শাহজাদপুরে বাঁধ ভেঙ্গে গো-চারণ ভূমি প্লাবিত; কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট


চলনবিলে ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা মহাবিপাকে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী থেকে তাড়াশের নিমাইচড়া পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকার ১ হাজার ২৫০ মিটার রিং বাঁধটি অবশেষে বন্যার পানির প্রবল চাপে ভেঙ্গে গেছে। ফলে বৃহত্তর চলনবিলাঞ্চলের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এসব অঞ্চলের হাজার হাজার গো-খামারে (বাথান) লালন পালন করা প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে খামারিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরসহ চলনবিলাঞ্চলের খামারিরা তাদের গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় রোপিত উন্নতজাতের গো-খাদ্য ( কাঁচা ঘাস) ইতিমধ্যেই আকষ্মিক বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে গো-খাদ্য কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃস্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার আকষ্মিক বন্যার পানিতে বড়াল নদী তীরবর্তী রাউতারা-নিমাইচড়া চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাউতারা অংশে ভেঙ্গে গেল মুহুর্তেই এ অঞ্চলের বিস্তৃত গো-চারণ ভূমি বানের পানিতে তলিয়ে যায়। এসব স্থানে প্রতিপালন করা গবাদীপশু শ্যালো নৌকার মাধ্যমে পরিবহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে খামারিরা। কাঁচা ঘাস বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলনবিল অঞ্চলে গো-খাদ্য ব্যবসায়ীরা গো-খাদ্য খড় নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানের খামারীদের সরবরাহ করছে।

স্থানীয় গো-খামারিরা জানান, ‘হঠাৎ করেই রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় রাউতারা-নিমাইচড়া রিং বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়াসহ চলনবিলাঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশু নিয়ে গো-খামারীরা চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় কালাতিপাত করছে। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের গো-খামারিরা তাদের গবাদীপশুকে নিরাপদ সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রায় দেড় যুগ ধরে ফি বছরই ফসল রক্ষার নামে এই বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে অস্থায়ীভাবে এ বাঁধ নিমার্ণ ব্যয় ৯৯ লাখ টাকা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যয় বেড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার হরিলুট হচ্ছে। স্থানীয়রা এ হরিলুটের সাথে সংশ্লিষ্টদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্থানীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ কাজে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের ১৪ উপজেলার ফসল রক্ষার্থে গত ২০ বছর ধরে অস্থায়ী ভাবে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও করা হয়েছে। এ বাধেঁর মেয়াদ কাল ধরা হয়েছিল ৩১ মে পর্যন্ত। এ অঞ্চলের জমি থেকে সব ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলেও কৃষকের কোন ক্ষতি হয়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, এ বছর বাঁধটির নির্মাণ কাজ অনেক দূর্বল হলেও আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় তেমন কোন বড় ধরণের ফসলহানী হয়নি। বেশ কিছুদিন আগেই এ এলাকার সব ধান কাটা হয়ে গেছে।