করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকদের সম্মান জানিয়ে অলিম্পিকের কাউন্টডাউন শুরু

ছবিঃ ইন্টারনেট

সব কিছু ঠিক থাকলে এ মাসেই টোকিও অলিম্পিকের পর্দা উঠতো। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহান প্রদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ায় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ৩২তম আসর এক বছর পিছিয়ে যায়। আর তাই বৃহস্পতিবার থেকে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকদের সম্মান জানিয়ে।

বৃহস্পতিবার নীল আলোয় রাঙানো হয় ক্ষণগণনার ভেন্যু জাপানের অ্যারিয়েক অ্যারেনা। অথচ মহামারী না এলে এইদিনেই শুরু হওয়ার কথা ছিলো গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ৩২তম আসর।

টোকিও থেকে এখনও পুরোপুরি সরে যায়নি করোনা। তারপরও নিয়ন আলোর ছড়াছড়ি। দালানে আলোকসজ্জায় প্রাধান্য নীল রঙয়ের। উদ্দেশ্য কোভিড যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আর উপলক্ষ ৩২তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ৩৬৫ দিন উল্টো গণনা আরম্ভের।

এরআগে ২০১৩ সালেই ভাগ্যের খেলায় জিতে আয়োজক নির্ধারিত হয়েছিল জাপান। এরার থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছিলো জেওসি। ভেন্যু তৈরি থেকে শুরু করে, অ্যাথলিটদের আবাসনে নতুনত্ব, পর্যটকদের জন্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি; কি করেনি জাপান সরকার। পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত ধাতু দিয়ে পদক তৈরি করে কুড়িয়েছে পরিবেশবাদীদের প্রশংসা।

২০১৭-১৮ সালে হঠাৎ দাবদাহে অস্থির গোটা টোকিও। শঙ্কা জেগেছিলো এমনটা চললে অসুস্থ হয়ে পড়বেন লড়তে আসা অ্যাথলিটরা। বাতাসে পানি ছিটিয়ে, স্টেডিয়ামে এয়ার কন্ডিশন লাগিয়ে সেই সমস্যার সমাধানও খুঁজেছিলো জাপান। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে চীনে প্রাণঘাতী কোভিড নাইন্টিনের ছড়িয়ে পড়ায় একটু নড়েচড়ে বসে জাপান। যদিও তখনো মহামারী হিসেবে ঘোষণা আসেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে। তারপরও সুইজারল্যান্ডে বসে আশ্বাসের বাণী শোনালেন আইওসি প্রেসিডেন্ট থমাস বাখ। বললেন নির্ধারিত সময়েই হবে অলিম্পিক।

২৪ মার্চ। কাউন্ট ডাউনের ঘড়িতে বাকি তখন ১২২ দিন। ততদিনে করোনা তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড গোটা ইউরোপ। জাপানেও ছড়াতে শুরু করেছে অণুজীবটি। অলিম্পিক কমিটিকে জাপান সরকারের পক্ষে অনুরোধ করলেন খোদ শিনজো অ্যাবে। বিষয়টি আমলে নেয়া ছাড়া উপায়ও ছিলো না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সামনে। পরদিনেই থমাস বাখ জানালেন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় ১ বছর পেছানো হচ্ছে ২০২০ টোকিও অলিম্পিক। সে হিসেবে ২৩ জুলাই ২০২১ শুরু হবে টোকিও অলিম্পিক।