পরদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুলের পাপড়ি নিস্তেজ হয়ে ঝড়ে পড়ে। একটি ফলে একদিনের জন্যই পরিপূর্ণ একটি ফুল ফুটে ঝড়ে যায়।চালতার ফুল ফোটার পরে ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটতে থাকে।মৌমাছিরা চালতার ফুল থেকে মধু আহরণ করতে গিয়ে একফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি পরিপূর্ণ ফলে পরিণত হয়।সাধারনত ফলটি পাকার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।কাঁচা চালতার ফল দিয়ে মুখরোচক আচার তৈরি করা হয় যা সর্বজনের নিকট ব্যাপক সমাদৃত।চালতা ফলের ভিতরের আঠালো জাতীয় যে অংশ ফেলে দিতে হয় তা দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো সূতা টেকসই করার কাজে ব্যাবহার করা হয়।বিশেষত ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগী-প্রতিযোগিনীরা কাচের গুড়ার সাথে ওই আঠালো জাতীয় পদার্থ মিশিয়ে সূতায় মাঞ্জা দিয়ে থাকে সূতাকে টেকসই ও ধারালো করার জন্য।
শাহজাদপুর সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জানান,আমাদের দেশে সাধারণত দুই প্রজাতির চালতা ফল দেখা যায়।এর এই দুই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম । তন্মদ্ধে এই প্রজাতির চালতার ফল বেশী দেখা যায়।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.