অপরাধঅর্থ-বাণিজ্যদিনের বিশেষ নিউজ

কালোবাজারে ছয় লাখ লিটার ডিজেল বিক্রি করে পালালো ‘ওটি-তটিন’

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার ও শাহজাদপাুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিপিসি’র বগুড়া ডিপো থেকে বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা দ্রুত ঘটানাস্থলে পৌঁছাই, কিন্তু তার আগেই জাহাজটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ফলে জাহাজটিকে আর আটক করা সম্ভব হয়নি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঘাবাড়ি ঘাট উত্তরাঞ্চলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দর। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ ও বিপণনের জন্য এখানে গড়ে উঠেছে রিভারাইন ওয়েল ডিপো। এই নৌ-বন্দরে একটি ঘাটের বৈধ কাগজপত্রহীন ওটি-তটিনিতে বহন করে নিয়ে আসা ছয় লাখ লিটার ডিজেল, প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে চলে গেলো নিমিষেই। ওই জ্বালানী তেল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সরকারি মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করা ওই ডিজেলের বাজার মূল্যে প্রায় পৌণে চার কোটি টাকা।
প্রতক্ষদশী ও পুলিশ জানায়, বাঘাবাড়ি নৌ-বন্ধরের ফানের্স ওয়েল খালাসের ঘাটের পাশে চট্রগ্রাম থেকে আসা ওটি-তটিনি নামের একটি ডিজেলবাহী জাহাজ ৮ জুলাই সকালে নোঙ্গর করে। তারা ওই দিন থেকে বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত প্লাষ্টিকের পাইপ দিয়ে আনলোড করে। শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি ঘাটের একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী কালোবাজারী চক্র অবৈধভাবে আসা ওই তেল উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিভিন্ন তেল ব্যবসায়ীর কাছে ট্যাংকলরির মাধ্যমে বিক্রি করে। খরব পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার ও ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের আগমনের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে জাহাজটি দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে পুলিশ ঘটানাস্থলে পৌঁছে জাহাজটিকে আটক করতে ব্যার্থ হয়।

বিপিসি’র বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর ইনচার্জ আব্দুল মজিদ এ ব্যাপারে জানান, বিষয়টি জানতে পেরে বগুড়া আঞ্চলিক অফিসকে অবহিত করা হয়। সেখান থেকে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তিনি আরও বলেন, এ দিন রাতেই বগুড়া অফিসের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির এজিএম শেখ আল মামুন, মোঃ মিয়াজি ও আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরের ফানের্স অয়েল আনলোড ঘাটে দায়িত্বে নিয়োজিত লংকা বাংলা পাওয়ার প্লান্টের প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ ও নিরাপত্তা কর্মী তাজিম উদ্দিন জানান, তাদের বাধা উপেক্ষা করে ৮ জুলাই সকালে চট্রগ্রামে থেকে ওটি-তটিনি নামের ছয় লাখ লিটার ডিজেলবাহী জাহাজটি অবৈধভাবে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ফার্নেস অয়েল খালাসের ঘাটের পাশে নোঙ্গর করে। প্লাষ্টিকের পাইপ দিয়ে ট্যাংকলরিতে আনলোড করে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ শুরু করে। বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে নাটোর লংকা-বাংলা পাওয়ার প্লান্টের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। তারপরেও বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত তারা এ তেল আনলোড শেষে এ স্থান ত্যাগ করে। পরে পুলিশ ও অয়েল ডিপোর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। তারা আরও জানান, এখানে সাড়ে চার লাখ লিটার ডিজেল আনলোড করা হয়। বাকিটা অন্যত্র করা হয়। তবে এ অবৈধ কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত ও এ তেল কোন কোম্পানির ? তা তারা বলতে পারেনি।
এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদুর রহমান ও লেবার হ্যান্ডেলিং এজেন্ট আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।’
একই বিষয়ে বিপিসির বগুড়া অফিসের ওই ৩ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, বাঘাাবাড়ি মেঘনা অয়েল ডিপোর সহকারী ব্যবস্থঅপক (অপারেশন) আবুল হোসেন মুখ খোলেন নি।
একটি সূত্র জানায়, এ অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের নাম কেউ প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও জাহাজ শ্রমিক বলেন, উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত এর্ব ওটি- তটিনি জাহাজের কর্মকর্তা মালিক ও শ্রমিককে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে কারা জড়িত তা বের হয়ে আসবে। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: