বহু অপকর্মের নায়ক বাবুলের হাত থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা


কে এই বাবুল ?

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে মোঃ আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : কে এই বাবুল? শাহজাদপুরের লোকের মুখে মুখে এই প্রশ্ন। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ডাকাতি করা, চুরি, ইভটিজিং, জুয়া খেলা, সুদের কারবার, নারীদের দিয়ে অবৈধ দেহ ব্যবসা করানো, মামলা তদবিরের নামে প্রতারণা করে টাকা আদায়, ইসলামী শরিয়াহ না মেনে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বহুবিবাহ করা, নিরীহ ব্যক্তিদের নানা কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, তার পালিত যুবতী মেয়েদের দিয়ে কৌশলে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে তাদের আটক করে মোটা অংকের অর্থ আদায়সহ শাহজাদপুরে বছরের পর বছর সীমাহীন অপকর্ম করে চলেছে এই বাবুল।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের মাদলা গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে নূরাল ফারাজীর ছেলে এই বাবুল আকতার (৪০)। শুরুতে সে ছিলো শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের গাঁইট বহনকারী কুলি শ্রমিক। গাঁইট বহন করা টাকা উপার্জনই ছিলো তার জীবন জীবীকার একমাত্র পথ। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সে এক পর্যায়ে দৌলদিয়া নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত শুরু করে। এ সুবাদে বিভিন্ন যৌনকর্মীদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ওই সখ্যতার সূত্র ধরে বিভিন্ন যৌনকর্মীদের চুক্তির ভিত্তিতে এলাকায় নিয়ে এসে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রেখে ও নিজেও বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দেহব্যবসা করাতো। অসংখ্যবার জুয়া খেলার অপরাধে শাহজাদপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে এই বাবুল। গত ২০১২ সালে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের বাস ডাকাতি করার অপরাধে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে ওই বাবুল। গত ২০১৪ সালে ইভটিজিংয়ের অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে বাবুলের জেল হয়। সে সাজাও খেটেছে সে। গত ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা সলঙ্গা এলাকা থেকে বাবুলকে হেরোইন, ইয়াবা, মোটরসাইকেলসহ আটক করে সলঙ্গা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় বাবুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা রুজ্জু হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পরিচয়ে এই প্রতারক বাবুল এলাকার সাধারণ মানুষকে নানা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে থাকে। নিজের হেফাজতে থাকা মাদকদ্রব্য কৌশলে কারও বাড়ি বা দোকানে বা অন্যের হেফাজতে নিজ কৌশলে রেখে এসে পরবর্তীতে তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এই বাবুল মোটা টাকা আদায় করেছে-এমন বহু নজির এলাকায় রয়েছে। এলাকাবাসী এই বহুমূখী প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।