‘করোনা কাউকেই ক্ষমা করে না’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি। এটি প্রমাণ করেছে যে, করোনা কাউকেই ক্ষমা করে না। করোনা ধনী-দরিদ্র বা বয়সের ভেদ দেখে না। করোনা একটি সাম্যবাদী ভাইরাস। যারাই স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করবে, যাদের মধ্যে শৃঙ্খলা এবং সচেতনতার অভাব থাকবে, করোনা তাদেরকেই আক্রান্ত করবে। তিনি বলেন যে, স্বাস্থ্যবিধি না মানাতেই বাংলাদেশে বিপদে তারুণ্য। তরুণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলা ইনসাইডারের করোনা নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণের যে চিত্র, তার সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্র একটু ভিন্ন। আমরা অন্যান্য দেশে দেখেছি যে, বয়স্ক মানুষ, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদী রোগশোক যেমন- লিভার, ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ইত্যাদিতে ভুগছেন, তারাই বেশি করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুবরণ করছেন। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা দেখছি যে, তরুণদের আক্রান্তের হার অনেক বেশি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের সমাজটা তরুণ নির্ভর। এখানে তরুণের সংখ্যা বেশি। তাছাড়া বয়স্করা যেহেতু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন, তাই তারা অনেক সতর্ক থাকেন এবং তারা ঘর থেকে বের হন না।

তিনি বলেন, একটি পরিবারে বয়স্ক এবং তরুণ থাকলেও তরুণদেরকেই বাজার-হাটসহ বাইরের সব কাজে যেতে হয়। জীবন এবং জীবিকার তাগিদে তাদের বাইরে যেতে হচ্ছে। এ কারণে তারা আক্রান্ত বেশি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তরুণরা ঘর থেকে বেরুচ্ছে এবং সেখানে তারা যদি সতর্কতা অবলম্বন না করে, স্বাস্থ্যবিধি না মানে, তাহলে তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, অনেক তরুণ ধূমপায়ী এবং মদ্যপানে আসক্ত। এর ফলে তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ জন্য তিনি তরুণদেরকে অবিলম্বে ধূমপান পরিহার এবং মদ্যপান ত্যাগের অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন যে, শুধুমাত্র করোনা নয়, শারীরিক সুস্থতার জন্য এই দুটি কুঅভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরী।

ডা. আব্দুল্লাহ মনে করেন যে, বাংলাদেশে তরুণদের আক্রান্তের হার যে বেশি তা থেকে আমাদের একটি শিক্ষা নিতে হবে, তা হলো আমরা যেই হই না কেন, আমাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আমাদেরকে বাইরে অবশ্য অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বারবার সাবানপানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। আমরা যদি গণপরিবহনে চড়ি তাহলে সেখানে আমাদেরকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানাই হলো করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকার একমাত্র উপায়। আপনি তরুণ হলেই যে করোনায় আক্রান্ত হবেন না বা তরুণ হলেই যে করোনাযুদ্ধে জয়ী হবেন- এমন সম্ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করেছে করোনা। আর এজন্যেই ডা. এবিএম আবদুল্লাহ তরুণ সমাজকে আহ্বান করেন যে, আপনার সুশৃঙ্খল এবং সচেতন জীবনের উপরেই নির্ভর করছে আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ। আপনি একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং আপনার উপরে অনেকে নির্ভরশীল। তাই আপনি যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানেন এবং সচেতন না থাকেন তাহলে আপনার কারণে আপনার গোটা পরিবার হয়তো বিপদে পড়বে। সেই বিপদ শুধু স্বাস্থ্যগত বিপদ নয়, সেই বিপদ অর্থনৈতিক বিপদও বটে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.