চলনবিলাঞ্চলে চারোর কদর বেড়েছে

শামছুর রহমান শিশির : শাহজাদপুরসহ চলনবিলের উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার নদীনালা, খাল-বিল ও জলাশয় থেকে পানি হ্রাসের সাথে সাথে আবহমান গ্রাম বাংলায় প্রচলিত দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরি মাছ ধরার চারোর কদর বেড়েছে। এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের হাটবাজারে মাছ ধরার উপকরণ চাঁরো বিক্রির হারও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলনবিলের নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে চাঁই তৈরিকে বেছে নিয়েছে।
জানা গেছে, বাঁশ ও তালগাছের কাণ্ডের আঁশ, কান্তি দিয়ে তৈরি চাঁরো বর্ষাকালের শুরুতে ও শেষ দিকে বিভিন্ন জলাশয়ে ছোট মাছ ধরার কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়। এ অঞ্চলের অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বছরের এ মৌসুমে মাছ ধরার বিভিন্ন ধরন ও আকারের চারো তৈরি করে থাকেন। চলনবিলাঞ্চলের একেক এলাকায় চাঁরো একেক নামে পরিচিত। স্থানীয় ভাষায় চারোকে ধন্দি, বানা, খাদন, খালই, বিত্তি ও ভাইর নামে এলাকাবাসী অবিহিত করেন । নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবরিষা, চলনালী, শিধুলি, চরকাদহ, উদবারিয়া, পোয়ালশুড়া, সোনাবাজু, সাবগাড়ী, যোগেন্দ্রনগর; বড়াইগ্রাম উপজেলার মাড়িয়া, শ্রীরামপুর; সিংড়া উপজেলার কালিনগর, বিলদহর, কৃষ্ণনগর, নুরপুর; পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, হান্ডিয়ালসহ সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন বিলাঞ্চল ও খালে, বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রাম, নওগাঁর রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার নিম্ন আয়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অনেকে শখের বশে অাবার অনেকে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বর্তমানে চাঁরো তৈরি ও বিক্রি করে এবং মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন । শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমান বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও চলনবিলাঞ্চলের নীচু এলাকার খাল, বিল, ডোবা, পুকুরসহ জলাশয়ের বদ্ধ পানিতে মাছ ধরতে চারোর বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে।