ক্ষণে ক্ষণে কথা বদল করছেন স্বাস্থ্য ডিজি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার বহুদিন পর ফিরে বললেন, করোনা আরো ২/৩ বছর থাকবে।

এরপর আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী যখন এর তীব্র সমালোচনা করলেন। তখন তিনি আবার অনলাইনে এসে বললেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি এভাবে বলেননি। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বলেছেন।এরপর তার এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার আগের বক্তব্য প্রকাশ করা হলো। তখন তিনি পিছু হটলেন। তার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তিনি একটি প্রেস ব্রিফ্রিং দিলেন। সেখানে বলা হলো, `স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) বক্তব্যের স্ক্রিপটি তৈরি করতে করতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি সেটি ভালো করে পরীক্ষা করার সুযোগ পাননি। স্ক্রিপট পাঠ করে অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে, ওই বক্তব্যটিতে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রেরিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।`

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন দায়িত্ববান কর্মকর্তা। প্রথম কথা হলো তাকে কেন এ ধরণের স্পর্শকাতর বক্তব্য লিখে দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করা প্রতিষ্ঠান। কাজেই তাকেই যদি লিখে দিতে হয়, তা্হলে তিনি কি করেন?

দ্বিতীয়ত, তাড়াহুরা করে তিনি এ ধরণের বক্তব্য দেবেন কেন? কি এমন জরুরি ছিলো যে তার এই বক্তব্য দিতে হবে? তিনি যখন এই বক্তব্যটা পড়লেন তখন তিনি কি বধির ছিলেন, তিনি কি এই কথার মানে বুঝেন না? নাকি তিনি শুধুমাত্র একজন পাঠক। সংবাদ পাঠকের মতো কিছুই জানেন না কি লেখা! যখন পড়েছেন তখন কি এর মর্মবানী উপলব্ধি করতে পারেননি? এবং ২৪ ঘন্টা চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন, তখন কেন তার একের পর এক তালগোল পাকানো বক্তব্য দিতে হবে?

এটাই হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিস্থিতি। যেখানে করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, ভ্যাকসিন, বেশি মানুষের টেস্ট, টেস্টের রেজাল্ট কিভাবে দ্রুত দেওয়া যায় সেসব নিয়ে না ভেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আছেন এক ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে। একের পর এক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে এই পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক মো. জাহাঙ্গির কবির স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, `গতকাল (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক গভীরভাবে দুঃখিত।`

প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের যে বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে গতকাল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছিল, `বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সারা বিশ্বে এক, দুই বা তিন মাসেও শেষ হচ্ছে না। একটি সফল টিকা আবিষ্কার এবং পর্যাপ্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সফল প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দেশগুলোতে করোনার অস্তিত্ব থাকবে। ফলে এটি এক বছরের বেশি, এমনকি দুই বা তিন বছর বা এর বেশি সময়ও স্থায়ী হতে পারে। যদিও আমরা মনে করি, সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পাবে।`

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.