‘করোনা আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ছুটতে হবে না’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ছুটতে হবে না। ৮০ ভাগ রোগীর করোনা চিকিৎসা বাসাতেই সম্ভব। তাই আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করার চেয়ে আক্রান্ত হলে বাসায় চিকিৎসা নিন। বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত আলাপচারিতায় আজ এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের ৮০ ভাগই বাসায় চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যখন আপনি করোনা পজিটিভ হবেন তখন প্যারাসিটামল, ভিটামিন সি, অ্যান্টি হিস্টামিন খাবেন এবং মনোবল চাঙা রাখবেন। নিয়মিত শরীর চর্চা করবেন, তাহলে আস্তে আস্তে আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তবে এই সময়ে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার পরামর্শ দেন এবিএম আব্দুল্লাহ। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে যেকোনো একজন ডাক্তারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কথা বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই চিকিৎসক বলেন, যখনই আপনি করোনায় আক্রান্ত হবেন, তখন বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি একজন চিকিৎসকের সাথে অবশ্যই সংযুক্ত থাকবেন। আপনার শারীরিক অবস্থার কথা তাকে অবহিত করবেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, কতগুলো উপসর্গ দেখা দিলে আপনাকে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে এবং হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এই উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, প্রচণ্ড বমি, কোথাও রক্ত জমাট বাধা এবং অন্য কোনো জটিলতা। এ ধরনের উপসর্গ যদি আপনি পান, তাহলে আর অপেক্ষা করবেন না, হাসপাতালে চলে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, এখন বাসায় অক্সিমিটার রাখা যেতে পারে। করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি অক্সিমিটারে তার অক্সিজেনের মাত্রা নিরুপণ করতে পারেন। ৯৩ বা ৯৪ এর নীচে যদি অক্সিজেনের মাত্রা চলে যায়, তখনই হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার সাথে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো মনোবল চাঙা রাখা। আপনার মনোবল চাঙা রাখবেন। মনোবল চাঙা রেখে মানসিক শক্তি রেখে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা নেবেন। করোনা চিকিৎসায় মাত্র ২০ ভাগ মানুষের জটিলতা দেখা দেয়। আর ৫ ভাগ মানুষের অবস্থা গুরুতর জটিল হয়। কাজেই আতঙ্কিত হবেন না, উদ্বিগ্ন হবেন না।

তিনি বলেন, করোনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় হলো নিজের সুরক্ষা এবং এই সুরক্ষার জন্য আপনি অযথা ঘর থেকে বেরুবেন না। ঘর থেকে বেরুলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন। আপনি যদি গণপরিবহন ব্যবহার করেন তাহলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। কাজের সময় স্বাস্থ্য বিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আপনি কাজ করবেন। মনে রাখবেন আপনার সচেতনতাই আপনার সুস্থতার চাবিকাঠী।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.