ক্বলবী এলেম ব্যাতিত বিশুদ্ধভাবে আল্লাহপাকের ইবাদত,দাসত্ব সম্ভব নয়।–পীর ছাহেব শাহজাদপুরী

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউপি কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তরিকায়ে খাছ মোজাদ্দেদীয়ার ৩৬তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই মাহফিলে প্রধান মেহমানের বয়ানে খানকায়ে খাস মোজাদ্দেদীয়ার পরিচালক আলহাজ হযরত মাওলানা আফসার আলী খাস মোজাদ্দেদী পীর ছাহেব শাহজাদপুরী বলেন, ‘আল্লাহপাক ঘোষনা করেছেন,‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান গ্রহন করেছে এবং যাদেরকে এলেম দান করা হয়েছে,তাদেরকে আল্লাহ উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবেন;আর তোমাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।’ যে এলেম অর্জন করিলে ইহকাল ও পরকালে কোন কামিয়াবী নাই সে এলেম পরিত্যাজ্য(যাদুবিদ্যা)। ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবীর জন্য এলেম অর্জন করা প্রত্যেক মোমিনী মুসলমানদের গুরুদায়িত্ব। আর এলেম অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহু সুবহানু তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ইবাদৎ করতে হলে আতœার বিশুদ্ধ অন্তকরন অপরিহার্য। আর যদি মুসলমান বিশুদ্ধ অন্তকরন করতে চায় তাহলে ওই মুসলমানকে দুই ধরনের এলেম অর্জন করতে হবে। দুই প্রকার এলেম হলো যবানী এলেম ও ক্বলবী এলেম । আর এলেম ক্বলব অর্জনের মাধ্যমে অন্তরের কু-স্বভাব চেনা যায় এবং ভাল স্বভাবে স্বভাবান্বিত হওয়ার মাধ্যমে খাঁটি মোমেনদার বান্দা হয়ে আল্লাহপাঁকের দাসত্বে একনিষ্ঠ ইবাদৎ বন্দেগী করা যায়। এজন্য এলেম তাসাউফ অর্জন করা নারী পুরুষ প্রত্যেকের জন্য ফরজে আইন,দুররুল মোকতার,ফতুয়ায়ে শামী ও হাশীয়ার তাহতাবী। এ দুই প্রকার এলেমের মধ্যে ক্বলবী এলেম হলো উপকারী এলেম । কেননা ক্বলবী এলেম ব্যাতিত বিশুদ্ধভাবে আল্লাহপাকের দাসত্ব সম্ভব হয় না।এ সময় তিনি আরও বলেন,‘ইমাম বুখারী (রহঃ) তার কিতাবে হাদিস বর্ণনা করেন,প্রত্যেক মানুষের বাম স্তনের দুই আঙ্গুল নীচে এক টুকরা মাংসপিন্ড রয়েছে।এই মাংসপিন্ড যার পবিত্র তার সারা দেহ পবিত্র।আর এই মাংসপিন্ড যার অপবিত্র তার তামাম শরীর অপবিত্র। অপবিত্র দেহ নিয়ে পবিত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদৎ করে সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই ক্বলব মানুষের দেহের রাজ সিংহাসন। এখানে আল্লাহর স্বরণ থাকে নতুবা শয়তান বসবাস করে। যেসব মুসলমানগনের ক্বলবে শয়তান বসবাস করে তাদের কার্যকলাপ সব শয়তানী স্বভাবের হয়। তখন ওই বান্দা অশান্তির অনলে পুরতে থাকে। তার মধ্যে খারাপ ও ভালমন্দের ভেদাভেদ জ্ঞান থাকে না। সে তখন শয়তানে পরিণত হয়।’পীর ছাহেব শাহজাদপুরী আরও বলেন,‘এ সমস্ত ইবাদৎ বিধ্বংসী বস্তু থেকে যদি কেহ পরিত্রাণ পেতে চায় তাহলে তাকে আল্লাহর অলীদের কাছে গিয়ে বায়াত গ্রহন করে ক্বলবী এলেম সাধনায় আতœনিয়োগ করতে হবে।কেননা এ ব্যাপারে মহান আল্লাহপাক নিজেই বলেছেন,‘হে ঈমানদার বান্দারা,তোমরা আমাকে ভয় করো এবং সাদিকিন বান্দাদের সাথী হও’।যারা ক্বলবে আল্লাহর জিকির প্রতিষ্ঠা করে মহান আল্লাহর ইসফে বিগলিত করে দেয় তারাই প্রকৃত ইনসাফে কামেল। এমন একজন মেমেনের মূল্য সমস্ত পৃথিবীর চেয়ে বেশী,যদিও সে কালো,ফর্সা,ধনী,গরিব এমনকি মাঠের কৃষকের ক্বলবে যদি ইসফে ইলাহী থাকে তার দাম এ তামাম পৃথিবীর চাইতেও অনেকগুন বেশী। হে মুসলমানগন নবীর উম্মাতেরা তোমরা ক্বলবে সাফারী তথা আল্লাহর দাসত্বের দিকে ফিরে এসো।এই দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী। মৃত্যুর পরই আমরা প্রকৃত মানুষ হিসাবে পরিগনিত হবো।’ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু তায়ালা’র খাস বান্দা ও নবী করীম (সাঃ) এর খাস উম্মত হবার যেন তৌফিক দান করেন সেজন্য তিনি বিশেষ দো’য়া করেন । পীর ছাহেব শাহজাদপুরী তার বয়ানে আরও বলেন, ‘এলমে যাহের শিক্ষার জন্য যেমন একজন শিক্ষকের প্রয়োজন তেমনি ক্বলবী এলেম শিক্ষার জন্য একজন যোগ্য মুরশিদের প্রয়োজন।যোগ্য মুরশিদ না হলে আহলে ত্বরিকত মকছুদ মঞ্জিলে পৌছাবে না। অনেকে এরূপ বলে থাকেন,শরীয়ত মোতাবেক আমল করলেই যথেষ্ট,মুরিদ বা বায়াত হবার দরকার কি? এমন কথা যারা বলে তারা শরীয়ত কি তা বুঝতে পারে নাই। বিশেষ করে বর্তমান যমানায় ইবাদৎ বিশুদ্ধ করার জন্য প্রকৃত এলমে তাসাউফের বিকল্প নেই।এ পৃথিবীতে মানুষের জন্ম হয় দুইবার।একবার পিতামাতার ঔরশে,আরেকবার জন্ম হয় অলী আল্লাহদের দরবারে ক্বলব নিয়ে।’ ক্বলবের ব্যাপারে তিনি আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,‘কোন মানুষ ওলীদের দরবারে গিয়ে ক্বলব নিয়ে যখন সাধনা করবে,ক্রমাগতভাবে ওই মানুষটি পরিপূর্ণভাবে আশরাফুল মাখলুকাতে পরিণত হবে।’
খানকায়ে খাস মোজাদ্দেদী’র পরিচালক হযরত মাওলানা আলহাজ আফসার আলী খাস মোজাদ্দেদী পীর ছাহেব শাহজাদপুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৩৬ তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব মাহফিলে কোরআন ও হাদিসের আলোকে অন্যান্যদের মধ্যে বয়ান করেন,আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মো: ইছহাক আহমেদ-সাতক্ষীরা, হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম, হুজুরের সাহেবজাদা মো: রাশিদুল হাসান খাছ মোজাদ্দেদীসহ ওলামায়ে কেরামগণ। উক্ত মাহফিলে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান নারী পুরুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। পরিশেষে পীর ছাহেব শাহজাদপুরী দেশবাসী ও সমগ্র মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাত শেষে নেওয়াজ বিতরণ করা হয় ।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.