কে পাচ্ছেন ঢাকা৫- এর মনোনয়ন?

ঢাকা-৫ আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে অনেক আগেই। করোনার কারণে শুরু হচ্ছে না উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা। তবে সম্ভব্য প্রার্থীরা থেমে নেই। নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি পোস্টার বিলবোর্ডে নিজেদের জানান দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা বেশ সক্রিয়। করোনাকালে মানুষের পাশে দাড়িয়ে নিজেদের প্রার্থীতা হওয়ার খবর জানান দিচ্ছেন অনেকে।

আসনটি হাবিবুর রহমান মোল্লার বাধা ছিলো। চারবার তিনি এই আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তার আসনের হাল কে ধরবে? ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত ঢাকা-৫ (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) গণমানুষের নেতা ছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বলেছেন, হাবিবুর রহমান মোল্লা ছিলেন এলাকার গণমানুষের নেতা। প্রতিটি পরিবারের খবর তিনি রাখতেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ছিলেন।’ সেই মোল্লার বিকল্প কে? পরিবার থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া হবে নাকি নতুন মুখ আসবে? এই আলোচনাই এখন সর্বত্র।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব ড. মো. আওলাদ হোসেন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও শহীদ শেখ কামালের স্ত্রী শহীদ সুলতানা কামালের ভাতিজি মেহরীন মোস্তফা দিশিসহ এক ডজন প্রার্থী। এছাড়াও জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ১৪ দলের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এখানে অনেক যোগ্য লোক আছেন। আবার এক আওয়ামী লীগেও ব্যাপক গ্রুপিং আছে। এই গ্রুপিং এর কারণে মোল্লা পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদও তালিকার প্রথম দিকেই আছেন। ড. মো. আওলাদ হোসেনও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। বিএনপি- জামাত আমলে নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থও হয়েছিলেন। তবে এসব কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা। সবকিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত আসনে আগামী দিনের সরকার বিরোধীদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী করা হবে।

এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির সাবেক সভাপতি আব্দুস সবুর আসুদ। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত।  তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নবীউল্লাহ নবী। জাসদের সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামও আছেন এ তালিকায়।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.